fbpx
 

ইসহাক সরকার ও ছাত্রদলের কাউন্সিল

Pub: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২২, ২০১৯ ১০:১৬ অপরাহ্ণ   |   Upd: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২২, ২০১৯ ১০:১৮ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ইসহাক আলী সরকার পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী বংশালের হাজি আবদুল্লাহ সরকার লেনের সম্ভান্ত মুসলিম পরিবার, সরকার বাড়ির সন্তান। পারিবারিক ভাবেই তারা বিএনপির রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট। পুরান ঢাকার কবি নজরুল কলেজ থেকেই ইসহাক সরকারের ছাত্র রাজনীতির হাতেখড়ি। ছাত্রজীবনের প্রথম থেকেই জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে জড়িত হয়ে গিয়েছিল, কলেজের ক্যাম্পাসে পরিচিত হয়ে উঠেছিল ‘স্লোগান বয়’ হিসেবে। ধীরে ধীরে নিজেকে তৈরি করেছিল একজন তুখোড় সংগঠক হিসেবে, তৎকালীন সময় এলাকার ছাত্র রাজনীতির বেহাল অবস্থা দেখে কলেজ কেন্দ্রিক রাজনীতিতে সময় না দিয়ে নিজ এলাকার ছাত্র রাজনীতির হাল ধরে ছিলো, নিজ সাংগঠনিক দক্ষতায় হয়েছিল বৃহত্তর কোতোয়ালি থানা ছাত্রদলের সভাপতি।
১৯৯৬-২০০১ পর্যন্ত হাসিনা বিরোধী আন্দোলনে স্থানীয় বিএনপির সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাজপথে থেকে প্রতিটি কর্মসূচি বাস্তবায়নে সম্মুখভাগের একজন রণযোদ্ধা হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছিল, যার কারণে তৎকালীন আওয়ামীগ সরকার তার নামে করেছিল শতাধিক মামলা, রাজপথে আন্দোলনে থেকে কয়েকবার গ্রেফতার হয়ে বিভিন্ন মেয়াদে কারাবরণ করেছে, থেকেছে অনেক প্রতিষ্ঠিত জাতীয় নেতা ও সাবেক ছাত্রনেতাদের সাথে, সে সময় তার আচার-ব্যবহার, শিষ্টাচার ও রাজনৈতিক চিন্তাচেতনা মুগ্ধ করেছিলো তাদেরও। পুরাতন ঢাকার আরেক মৃত্যুঞ্জয়ী ছাত্রনেতা মরহুম নাসির উদ্দিন আহম্মেদ পিন্টুর হাতে গড়া ইসহাক সরকার হয়ে উঠেছিল তাঁর যোগ্য উত্তরসূরী।
ইসহাক সরকারের কারণে পরিবারের সদস্যদেরও হতে হয়েছে নির্যাতিত কিন্তু শত প্রতিকূলতা সত্বেও ‘ইসহাক সরকার’ ছিল অবিচল এবং ছাত্রদলের রাজনীতিকে করেছিল তার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
সময়ের পরিক্রমায় ইসহাক সরকার তার সাংগঠনিক দক্ষতায় ও নেতৃত্বগুনে থানা রাজনীতি থেকে পদায়িত হয়েছিল ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে, তখনও ছাত্ররাজনীতিতে বীরদর্পে এগিয়ে যাচ্ছিলো ইসহাক সরকার, কিন্তু কোন এক অজানা কারণে শত সম্ভাবনা থাকা সত্বেও (ঢাকার স্থানীয় বলে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে) ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক হওয়ার মত যোগ্যতা থাকলেও তাকে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক করে অবমূল্যায়ন করা হয়। তৎকালীন সময়ে এটা নিয়ে প্রতিবাদ করলেও পরবর্তীতে মূল্যায়নের আশ্বাসে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে সংগঠনের স্বার্থে নিরলস দেশের বিভিন্ন জনপদে গিয়ে দলকে সুসংগঠিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে গেছে এবং দলীয় কর্মসূচি পালন করতে যেয়ে তার হাতে গড়া ৭/৮ জন ছাত্রনেতা গুমও হয়ে যায়, অনেকের হয় ক্রসফায়ারে মৃত্য, নির্যাতনের শিকার হয়ে অনেকে এখন পঙ্গুত্ব বরণ করেছে, তারপরও ইসহাকরকারকে দমানো যায়নি, মোস্ট ওয়ান্টেডের হুলিয়া মাথায় নিয়ে গ্রেফতার হওয়ার আগেও দলের প্রতিটি কর্মসূচিতে ছিল রাজপথে সরব উপস্তিতি, সেই ইসহাক সরকার আজ ৩ শতাধিক মামলায় গ্রেফতার হয়ে প্রায় ১৪ মাস যাবৎ কারাগারে আবদ্ধ, ঠিক সেই সময় ছাত্রদলের কাউন্সিল করে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ছাত্রদলকে গতিশীল ও কার্যকর করতে এই কাউন্সিল অবশ্যই সাধুবাদ প্রাপ্য কিন্তু এই কাউন্সিলের জন্য প্রার্থী যোগ্যতার কিছু শর্তের বেড়াজালে অতীতে অবমূল্যায়িত ত্যাগি ও দক্ষ সংগঠকদের এই কাউন্সিল থেকে ছেঁটে ফেলা হয়েছে, যার স্বীকার বর্তমান ছাত্রদলের সবচাইতে জনপ্রিয় (বিভিন্ন বিভাগীয় সমাবেশে ইসহাক সরকারের মুক্তির দাবীতে নেতা-কর্মীদের শোডাউনই যার প্রমান) ও ত্যাগী এবং রাজপথের সাহসী ছাত্রনেতা পুরান ঢাকার কৃতি সন্তান ইসহাক সরকার। আড়ালে আবডালে অনেকেই বলে থাকেন ঢাকার স্থানীয় এবং সিন্ডিকেটের অপছন্দের কারণে #ইসহাকসরকারকে বাদ দিতেই এই সিদ্ধান্ত।


যেহেতু কাউন্সিলের মাধ্যমে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের প্রত্যক্ষ ভোটেই যখন নেতৃত্ব নির্বাচিত হবে তখন অন্তত শীর্ষ পদে এইসব নিয়ম শিথিল করে ইসহাক সরকার সহ ত্যাগী ও দক্ষ সংগঠকদের এই কাউন্সিলের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ দেয়া যেত, নেতা-কর্মীরাই তাদের নেতা নির্বাচন করতো। সাধারণ নেতাকর্মীরা না চাইলে তারা নির্বাচিত হতোনা, অন্তত ইসহাক সরকার সহ ত্যাগী নেতারা তাদের এতদিনের সাধনাকে মূল্যায়ন করার সুযোগ পেত এবং দলের প্রতি তাদের মনোবেদনাও কম হত এবং সেইসাথে স্বার্থকতার সাথে তাদের ছাত্র রাজনীতির সুন্দর সমাপ্তি ঘটিয়ে নতুন উদ্যমে অন্য কোন সংগঠনের (স্বেচ্ছাসেবক দল বা যুবদল বা মুলসংগঠন) রাজনীতির সাথে নিজেদের যুক্ত করে নিত।
দলের হাইকমান্ড বিষয়টি এখনো একবার ভেবে দেখতে পারেন।
সবশেষে পুরান ঢাকার কৃতি সন্তান, স্নেহধন্য বিপ্লবী ছাত্রনেতা ইসহাক_সরকারের জন্য নিরন্তর শুভকামনা এবং অবিলম্বে তার নিঃশর্ত মুক্তি কামনা করছি।

মীর এস হাসান এর ফেইস বুক থেকে


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ