fbpx
 

বিএনপির অতীত,বিএনপির ভবিষ্যৎ

Pub: শনিবার, আগস্ট ৩১, ২০১৯ ১০:১৭ অপরাহ্ণ   |   Upd: শনিবার, আগস্ট ৩১, ২০১৯ ১০:১৭ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

০১.
বাংলাদেশের জন্ম একাত্তরে,বিএনপির জন্ম আটাত্তরে। স্বাভাবিকভাবেই দল হিসাবে বিএনপির মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার সুযোগও ছিলনা।কেননা সে সময়ে বিএনপির জন্মই হয়নি।তবে মুক্তিযুদ্ধের এক নায়ক নন, মহানায়কের হাতেই গড়ে উঠেছে বিএনপি।যিনি সাড়ে সাতকোটি মানুষের মুক্তির জন্য,একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য মাত্র দুই থেকে তিনশ বাঙ্গালি সেনা সদ্স্য নিয়ে পাকিস্তানের মত সামরিক অস্ত্রে সজ্জিত এক রাষ্ট্রীয় দানবের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন।যুদ্ধের ময়দানে লড়াই করেছেন। ঘোষণা দিয়েছেন স্বাধীনতার।

একাত্তর পরবর্তী সময়ে মানুষের প্রত্যাশিত স্বপ্নের সমাধি রচিত হয়!জন্মের তিন বছরের মাথায় দেশ চলে যায় বাকশাল নামক এক রাজনৈতিক স্বৈরাচারের দখলে,সমাজতন্ত্রে অসার স্লোগানে সন্ত্রাসের পথকেই জাসদ মুক্তির পথ হিসাবে উপস্থাপন করে! রাজনীতিতে রোমান্টিসিজমের সেই স্বপ্নও পরিনত হয় মরিচিকায়।

০২.
সময়ের বাস্তবতায় এগিয়ে আসেন একাত্তরের এক মেজর জিয়া। বাংলাদেশের জনগনকে ফিরিয়ে দেন বহুদলীয় গনতন্ত্র। কবর রচিত হয় বাকশালের। ভিন্নমত ও পথের মানুষদের নিয়ে nation building এবং state building এর একজন যোগ্য প্রকৌশলীর ভুমিকায় অবতীর্ণ হন জিয়া।বিভিন্ন শ্রেনি পেশার মানুষের কাছে নব প্রতিষ্ঠিত বিএনপি আশার প্রদীপ হয়ে জ্বলে উঠে।
স্বাধীনতা পদকও একুশে পদকের প্রবর্তনের মাধ্যমে জিয়া এদেশের যোগ্য মানুষদের সম্মান করার যে প্রক্রিয়া চালু করেছিলেন তা আজো অব্যাহত আছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামকে বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার দেশি এবং আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র কৌশলে মোকাবেলা করার যে প্রক্রিয়া তিনি শুরু করেছিলেন তা শতভাগ বাস্তব সম্মতই ছিল। সময়ের বাস্তবতায় সেখানে আজ পাহাড়ি বাঙ্গালি একসাথে বসবাস করছে।শিক্ষার উন্নয়নে বিএনপির সময়ের পদক্ষেপ বিশেষ করে নারী শিক্ষায় বিরল দৃষ্টান্ত।

০৩.
ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি, মুসলীম বিশ্বের সাথে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন, দক্ষিণ এশিয়াকে নিরাপদ রাখতে সার্ক গঠনের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে বাংলাদেশকে এ অঞ্চলে সামষ্টিক নিরাপত্তা বা collective securityর অধীনে নিয়ে আসা,ভারতের সাথে স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় রেখে ভবিষ্যত নিরাপত্তার স্বার্থে চীন মুখী হওয়া, রুশ ভারতের কর্তৃত্ব ভেঙ্গে দিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সেই এবং এই সময়ে বিএনপির পলিসি সবার উপর বাংলাদেশকে তুলে ধরারই এক অব্যাহত প্রয়াস।

বিএনপির জন্ম থেকেই কোন ধরনের স্বৈরাচারের পথেই পা দেয়নি।মানুষের ভোটের অধিকার বিএনপির হাতেই নিরাপদ।বিএনপি চাইলেই খুব সহজে ২০০৭ সালের ২২ শে জানুয়ারির নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনটা করে ফেলতে পারত এবং নবম সংসদেও ক্ষমতায় অাসতে পারতো যেমনটা ৫ জানুয়ারি ও ৩০ শে ডিসেম্বরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ করেছে! কিন্তু বিএনপি সেই পথে হাটেনি। জনগণের পথই বিএনপির পথ। এরশাদের স্বৈরাচার বিরুধী আন্দোলনেও বেগম খালেদা জিয়া এবং বিএনপির ভুমিকা কিংবদন্তী তুল্য।

উদার গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হিসাবে বিএনপি সব সময়ই বাংলাদেশের স্বার্থের সাথে কোন আপোস করেনি। প্রতিবেশীদের সাথে বিএনপি বন্ধুত্বকেই কেবল স্বাগত জানিয়ে আসছে, প্রভুত্বকে নয়।

০৪.
রাষ্ট্রপরিচালনায় সাধারন মানুষের সম্ভল মাত্র একটা ভোট।সে চায় তার ভোটের অধিকার। অথচ একাত্তর পরবর্তী সময় থেকে এখন পর্যন্ত যারা খুব বেশি বেশি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলছেন তাদের হাতেই ডাকাতি হচ্ছে, লুট হচ্ছে মানুষের ভোটের অধিকার!
৫ই জানুয়ারির নির্বাচনে এদেশের জনগণ ভোটের বাক্সে ব্যালট না দিয়ে আগুন দিয়েছে!প্রতিবাদ জানিয়েছে।সারা বিশ্ববাসী প্রত্যাখ্যান করেছে সেই নির্বাচন।কিন্তুু ভারত বলল ঠিক আছে!যার বিনিময় মূল্য দিতে হল ট্রানজিট,ট্রান্সসিপমেন্ট,প্রতিরক্ষা চুক্তির মাধ্যমে।দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের আধিপত্যবাদ থেকে বাংলাদেশকে নিরাপদ রাখার একমাত্র রাষ্ট্রীয় দর্শন হচ্ছে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ।অনির্বাচিত রাজনৈতিক স্বৈরাচার থেকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের একমাত্র রাজনৈতিক স্পিরিটই হলো বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ। বিএনপি বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক উন্নয়নে অতীতে যুগান্তকারী ভূমিকা রেখেছে,রাজপথে লড়াই সংগ্রামের মধ্য দিয়েই একজন সাধারণ নারী প্রধানমন্ত্রী হয়ে সারা দুনিয়াকে দেখিয়ে দিয়েছিল বিএনপি হ্যা অামরাই পারি। সীমাবদ্ধতাও ছিল নিশ্চয়ই।

০৫.
একাত্তরের জিয়াউর রহমান, নব্বইয়ে বেগম খালেদা জিয়ার মতই চলমান মুক্তিসংগ্রামেও দেশনেত্রীর নির্দেশনায় দেশনায়কের হাতেই উড়বে বাংলদেশি জাতীয়তাবাদের বিজয় পতাকা। রাষ্ট্রের এস্টাবলিশমেন্টের বিরুদ্ধে লড়াই করছে বিএনপি,মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করছে বিএনপি,গুম করা হচ্ছে প্রিয় বিপ্লবীদের! বাংলাদেশের স্বাধীন পতাকাটা নিরাপদ রাখতেই রক্ত ও জীবন দিচ্ছে বিএনপি।

কিছু দিন যাবত হতাশায় চেয়ে যাচ্ছে চারপাশ!রাষ্ট্র জনগণের স্বপ্ন খুন করছে প্রতিদিন। মনে হচ্ছে এই বুঝি সব শেষ!বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে,তারেক রহমান নির্বাসনে,হাজার হাজার নেতাকর্মী কারাগারে!
অাসলে রাজনীতিতে এই ধরনের নির্যাতনের চিত্র ধ্বংস নয়,নতুন সৃষ্টির উপসর্গ।২৭ বছর রোবেন দ্বীপের নির্জন কারাগারে রেখেও কিন্তু নেলসন ম্যান্ডেলার স্বপ্নকে দমানো যায়নি। ফ্রান্সের এক গ্রামে নির্বাসিত থেকেও ইরানে কী করে একটি সফল বিপ্লবে নেতৃত্ব দিলেন অায়াতুল্লাহ খোমেনি?

০৬.
সম্প্রতি গার্ডিয়ান পত্রিকায় এক প্রতিবেদনে গণ অান্দোলনের ইতিহাস পর্যালোচনা করে উল্লেখ করা হয়েছে স্বৈরাচারী রাষ্ট্রের জনগণ নির্যাতনের ভয়ে নিরব থাকে,সরব থাকে মাত্র ৩.৫% এর মত প্রতিবাদী জনতা।একটি স্বৈরাচারকে হঠানোর জন্য এই ৩.৫% প্রতিবাদী জনতাই যথেষ্ট অার ৯৬.৫% জনগণ সব সময় ই নিরব দর্শকের ভুমিকা পালন করে। পরিবর্তনের জন্য এই ছোট্ট সংখ্যাটাই যথেষ্ট। বাংলাদেশে এই ছোট্ট সংখ্যাটাই বিএনপি,এটাই অামাদের অাশাবাদের জায়গা।

এখন যা চলছে এটা হলো রাজনৈতিক স্বৈরাচারের ক্ষমতায় থাকার লাস্ট স্টেজ। এর পরে পতন ছাড়া আর কিছুই নেই! বিএনপি শেষ হয়ে যায়নি,শেষ হওয়ার নয়। ঘুরে দাঁড়াবেই বিএনপি। রক্ত ও জীবন বৃথা যেতে পারে না, যায় না।

মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ