fbpx
 

তারেক রহমান:নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা

Pub: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৯ ৭:২৬ অপরাহ্ণ   |   Upd: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৯ ৭:২৬ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এক.
৩ সেপ্টেম্বর তারেক রহমানের কারামুক্তি দিবস!নিজ দেশের কারাগার থেকে মুক্তি পেলেও তিনি অাজ নির্বাসনে!তাঁর দেশ ছেড়ে সাত সমুদ্র তেরো নদীর ওপারে।কে চায় তার দেশ ছেড়ে থাকতে?

২০০৭ সালের ৭মার্চ তাঁকে গ্রেফতার করে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার।মুক্তি পান ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর।সুস্থ তারেক রহমানকে গ্রেফতার করলেও মুক্তিপান জীবন মৃত্যেুর সন্ধিক্ষণে!১২ দফায় তাঁকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল!কী ছিল তাঁর অপরাধ?একটা অস্বাভাবিক সরকারের অমানুষিক নির্যাতনে নির্বাসনে তারেক রহমান,চলছে চিকিৎসা।মুক্তি মিলেনি অাজও তাঁর প্রিয় স্বদেশের,প্রিয় জননীর,নিজের নির্বাসনের।

মুজিব-জিয়া,বেগম খালেদা জিয়া-শেখ হাসিনা পরবর্তী বাংলাদেশে এখন চলছে তৃতীয় প্রজন্মের রাজনীতি।যেখানে অাজ সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতার নাম তারেক রহমান। তারেক রহমান বিএনপি সরকারের মন্ত্রী উপদেষ্টা এমনকি এমপিও ছিলেন না,অথচ সবচেয়ে বড় অাঘাতটা তাকেই সহ্য করতে হয়েছে।একজন উদিয়মান নেতার পথচলা কখনোই সহজ হয়না,হয়নি তারেক রহমানেরও।তাঁর সবচেয়ে বড় দোষ মনে হয় এটাই তিনি কাউকে পড়ুয়া করে কথা বলেননা,অাপোষ করতে জানেন না।দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতির জটিল মেরুকরণে দেশের প্রতি তাঁর যে কমিটমেন্ট সেখানে বিন্দু পরিমাণ ছাড় দিতে চাননি বলেই এত নিপীড়ন, নির্যাতন সহ্য করতে হচ্ছে।এজন্যই তারেক রহমান অাজ বাংলাদেশের তরুণ রাজনীতিবিদদের কাছে অাগ্রহের কেন্দ্র, চলমান রাজনীতির অাইকন।

দুই.
রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে পৃথিবীর ইতিহাসে বাংলাদেশ নামের একটি নতুন রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছে।যার কন্ঠে বিশ্ব তথা বাংলাদেশ শুনেছে স্বাধীনতার ঘোষনা,যার সফল নেতৃত্বে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ পেয়েছে নতুন করে মাথা তুলে দাঁড়ানোর পরিচয়, তারেক রহমান সেই পিতা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সুযোগ্য উত্তরসূরী।
দীর্ঘ নয় বছরের এক গনতান্ত্রিক সংগ্রামের মাধ্যমে স্বৈরাচার এরশাদের পতন নিশ্চিত করা এক আপোসহীন নেত্রী তিনবারের প্রধানমন্ত্রী মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুযোগ্য সন্তান তারেক রহমান।
প্রেসিডেন্ট পিতা,প্রধানমন্ত্রী মাতার সন্তান রাজনীতিতে আসবেন এশিয়ার এ অঞ্চলের রাজনীতিতে এটাই স্বাভাবিক। তবে তারেক রহমানের রাজনীতির উথান হঠাত করে হয়নি,স্বাভাবিকও ছিলনা।
এক ধারাবাহিক রাজনৈতিক পথ পাড়ি দিয়েই তাকে আজকের এই অবস্হানে আসতে হয়েছে।ভারতের কংগ্রেসের রাহুল গান্ধি কিংবা পাকিস্তানের পিপিপির বেলাওয়াল ভুট্টোকেও বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দল বিএনপির তারেক রহমানের মত এতটা নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হয়নি!

তারেক রহমানের রাজনৈতিক উত্থানকে কখনই ভারতীয় আধিপত্যবাদ,দেশীয় বাম এনজিও গোষ্ঠী, মেরুদন্ডহীন দালাল মিডিয়া,একশ্রেনীর পেইড বুদ্ধিজীবী,আর জনমানব শূন্য রাজনৈতিক দল গুলো সহজে মানতে পারেনি।পারার কথাও না।কারন তারেক রহমানের রাজনীতির মূলকথাই হচ্ছে Bangladesh first অর্থাৎ সবার উপরে বাংলাদেশ।এ জন্যই তাকে ক্ষমতার বাইরে রাখার জন্য চলছে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র!পাকিস্তানের গোলামি থেকে মুক্তির পর দিল্লীর আধিপত্য বাংলাদেশের যে প্রজন্ম বরদাস্ত করতে পারেনা তারেক রহমান সেই প্রজন্মের যোগ্য প্রতিনিধি। সেজন্যই আঘাতটা সর্বপ্রথম তারেক রহমানের উপরই আসে, অাসছে,অাসবে!

তিন.
১৯৯১ এবং২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমান সারা দেশ চষে বেড়িয়েছেন মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাথে।রাজনীতির শুরুটা বগুড়ার গাবতলি উপজেলা বিএনপির প্রাথমিক সদস্য হওয়ার মধ্য দিয়ে ১৯৮৮ সালে, পরে বগুড়া জেলা বিএনপির সদস্য হওয়ার মাধ্যমেই মূলত আনুষ্ঠানিকভাবে তুমুল জনপ্রিয় এই নেতার বিএনপির রাজনীতিতে পথচলা।পর্যায়ক্রমে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, ভাইস চেয়ারম্যান এবং বর্তমানে দলের দ্বিতীয় প্রভাবশালী নেতা হিসাবে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হিসাবে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে বন্দী থাকায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন।খুব বিচক্ষণতার সাথেই সামলাচ্ছেন দলের দায়িত্ব ও রাজনীতি।
তারেক রহমানকেই সরকারের যত ভয়!২১ শে আগষ্ট গ্রেনেড হামলা,দশট্রাক অস্ত্রসহ আজ তার নামে বেনামে চলছে অসংখ্য মামলা!আদালতের নিষেধাজ্ঞা অাছে গনমাধ্যমে তারেক রহমানের কোন সংবাদ প্রকাশ করা যাবেনা!বিশ্বের অার কোথাও এমন কোন নিয়ম আছে কিনা জানিনা!অথচ মিডিয়া এব্যাপারে কোনো কথাই বলছেনা।

তারেক রহমানের ব্যাপারে হাতেগোনা কয়েকটি গনমাধ্যম ছাড়া সবাই এক ধরনের নিরবতা পালন করছে।একধরনের মিডিয়া ট্রায়ালের মাধ্যমে রাষ্ট্র আজ উঠে পড়ে লেগেছে তারেক রহমানের পেছনে।বিগত বিএনপি সরকারের সময় কোন রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে না থাকা সত্বেও হাওয়া ভবনের নামে তারেক রহমানের উপর চলছে সাজানো দুর্নীতির নাটক!

চার.
ওয়ান ইলেভেনে অবৈধ সেনা সমর্থিত তত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় বসেই জাতীয়তাবাদী শক্তির উপর চালায় নির্যাতনের স্টিমরোলার।প্রধান টার্গেটে পরিনত হন দেশনেত্রী ও দেশনায়ক!রিমান্ডের নামে তারেক রহমানের উপর চলে বর্বরতম শারিরীক নির্যাতন!
সুস্হ্য অবস্হায় গ্রেফতার হলেও জেল থেকে মুক্তিপান
জীবন মৃত্যেুর মাঝামাঝি অবস্হায়!সেদিনের হুইল চেয়ারে বসা তারেক রহমানকে দেখে অনেকেই নিরবে অশ্রু বিসর্জন করেছেন।পিতাকে হাড়িয়েছেন শৈশবে।অপরাধ রাজনীতি,মানুষকে ভালবাসা।ছোট ভাই হারিয়েছেন,তাও এক ধরনের রাজনৈতিক হত্যাকান্ড!মা এখন কারাগারে বন্দী।স্ত্রী আর একমাত্র কন্যাকে নিয়ে নির্বাসনে।অপেক্ষায় দেশ,ষোল কোটি মানুষ।
তরুন প্রজন্মের একজন সফল নেতা হিসাবে তারেক রহমান আজ এদেশের নির্যাতিত, নিপীড়িত মানুষের আশা আকাংকার নাম।স্ত্রী জোবাইদা রহমানও এদেশে গনমানুষের কাছে একজন ভদ্র মার্জিত উচ্চশিক্ষিত স্বনামধন্য ডাক্তার হিসাবে পরিচিত।তারেক রহমান তরুন নেতা হিসাবে সারা দেশ ঘুরে বেড়িয়েছেন,মানুষের যতটুকু কাছে যাওয়া তার দ্বারা সম্ভব হয়েছে তাও সত্যি ঈর্ষনীয় ব্যাপার।

বিএনপির কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে তিনি যে পদ্ধতি বগুড়ায় চালু করে ছিলেন তা সারাদেশে ‘বগুড়া মডেল’ নামে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।ইউনিয়ন প্রতিনিধি সম্মেলনের মাধ্যমে দেশব্যাপী বিএনপি রাজনীতিতে নবজাগরণ তৈরি করেছিলেন তিনি।৫ ই জানুয়ারির তামাশার নির্বাচনের পর দেশব্যাপী যে তুমুল আন্দোলন পরিচালিত হয়েছে তাও সরাসরি তারেক রহমানের তত্বাবধানে।৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের ট্রাজেডিকে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে মোকাবিলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে দল।ড্যাবের কাউন্সিলের পর ছাত্রদলের কাউন্সিল অাসন্ন।সংগঠনের নেতৃত্ব নির্বাচনে কাউন্সিলের বিষয়টি সামনে এনে দলের এই খারাপ সময়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন গতির সৃষ্টি করতে পেরেছেন। অাশা করা যায় কাউন্সিলের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচনের এই প্রক্রিয়া বিএনপিসহ এর সকল অংগ ও সহযোগী সংগঠনেও বাস্তবায়ন করবেন। দল এ পথেই এগুচ্ছে।
গনতন্ত্র পুনরুদ্ধারের চলমান সংগ্রামে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দিকনির্দেশনায় তারেক রহমানই আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি।অার ছাত্রদল অতীতের মতই সে আন্দোলনে তারেক রহমানের নির্দেশ পালনের ভ্যানগার্ডের ভূমিকায়।

পাঁচ.
রাজনীতিতে ক্ষমতাই একমাত্র শেষ কথা নয়!
জেল,জুলুম, নির্যাতন, নির্বাসন সত্যিকারের একজন নেতাকে জনগনের নায়কে পরিনত করে। নেলসন মেন্ডেলাকেও ২৭ বছর কারাগারে কাটাতে হয়েছে!
তারেক রহমানের রাজনৈতিক জীবনের টার্নিং পয়েন্ট হবে তাঁর এই রাজনৈতিক নির্বাসন।নির্বাসিত তারেক রহমানের সফল নেতৃত্বেই মুক্তি পাবেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।মুক্তি পাবে গনতন্ত্র,ন্যায় বিচার,ভোটের অধিকার এবং বাংলাদেশের মানবাধিকার,বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের আস্হা, বিশ্বাস, ভালবাসার প্রতিক জনাব তারেক রহমানের হাত ধরেই বাংলাদেশে গনতন্ত্রের নতুন সূর্য উদিত হবে।একবিংশ শতাব্দীর রাজনীতিতে তারেক রহমান এক নতুন ইতিহাসের নাম।যে ইতিহাস ষোলকোটি মানুষের এক অসহায় বাংলাদেশের কথা বলে।বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কেমন বাংলাদেশ চাই তার একটা সংক্ষিপ্ত মেনুফেস্টু বিএনপি ষষ্ঠ কাউন্সিলেই ভিশন-২০৩০ নামে প্রকাশ করেছিল। যার মূল লক্ষ্য জনগণের বাংলাদেশের মালিকানা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া,বাংলাদেশকে একটি কল্যাণ রাষ্ট্র হিসাবে গড়ে তোলা।লুটপাটের লাগাম টেনে ধরবেন। সুসরকার,সুশাসন এবং সুনীতির সমন্বয়ে তিনি অাগামী দিনে এক নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলতে চান,যে বাংলাদেশ এদেশের জনগণ প্রত্যাশা করে।

একাত্তরের বাংলাদেশ একজন জিয়াউর রহমান পেয়েছিল,নব্বইয়ের বাংলাদেশ পেয়েছিল একজন অাপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে,অার অাজকের বাংলাদেশ পেয়েছে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের পাশাপাশি একজন তারেক রহমানকে।যদি একজন সফল নেতার অন্যতম প্রধান কাজ হয়ে থাকে সুসময় কিংবা দুঃসময়ে তাঁর জাতিকে স্বপ্ন দেখানো।তাহলে-হ্যা, তারেক রহমানের কথাই বলছি, যিনি স্বপ্ন দেখান তাঁর জাতিকে,স্বপ্ন দেখান বাংলাদেশকে।যিনি স্বপ্ন দেখেন তাঁর জাতির মুক্তির।
তাই তো দৃপ্ত শপথে তাঁর সাহসী উচ্চারণ –

“যদি তুমি ভয় পাও তবে তুমি শেষ, যদি তুমি রুখে দাঁড়াও তবে তুমিই বাংলাদেশ”

।।
মো:নিজাম উদ্দিন
সদ্য সাবেক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সহসম্পাদক
ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ