fbpx
 

আমি কেন ছাত্রদল করতে পারব না,অপরাধ কী?

Pub: শনিবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৯ ১:৪৫ অপরাহ্ণ   |   Upd: শনিবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৯ ১:৪৫ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ছাত্রদলের কাউন্সিলে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী হওয়ার শর্ত হিসাবে বলা হয়েছিল এদুটি পদের প্রার্থীকে অবশ্যই অবিবাহিত হতে হবে।এর কারণ হিসাবে বলা হয়েছিল যেহেতু এদুটো পদে থেকে কাজ করার ঝুঁকি তুলনামূলক অনেক বেশি সুতরাং এমন দুজনকে দরকার যাদের পারিবারিক বিষয়ে তুলনামূলক পিছুটান কম।অর্থাৎ দুটি পদের প্রার্থীকে অবিবাহিত হতে হবে।তখন সার্চ কমিটির অনেক সদস্যই গণমাধ্যমে স্পষ্টভাবে বলেছিলেন পূর্ণাঙ্গ কমিটির ক্ষেত্রে এই শর্ত প্রযোজ্য হবে না।বিবাহিতরাও পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে থাকবে।ছাত্রত্ব থাকার সত্ত্বে ২০০০ এসএসসি ধরে একটি সফল কাউন্সিলে সভাপতি সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হল।এখন যখন পূর্ণাঙ্গ কমিটির চূড়ান্ত আলোচনা হচ্ছে, এখন বলা হচ্ছে বিবাহিত কেউ পূর্ণাঙ্গ কমিটিতেই থাকতে পারবে না! আমি আমার ব্যক্তিগত জীবন লুকিয়ে পোস্ট নিতে চাই না,ইচ্ছেও নেই।বিয়ে করাটা কি কোনো অপরাধ?৩৫ বছরের একটা ছেলে নেতা হতে চাইলে বিয়ে করতে পারবে না, এই শর্ত জুড়ে দিয়ে সমাজকে কী মেসেজ দিতে চাই?

২০০০ এসএসসি ধরে হিসাব করলে বর্তমানে বয়স হয় কমপক্ষে ৩৪-৩৫,এই বয়সে বিয়ে না করাটাইত আশ্চর্যের ব্যাপার।অবিবাহিত হলে বয়স ৩৪-৩৫ হলেও সমস্যা নেই, পদ পাবে কিন্তু আমার বয়স এখন ৩০+ হলেও আমি ছাত্রদল করতে পারব না,আমার সেক্রিফাইসের কোনো দাম নেই,কারণ আমি বিয়ে করে মহা অন্যায় করে ফেলেছি!ছাত্র জীবনে কী কেউ বিয়ে করতে পারে না?বিয়ে করে ডাকসু নির্বাচন করতে পারলে ছাত্রদল করা যাবে না কেন?বিবাহিত হয়েও যদি একজন রাজপথে সার্বক্ষণিক সময় দিয়ে থাকে, তাকে কোন যুক্তিতে বাদ দেওয়া হবে?ছাত্রদলের মত একটা বৃহৎ সংগঠন যখন যা ইচ্ছা তাই করতে পারেনা,এখানে অনেকের রাজনৈতিক ভবিষ্যত জড়িত।কারও স্বপ্ন ধ্বংস করার অধিকার কারও নেই।সবার জীবনই সমান গুরুত্বপূর্ণ মনে রাখতে হবে।

ডাকসুর ভিপি নুরের বর্তমান বয়স ২৫-২৬, সে এখন থেকে তিন বছর আগে অর্থাৎ ২৩ বছর বয়সে বিয়ে করে ডাকসুর ভিপি হতে অসুবিধা হয়নি,কিন্তু অামার ছাত্রদলের নেতা হলে অবিবাহিতই হতে হবে কেন?
নৈতিকতার মানদণ্ডে এর যৌক্তিকতা কোথায়?

অামার এসএসসি ২০০৪,আমি বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমফিলের নিয়মিত স্টুডেন্ট অথচ আমি ছাত্রদল করতে পারব না, তো ছাত্রদল করার যোগ্যতাটা আসলে কী?শত চেষ্টা আগ্রহ থাকার পরেও কাউন্সিলে একটা ফরম পর্যন্ত কিনি নাই।অথচ বিবাহিতদের মধ্যেও অনেক যোগ্য প্রার্থী ছিল।আর এখন বিবাহিতের দোহাই দিয়ে বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে!আমি নিজাম ছাত্রদলের জন্য অপরিহার্য না, আমি চলে গেলেও কিছু যায় আসে না কিন্তু আমি ত এটা প্রত্যাশা করতেই পারি,যে দলের জন্য অামার ৩০ বছরের জীবনের ১২ টি বছর যেহেতু উৎসর্গ করেছি সেই দল আমার রাজনৈতিক ভবিষ্যত নিয়ে নুন্যতম একটুও ভাববে না কেন?
আগামীদিনে তরুণরা কোন ভরসায় এখানে আসবে?
আমি এখনো হতাশ হতে চাই না। আমি বিশ্বাস করতে চাই আমার নেতা দেশনায়ক তারেক রহমান,ছাত্রদলের সার্চ কমিটি ও নব নির্বাচিত সভাপতি সাধারণ সম্পাদক বিষয়টি সিরিয়াসলি বিবেচনা করবেন।

২০০৬-২০০৭ শিক্ষাবর্ষে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলাম।রাষ্ট্রবিজ্ঞান থেকে অনার্স মাস্টার্স শেষ করে এখন এমফিল ফাইনাল ইয়ারে পড়ছি।আমার বয়স এখন ৩০ বছর ৮মাস। কিন্তু ছাত্রদল করতে পারব না। কারণ অামি বিয়ে করে ফেলেছি!মহা অন্যায় করে ফেলেছি!এটাই একমাত্র আমার অযোগ্যতা?দলের জন্য আমার সেক্রিফাইসের কোনো মূল্য নেই?

আমি হলফ করে বলতে পারি সদ্য সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা বিষয়ক সহসম্পাদক হিসাবে আমি আমার দায়িত্ব শতভাগ পালন করেছি।রাজনীতির বাইরে লেখালেখিটা আমার নেশার মত।এই লিখনীর মূল স্পিরিটও বিএনপি,গনতন্ত্র, বেগম জিয়া, বাংলাদেশ।যখন যেভাবে পেরেছি দলের ইমেজ বিল্ড আপের জন্য মুক্তির ইশতেহার নামে ৩৫৬ পর্ব চলমান লিখে যাচ্ছি।হয়ত এটা একেবারেই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা। রাজপথে লড়েছি প্রিয় সহযোদ্ধাদের সাথে।বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল করার জন্য হলে থাকতে পারিনাই,ক্লাস করতে পারি নাই,মাঝে মাঝে পরীক্ষা দিয়েছি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের সহায়তায় বিশেষ ব্যবস্হায়!স্বাভাবিক জীবন বলতে কিছু নেই,কেন?একমাত্র ছাত্রদল করার জন্য!আর এখন vমি অযোগ্য!

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যেদিন আমার প্রথম ক্লাস ছিল সেদিন বিকালেই ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে বিএনপির এক সমাবেশে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া উপস্থিত থাকবেন এটা শুনে ক্লাস শেষ করে বিকেলেই বিএনপির কর্মসূচীতে অংশ নিয়েছিলাম।সেই যে শুরু এখন পর্যন্ত একদিনের জন্যও দলকে ফাঁকি দেই নাই। বিগত একযুগের গনতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তিআন্দোলনের হরতাল-অবরোধ- হাজিরা- বিক্ষোভ মিছিলে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই রাজপথে লড়াই করেছি।দলকে ফাঁকি দেয়নাই বরং নিজের জীবনকে,পরিবারকে,ভবিষ্যতকে ফাঁকি দিয়েছি।বন্ধু বান্ধবরা আজ বড় বড় অফিসার আর আমি এক অনিশ্চিত জীবনের যাত্রী কেন?

২০০৯ সালের ৩ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্যসেন হলে একমাত্র ছাত্রদল করার কারণে ছাত্রলীগের হাতে নির্মম নির্যাতনে শিকার হয়েছি।
২০১০ সালের ৩০শে নবেম্বর বিএনপির ডাকা হরতাল কর্মসূচী পালন করতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে প্রথমে ছাত্রলীগের গণপিটুনি পরে শাহবাগ থানায় পুলিশী নির্যাতন এই দলটাকে ভালবেসেই নিরবে সহ্য করেছি।২০১৮ সালে ১০ অক্টোবরেও রমনা থানা পুলিশ আমার কোনো ব্যক্তিগত অপরাধের জন্য গ্রেফতার করে নাই,ছাত্রদল করি এজন্যই ধরেছিল।সহপাঠীদের চেয়ে মেধা কিংবা রেজাল্ট কোনোটাই কম ছিল না,ওরাআজ বড় বড় অফিসার আমি অবেদনও করি নাই রাজনীতির জন্য।
পরিবারের কোনো চাওয়া পাওয়াকেই পূরণ করতে পারিনি।রাজনীতিটা এমন একটা সময়ে শুরু করেছি যখন বিএনপির দুঃসময়ের শুরু।শুধু আমি নই, আমার চেয়ে বেশি নির্যাতিত নেতাকর্মীও রয়েছে যারা বিবাহিত কিন্তু দলের প্রতি কমিটেড।তাদের কোনো যুক্তিতে বাদ দিবেন?বিয়ে করে পড়াশোনা করা গেলে ছাত্রদল কেন করা যাবেনা? ৩৫ বছরের অবিবাহিত হলে সমস্যা নেই কিন্তু ৩০ বছরের বিবাহিত হলে সমস্যা?এত গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে যা ইচ্ছা তাই চলে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীক ছাত্রদলের রাজনীতির
যে ফ্লো টা এখন তৈরি হয়েছে তাকে ধরে রাখতে অবশ্যই একটা ইনক্লুসিভ পূর্ণাঙ্গ কমিটি দরকার।এই দুঃসময়ে ত্যাগীদের চাটাই করা খুব ভালো লক্ষণ নয়।

দলের কোনো সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করার অভ্যাস আমার নেই, আমি করি না।আমি বিশ্বাস করি ব্যক্তির চেয়ে দল বড়,দলের চেয়ে দেশ।দল চাইলেইআমাকে বাদ দিতে পারে।তবে বিয়ের অজুহাতে ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে না রাখার যে সিদ্ধান্তের কথা শোনা যাচ্ছে তা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং সংগঠনের নির্যাতিত নেতাকর্মীদের প্রতি এক ধরনের ইনজাস্টিজ।এটা কোনো ভাবেই মেনে নেয়ার মত নয়।বিএনপির মত একটি দল যারা মানুষের অধিকারের জন্য লড়াই করছে সেই দল এমন একটা সিদ্ধান্ত কোনো ভাবেই নিতে পারে না।ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে একমাত্র বিয়ের অজুহাতে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত যদি হয়েও থাকে আমি বিশ্বাস করতে চাই দল এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের পুনর্বিবেচনা করবে।

আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি ছাত্রদলের সাংগঠনিক দায়িত্ব প্রাপ্ত নেতা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমান বিষয়টির একটি সুন্দর সমাধান উপহার দেবেন।আমাদের হতাশ করবেন না।আমি আমার পরিশ্রম ত্যাগ কমিটমেন্টের মূল্যায়ণ চাই।বেশি কিছু চাই না।

মো:নিজাম উদ্দিন
সদ্য সাবেক মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা বিষয়ক সহসম্পাদক
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ।
এমফিল গবেষক,রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ