fbpx
 

প্রয়াত খিরোদ চন্দ্র দাস পুকায়স্হ ছিলেন একজন ত্যাগী শিক্ষকের প্রতিকৃতি

Pub: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৯ ১১:৫৪ অপরাহ্ণ   |   Upd: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৯ ১১:৫৪ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নিজের হাতে গড়া শিক্ষা প্রতিষ্টান ও পল্লী শিক্ষার প্রসারে পুরা জীবনটাই উৎসর্গ করেছেন তিনি।এমনকি শিক্ষার উন্নতির জন্য ব্রিটিশ শাসন আমলে ভারতের আসাম প্রাদেশিক সরকারের ভালো বেতনে চাকুরী নেননি খিরোদ চন্দ্র দাস পুকায়স্হ। এটা ছিল তাঁর কেরিয়ারের সূচনা মত্।আর এ কারণেই মৃত্যুর দীর্ঘদিন পর সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকাদক্ষিণ দত্তরাইলে অবস্হিত ঢাকাদক্ষিণ বহুমুখী স্কুল ও কলেজের সাবেক এই প্রধান শিক্ষককে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে সবাই।বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার আগে ঢাকাদক্ষিণ বহুমুখী হাইস্কুল ও কলেজের সূচনালগ্নে এর প্রধান শিক্ষকের পদ অলংকৃত করেছেন বেশ কয়েকজন স্বনামধন্য ব্যক্তি।উনারা হলেন রাধানাথ চৌধুরী,কুঞ্জবিহারী রাহা,লাবণ্য কুমার চক্রবর্তী,পুলিন বিহারি শীল,আনন্দ চরণ দেব মজুমদার ,শ্রী নিবাস চন্দ্র হোম চৌধুরী ,শৈলেন্দ্র নাথ গুপ্ত,সনাথ কুমার ভট্রাচার্য,লতিফ আহমদ চৌধুরী ও এ এইচ ফজলুল বারী। তবে ৩৫ বছর প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশা পাশি ৪২ বছরের শিক্ষক জীবনের আলাদা ভাবে স্মরণীয় হয়ে আছেন খিরোদ চন্দ্র দাস পুকায়স্হ।

নিজ শিক্ষা প্রতিষ্টানের জন্য শিক্ষাবিদ খিরোদ চন্দ্র দাস পুকায়স্হের ত্যাগের অনেক উদাহরণ রয়েছে।অফিসিয়াল রেকর্ড থেকে জানা যায় শিক্ষার মান উন্নয়নে খিরোদ চন্দ্র দাস পুকায়স্হ একবার প্রধান শিক্ষকের বেতনের চেয়ে বেশি বেতন দিয়ে একজন বিএসসি শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছিলেন।কারন তখন বিজ্ঞানের ছাত্র ছাত্রীরা একজন বিজ্ঞানের শিক্ষকের অভাবে ভুগছিল।দক্ষ প্রশাসনের ক্ষমতার অধিকারী খিরোদ চন্দ্র প্রতিষ্টানের স্বার্থে সামাজিক বাধা উপেক্ষা করে যেকোন কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন ।ইংরেজি ভাষায় অত্যন্ত দক্ষ খিরোদ চন্দ্র দাস তাঁর ছাত্র ছাত্রীদের সহ পাঠক্রমিক কার্যক্রমে উৎসাহ দিতেন।

খিরোদ চন্দ্র দাস পুকায়স্হ ১৩০৭ বঙ্গাব্দে ২৭ আশ্বিন বিয়ানীবাজার তিলপাড়া গ্রামের এক স্বছল পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন।তিনি আসাম রাজ্যের করিমগঞ্জ হাইস্কুলে অধ্যয়ন করেন এবং ১৯২২ সনে মাধ্যমিক পাশ করেন।১৯২৬ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিয়ে পাশ করে খিরোদ চন্দ্র সহকারী শিক্ষক হিসাবে ঢাকাদক্ষিণ মিডল ইংলিশ হাইস্কুলে যোগদেন।খুব সময়ের মধ্যেই তিনি চিত্র শিক্ষদের প্রশংসার পাত্র হয়ে ওঠেন।১৯৩৪ সালে তৎকালীন প্রধান শিক্ষক সনাথ কুমার ভট্রাচার্যের পদত্যাগের পর খিরোদ চন্দ্র দাস পুরকায়স্হ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তী কয়েক বছরে ভালো পুরস্কার হিসেবে বিদ্যালয়টি ১৯৪৭ সালে হয় ইংলিশ স্কুল হিসাবে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন লাভ করে । যোগ্য গতিশীল নেতৃত্ব ও একাডেমিক সাফল্যের সুবাদে বিদ্যালয়টি জেলার অন্যতম শ্রেষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্টানগুলোর মধ্যে স্হান করে নেয় ।

নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও খিরোদ চন্দ্র দাস পুকায়স্হ তাঁর প্রতিষ্টানের কিছু বড় পরিবর্তন আনেন ।১৯৪৯ সালের একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারনে স্কুল কমিটি খিরোদ চন্দ্রকে পদচ্যুত করে। তখন রাজনৈতিক অবস্হা ছিল খুব খারাপ।এ সিদ্ধান্ত এলাকায় বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করে। শেষ পর্যন্ত এলাকার মানুষের উদ্যোগের প্রেক্ষিতে খিরোদ চন্দ্র একবছর পর স্বপদে বহাল হন এবং আরো ১৯ বছর কাজ করেন।১৯৬৯ সালের ২৭ মার্চ তিনি অবসর গ্রহণ করেন।

বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের অধিকারী খিরোদ চন্দ্র দাস পুকায়স্হ ঢাকাদক্ষিণ জুনিয়র গার্লস হাইস্কুলের প্রতিষ্টাতা প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে ঢাকাদক্ষিণ কলেজ প্রতিষ্টার জন্য কাজ করেন।পরবর্তীতে তিনি চন্দরপুর আলেমদাদ হাইস্কুল ও গবিন্দশ্রী হাইস্কুল প্রতিষ্টায় তিনি উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন ।১৯৮২ সালের ২৭ জুন সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি পরলোকগমন করেন। জমিদার পরিবারে জন্ম নিয়ে ও জীবনের শেষপ্রান্তে খিরোদ চন্দ্রকে ভিটেমাটি হারাতে হয়।ফলে অবসর জীবনের ১৪ বছর তিনি পরিবার নিয়ে অন্যএকজনের বাড়িতে অতিথি হিসাবে বসবাস করেন। এই সততা ও মহত্বের কারনে তিনি নিজ এলাকায় আজও স্মরণীয়।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ