fbpx
 

দেশের স্বাধীনতা ও শহীদ জিয়া এবং দেশনেত্রীর মুক্তি

Pub: শুক্রবার, মার্চ ২৭, ২০২০ ৪:৩৩ পূর্বাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শাকিলা ফারজানা
“প্রথম বাংলাদেশ, আমার শেষ বাংলাদেশ,
জীবন বাংলাদেশ আমার, মরণ বাংলাদেশ,
বাংলাদেশ, বাংলাদেশ, বাংলাদেশ”।

১/ রাজনৈতিক এবং সাংষ্কৃতিক গোলামীকে আমরা সাংষ্কৃতিক সুষমার ক্যাপসুলে ঢুকিয়ে ফেলেছি। দেশপ্রেমকে নদীনালা নিয়ে দেশাত্মবোধের গানের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে ফেলেছি। আমাদের মতো এতো অধিকসংখ্যক দেশাত্মবোধক গান নাকি পৃথিবীর আর কোনো দেশে গাওয়া হয় না। কিন্তু শুধু কথা ও গানে নয়, বাস্তবেও যে পরিবারের আত্মত্যাগ বাংলাদেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র এবং উন্নয়নকে সমৃদ্ধ করেছে সেই পরিবার হচ্ছে শহীদ জিয়ার পরিবার, বেগম খালেদা জিয়ার পরিবার। পরিবারের কর্তা মরণকে উপেক্ষা করে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে প্রথম বিদ্রোহ ঘোষণা করে দেশকে স্বাধীন করেছেন। আবার দেশের দুর্দশায় তিনিই গণতন্ত্র উদ্ধার করে দেশকে উন্নয়ন দিতে যেয়ে মরণের কাছে নিজেকে সপে দিয়েছেন। আর তাঁর সুযোগ্য পত্নী বারবার দেশের গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করতে যেয়ে আজ মরণপথযাত্রী। কি অদ্ভুত মিল উপরের দেশাত্মবোধক গানের লাইনের সাথে তাদের দু’জনের জীবনেরই। জীবন ছিল তাদের দেশের জন্যই; একজনের মরণও হয়েছে দেশের কল্যাণেই; আর একজনেরও তা হওয়ার পথে।

২/ শহীদ জিয়া তার জীবন দিয়ে প্রমাণ করে গেছেন-প্রথম বাংলাদেশ, শেষ বাংলাদেশ, জীবন বাংলাদেশ, মরণ বাংলাদেশ। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে জিয়াই সর্বপ্রথম ২৫’মার্চ ১৯৭১ রাতে বিদ্রোহ করেন। এর মাধ্যমে প্রকৃত পক্ষে চট্টগ্রামে তাঁর অধীনস্থ সৈন্যদের নিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু করেন তিনি। ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে নিয়োজিত থাকাকালেই তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ১৯৭১’সালের ২৭’মার্চ সাড়ে সাত কোটি স্বাধীনতাকামী বাঙালীর পক্ষে ঐতিহাসিক স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। ‘আমি মেজর জিয়া বলছি’- সেই দৃঢ় কঠিন উচ্চারণ জাতিকে সাহস, নিশ্চয়তা এবং গন্তব্য প্রদান করে। সেই সাহসী উচ্চারণ, ‘আমি মেজর জিয়া বলছি’- আবার ধ্বনিত হলো ৭’নভেম্বর ১৯৭৫’এর প্রত্যুষে। এবার দেশী-বিদেশী স্বাধীনতার শত্রুদের প্রতিহত করার আহ্বান। ৭’নভেম্বর ১৯৭৫’এর পরবর্তীকালে গৃহযুদ্ধ আশঙ্কার মাঝে সেনাবাহিনীকে সমূলে বিনাশের ষড়যন্ত্র হয়েছে। রাজনীতির ঘোলাপানিতে মাছ শিকারে ব্যস্ত কুচক্রীদের হাত থেকে প্রতিরক্ষাবাহিনীকে রক্ষা করতে শহীদ জিয়া যে কঠিন ও কঠোর ভূমিকা পালন করেন, তা এক অজানা অথচ উজ্জল অধ্যায়। একদলীয় শাসন থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্রে উত্তরণ, স্বতন্ত্র জাতিকে বাংলাদেশী পরিচয় দান শহীদ জিয়ার আরো দু’টি অসাধারণ অবদান। এরপর দেশের উন্নয়নে আত্মনিয়োগ করে বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, গার্মেন্টসহ শিল্প খাতে উন্নয়ন, সার্ক, ইসলামি উম্মাহর বিকাশে অবদানসহ আরো অনেক কিছু করে গিয়েছেন নিরলসভাবে ১৯৮১’সালের ৩০’মে শহীদ হওয়ার আগে পর্যন্ত। তাঁর কর্মদক্ষতা, পরিশ্রম, সততা এখনো কিংবদন্তী হয়ে আছে দেশে এবং বিদেশে।

৩/ ১৯৭১ সালে শহীদ জিয়া যখন তৎকালীন পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে দেশের স্বাধীনতায় যুদ্ধরত তখন দুই সন্তানসহ বেগম খালেদা জিয়া ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে পাকিস্তানিদের হাতে বন্দী। বিদ্রোহী অফিসারের পরিবারের প্রতি কি বৈরি আচরণ হতে পারে তা সহজে অনুমেয়। এরপরে বেগম জিয়ার যখন বয়স মাত্র ৩৬’বছর তখন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান শহীদ হন। দুই সন্তানসহ বিধবা হয়ে যখন শোকের গভীর সাগরে ভাসছেন তখন দল এবং দেশ মাতৃকার ডাকে সাড়া দিয়ে দলের চেয়ারপার্সনের দায়িত্ব নেন। নতুন স্বৈরাচার এরশাদের বিরুদ্ধে দেশের গণতন্ত্র উদ্ধারে আত্মনিয়োগ করেন। একনাগাড়ে ৮’বছর নিরলস এবং আপোষহীন নেতৃত্ব দিয়ে দেশকে স্বৈরাচারের কবল হতে উদ্ধার করেন। অতঃপর স্বীকৃতি হিসেবে জনগণের ম্যান্ডেট পেয়ে দেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠ হন। পরবর্তীতে ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালে আরো দু’বার প্রধানমন্ত্রী, এবং ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালে বিরোধী দলের নেত্রী ছিলেন। ২০০৬-২০০৭ সালে দেশী-বিদেশী চক্রান্তের শিকার হয়ে পরিবার এবং দলসহ নানা নিগ্রহের শিকার হন, যা এখনো অব্যাহত আছে। বস্তুত ঐ সময়ে পাশ্ববর্তী বৃহৎ প্রতিবেশী ভারত এবং দেশীয় এজেন্টদের চক্রান্তে জাতীয়তাবাদী এবং ইসলামি শক্তিকে বিনাশ করার চেষ্টা শুরু হয়। এর ধারাবাহিকতায় চক্রান্তমূলক নবম, দশম এবং একাদশ সংসদ নির্বাচন, দেশকে ভারতের উপনিবেশ বানানো, শাসন-আইন-বিচার বিভাগকে কুক্ষিগত করে আইনের শাসনের বিলুপ্তি, যথেচ্ছাচারভাবে গুম-খুন, হামলা-মামলা, ফাঁসি, দেশনেত্রীর বিচার এবং শাস্তি সবকিছুই। ২৫’মাস কারাগারে থেকে মহান নেত্রী, দেশনেত্রীর বয়স এবং অসুস্থতা বিবেচনায় ৭৫’বছর বয়সে গতকাল ২৫’মার্চ ৬’মাসের জন্য মুক্তি পেয়েছেন। কিন্তু আপোষহীন নেত্রী চরম অসুস্থ অবস্থায়ও দোষ স্বীকার করে মুক্তি অর্থাৎ প্যারোল মুক্তি গ্রহণ করেননি। অনেকদিন পরে নেত্রীকে দেখে মনে পড়ে, আজ স্বাধীনতা দিবসে- যার সাথে শহীদ জিয়ার নামও জড়িয়ে আছে ঘনিষ্ঠভাবে——

“আজি বাংলাদেশের হৃদয় হতে কখন আপনি
তুমি এই অপরূপ রূপে বাহির হলে জননী!
ওগো মা, তোমায় দেখে দেখে আঁখি না ফিরে।
তোমার দুয়ার আজি খুলে গেছে সোনার মন্দিরে”।

৪/ বাঙালীর ইতিহাস যুগপৎ স্বাধীনতা পাওয়া ও হারানোর ইতিহাস। একদিকে আমরা যতোটা স্বাধীনতা পাই, একই দিনে আরেক দিকে আমরা তার অনেক বেশী স্বাধীনতা হারাই। এক দশকে আমরা যতোটা রাজনীতিক স্বাধীনতা পাই, অর্থাৎ রক্ত দিয়ে অর্জন করি; এক বছরেই তার কয়েক গুণ চিন্তার ও বাকস্বাধীনতা হারাই। স্বাধীনতার অর্ধ শতাব্দীর দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে প্রতিবেশী ভারতের সহযোগীতায় তাদের তাবেদার বর্তমান ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগ সরকার আবারও আমাদের চিন্তা এবং বাকস্বাধীনতাকে হরণ করেছে। এখন এদেশের শাসন-আইন-বিচার সবকিছুই শেখ হাসিনার আঁচলে ‘গৃহিনীর চাবির গোছা’- এর মতো বাধা। দেশনেত্রীর বিচার-শাস্তি -জামিনে তা আরেকবার প্রমাণ হলো। দেশের ৪৯’বছর বয়সের সময়ে জিয়া পরিবারই স্বাধীনতা, গণতন্ত্র এবং উন্নয়নে বেশীরভাগ কৃতিত্বের দাবিদার। এই পরিবারে হাত ধরেই এসেছে পজিটিভ প্রায় সবকিছুই। ইনশাআল্লাহ, আবারও এই পরিবারের হাত ধরেই আসবে বাংলাদেশের হারানো গণতন্ত্র, হারানো স্বাধীনতা।

“অরূপ জোছনায়, সাজানো রাঙানো
ঝিলিমিলি চাঁদ তলে
নিবিড় মমরায়, পিউ পাপিয়া
হৃদয়ের দ্বার খোলে,
আমি তাতেই রেখেছি
স্বপ্নের দ্বীপ জ্বেলে”।

Hits: 53


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ