পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের কান্ড: জাফলং হিমালয়ের পাদদেশে, নদীর নাম মারী!

Pub: বৃহস্পতিবার, জুন ১১, ২০২০ ৩:৫৪ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এনামুল কবীরঃ বইটি রচনা ও সম্পাদনায় চার-চারজন ডক্টরেট ডিগ্রিধারি শিক্ষাবিদ! জড়িত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অসংখ্য উচ্চ শিক্ষিত আমলা এবং আছেন সারাদেশের লাখ লাখ শিক্ষক।

তবু পাঠ্য বইয়ের মারাত্মক দুটি ভূল বহাল তবিয়তে টিকে আছে বছরের পর বছর। ১ বা ২ নয়, টানা ৭ বছর ধরে দুটি ভূল শিখতে শিখতে বড় হচ্ছে বাংলাদেশের কোমলমতি শিশুরা!

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠপুস্তক বোর্ডের বড় বড় কর্তারা যে কতটা হেলাফেলায় তাদের দায়িত্ব পালন করেন বা করছেন, আরো একবার তার প্রমাণ পাওয়া গেলো।

চতুর্থ শ্রেণীর ‘বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়’ বইয়ে সম্প্রতি এ প্রতিবেদকের চোখে ধরা পড়েছে মারাত্মক দুটি ভূল তথ্য।

পরে এনিয়ে কয়েকজন শিক্ষক অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তার সাথে আলাপ হয়।

তারা কেউই, শিশুদের পাঠ্য বই নিয়ে এমন হেলাফেলা মেনে নিতে পারছেন না।

দেশের প্রাথমিক স্তরের চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের বর্তমান ‘ বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়’ বইটি ২০১৩ সাল থেকে পাঠ্যবই হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। লাখ লাখ শিক্ষার্থী ও তাদের শিক্ষকবৃন্দ বইটি পড়ছেন বা পড়াচ্ছেন।

বইটির ৫৮ পৃষ্টায় দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র, সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলংয়ের পরিচয় দিতে গিয়ে লেখা হয়েছে, ‘ সিলেট বিভাগের উত্তরে হিমালয় পাহাড়ের পাদদেশে জাফলং অবস্থিত। এখানে খাসি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর আবাসস্থল। এখানে মারী নদী থেকে বয়ে আসে অনেক পাহাড়ি পাথর।’

অথচ আমরা সবাই, বিশেষ করে দেশের সচেতন মানুষ মাত্রই জানেন, হিমালয় পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত দেশের নাম নেপাল। দেশটিকে হিমালয় দূহিতা বা হিমালয় কন্যাও বলা হয়।

আসলে জাফলং যে পাহাড়ের পদদেশে অবস্থিত, তার নাম ‘ খাসিয়া-জৈন্তা পাহাড়, যার অবস্থান ভারতের মেঘালয় রাজ্যে। এটিকে অবশ্য মেঘালয় পাহাড়ও বলা হয়।

আর ‘এখানে মারী নদী থেকে বয়ে আসে পাহাড়ি পাথর’ বাক্যটি যেমন সঠিক নয়, তেমনি ‘মারী’ নামে সিলেট বিভাগে কোন নদী-ই নেই।

জাফলংয়ের বুকচিরে বয়ে যাওয়া নদীটির নাম ‘পিয়াইন’। তবে কিছুটা ভাটিতে আসার পর নদীটি ‘সারি’ নদী নামেই প্রবাহিত হয়েছে।

বাক্যটি সঠিকভাবে লিখতে গেলে তা হবে, ‘এখানে সারি নদী হয়ে আসে পাহাড়ি পাথর’ বা হতে পারে, ‘ এখানে সারি নদী বয়ে আনে পাহাড়ি পাথর’।

বাংলা সাহিত্য নিয়ে পড়েছেন, এমন একাধিক শিক্ষক – সাংবাদিকের মতামতই এরকম।

বাক্য যাহোক, হিমালয়কে জাফলং বা সিলেট সীমান্তে নিয়ে আসা আর সারি নদীটাকে ‘মারী’ বানিয়ে দেয়ার মত ভূলকে মেনে নিতে পারছেন না সচেতন অনেকেই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের মতে, পাঠ্য বইয়ে এমন ভূল মেনে নেয়া যায়না। আমরা শিশুদের ভূল শেখাতে পারিনা। এতে শিক্ষার্থীরা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

অবশ্য সিলেট অঞ্চলের অনেক শিক্ষকও নিজেদের অজ্ঞতাহেতু পাঠ্য বইয়ের ভূলকেই সঠিক মনে করে শিশুদের তাই যে শিখিয়ে যাচ্ছেন, এমনটা ঘটছে বলেও তারা মনে করছেন।

বিষয়টি নিয়ে আলাপকালে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় উপপরিচালক শাখাওয়াত হোসেন বলেন, হিমালয় যে নেপালে, তাতো সবাই জানে। এত বড় ভূল! আমি বিষয়টি দেখব।’

সারি নদীকে ‘মারী নদী’ লেখা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আপনারা স্থানীয় লোকজন হয়ত ‘সারি’ বলেন। জাতীয় পাঠ্যপুস্তক বোর্ড হয়ত কোন পুরানো রেকর্ডে এটার নাম পেয়েছে ‘মারী’। তাই লেখা হতে পারে। আসলে কি হয়েছে, আমি জানিনা।

তিনি বলেন, আমি বইটি দেখব, তারপর পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহায়তায় নদীর নামটি নিশ্চিত হয়ে জাতীয় পাঠ্যপুস্তক বোর্ডকে জানাবো। বই প্রকাশতো তারাই করেন। সুতরাং, তাদের জানাবো এবং আমার পক্ষে যা যা করনীয় তাই করব।

বইটির প্রথম মু্দ্রণ হয়েছিল ২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে। পরিমার্জিত সংস্করণ হয় ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে। পুনর্মুদ্রণ হয়েছিল ২০১৯ সালের আগস্টে।

বইটি রচনা ও সম্পাদনা করেছেন, ড. মাহবুবা নাসরীন, ড. আব্দুল মালেক, ড. ইশানী চক্রবর্তী ও ড. সেলিনা আক্তার।

Hits: 23


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ