ব্যক্তিজীবনে ‘প্রেমপাগল’ ছিলেন ইন্দিরা

Pub: মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০১৮ ৩:৫৫ অপরাহ্ণ   |   Upd: মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০১৮ ৩:৫৫ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

উপমহাদেশের নারী রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে সম্ভবত সবচেয়ে আলোচিত নাম ইন্দিরা গান্ধী। পুরো নাম, ইন্দিরা প্রিয়দর্শিনী গান্ধী। ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরুর এই কন্যা দেশটির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। ভারতীয়দের কাছে ইন্দিরা ‘আয়রন লেডি’। পাকিস্তান ভাঙার পুরো কৃতিত্বটাই তার।

রাজনৈতিক ইস্যুতে ইন্দিরা যতটা আলোচিত, প্রেমে পড়ার ব্যাপারে ঠিক ততটাই আলোচনায় এসেছেন তিনি। এক কথায় বলা যায়, ‘প্রেমপাগল’ ছিলেন ইন্দিরা গান্ধী। জীবদ্দশায় একাধিক প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন এই নারী। তাকে নিয়ে একাধিক জীবনীমূলক বইতে বেরিয়ে এসেছে এসব তথ্য।

১৯৪২ সালে পার্সি সম্প্রদায়ের মানুষ ফিরোজ গান্ধীকে বিয়ে করেন ইন্দিরা। ফিরোজের সঙ্গে ইন্দিরার প্রেম হয় যুক্তরাজ্যে পড়াশোনার সময়। ১৯৫০ সালে অবশ্য অনানুষ্ঠানিক বিচ্ছেদ ঘটে যায় তাদের দুজনের। এর পর আর একসঙ্গে থাকেনেনি ফিরোজ-ইন্দিরা।

প্রথমবার ১৯৩০ সালে ইন্দিরা গান্ধীকে একবার বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন ফিরোজ। তখন ইন্দিরার বয়স কম থাকায় তার পরিবার রাজি হয়নি। তাছাড়া ফিরোজ গান্ধী পার্সি সম্প্রদায়ভুক্ত হওয়ার কারণে তাদের বিয়ে মেনে নিতে চাননি জওহরলাল নেহরু। বিয়েতে আপত্তি ছিল মহাত্মা গান্ধীরও। বিয়েটাও অবশ্য সুখকর হয়নি।

এদিকে ফিরোজ গান্ধীর সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদের আগেই একাধিক প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন ইন্দিরা। ১৯৩৬ সালে মা কমলা নেহেরু গান্ধী মারা যাওয়ার পর অক্সফোর্ডে পড়াশোনা করতে যুক্তরাজ্য যার ইন্দিরা। কিন্তু সেই পড়া শেষ না করেই ভারতে ফিরে আসেন তিনি। জওহরলাল নেহেরু তাকে ভর্তি করিয়ে দেন রবীন্দ্রনাথের শান্তিনিকেতনে। আর সেখানে তিনি প্রেমে পড়েন তার এক জার্মান ভাষা শিক্ষকের।

ফিরোজ গান্ধীর সঙ্গে সম্পর্ক থাকাকালেই আরো একজনের সঙ্গে প্রেম ছিল ইন্দিরার। তার নাম মোহাম্মদ ইউনুস। কে এন রাও তার ‘নেহরু ডায়নাস্টি’ বইতে লিখেছেন, ইন্দিরার ছোট ছেলে সঞ্জয় গান্ধী মূলত ইন্দিরা-ইউনুসের ছেলে। কারণ সঞ্জয় গান্ধী মানেকাকে বিয়ে করায় ইউনুস ছিলেন ক্ষুব্ধ। একজন শিখ মেয়ের সঙ্গে নিজের ছেলের বিয়ে মেনে নিতে পারেননি তিনি। ঘটনাটি মোহাম্মদ ইউনুসের লেখা ‘পারসন, প্যাশন অ্যান্ড পলিটিকস’ বইতেও পাওয়া যায়।

১৯৫০ সালে ফিরোজ গান্ধীর সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদের পর ইন্দিরা তার বাবার একান্ত সহকারী হিসেবে কাজ করতেন ‘তিন মূর্তি ভবনে’। সেখানে তিনি প্রেমে পড়েন নেহেরুর একান্ত সচিব এম ও মাথাইয়ের। মাথাইয়ের সঙ্গে তার প্রেম চলে একটানা প্রায় ১২ বছর। এমনকি এ সময় একবার গর্ভবতী হয়ে গর্ভপাতও করেছিলেন ইন্দিরা।

মাথাই তার আত্মজীবনী ‘রেমিনিসেন্স অব দ্য নেহরু এজ’ বইতে লিখেছেন, নিজের স্বামী ফিরোজ গান্ধীকে খুব একটা পছন্দ করতেন না ইন্দিরা। কীভাবে এই সম্পর্কের সূচনা হয় তার বর্ণনায় মাথাই লিখেন, ‘একদিন ইন্দিরা আমাকে বলে, আমি তোমার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করতে চাই, আগামীকাল সন্ধ্যায় আমাকে শহর থেকে দূরে নিয়ে যেও।’

উত্তরে মাথাই ইন্দিরাকে বলেন, ‘কোনো নারীর সঙ্গে দৈহিক সম্পর্কের অভিজ্ঞতা নেই আমার।’ মাথাইয়ের এমন কথার পর তাকে দুটি বই দেন ইন্দিরা, যার একটি ছিল যৌনতা ও নারীর শরীর নিয়ে ডা. আব্রাহাম স্টোনের লেখা।

মাথাই লিখেছেন, ‘ইন্দিরা সবসময় আমাকে খুব শক্ত করে ধরে জাপটে ধরতো ও বলত, আমি তোমায় ভালোবাসি।’ তিনি আরো লিখেছেন, ‘ইন্দিরার শুধু একজন পুরুষের সঙ্গেই যৌন সম্পর্ক ছিল না। একদিন আমি ইন্দিরার সঙ্গে দেখা করতে যাই এবং তাকে তার শিক্ষক ধীরেন্দ্র ব্রহ্মচারীরর সঙ্গে বিছানায় দেখতে পাই।’

এ নিয়ে মাথাইয়ের সঙ্গে রীতিমতো প্রতিযোগিতা চলতো ধীরেন্দ্রর। তিনি ছিলেন ইন্দিরার যোগ ব্যায়ামের প্রশিক্ষক। ধীরেন্দ্র ব্রহ্মচারীর কাছে হেরে যান মাথাই।

ধীরেন্দ্রর পর ইন্দিরার জীবনে আসেন দীনেশ সিং। তিনি প্রতিদিন প্রধানমন্ত্রী ভবনে এসে আড্ডা দিতেন ইন্দিরার সঙ্গে। তারপর থেকেই শুরু হয় প্রেম। দীনেশ সিং ছিলেন জওহর লাল নেহরুর মন্ত্রিসভার পররাষ্ট্রমন্ত্রী। আরো বেশকিছু প্রেমের ঘটনা আছে ভারতের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর জীবনে।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1279 বার