অবশেষে ঘোড়া পেয়েছে মাইদুল

Pub: মঙ্গলবার, জুলাই ২৪, ২০১৮ ৩:৪৬ অপরাহ্ণ   |   Upd: মঙ্গলবার, জুলাই ২৪, ২০১৮ ৩:৪৬ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

জেলা প্রতিনিধি, লালমনিরহাট : সাধারণত আমাদের দেশের শিশুরা রিকশা, বাইসাইকেল, প্রাইভেটকার কিংবা অভিভাবকের মোটরসাইকেলের পেছনে চড়ে স্কুলে যায়। আবার প্রত্যন্ত জলাভূমি কিংবা নদীপাড়ের শিশুরা নৌকা বা ভেলায় চড়ে স্কুলে যায়।

কিন্তু এক্ষেত্রে সীমান্তবর্তী লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের দিনমজুরের ছেলে মাইদুল ইসলাম ব্যতিক্রম। সে ঘোড়ায় চড়ে স্কুলে যায়। চন্দ্রপুর আদর্শ বিদ্যা নিকেতনের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র মাইদুল। প্রতিদিন ৩ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ঘোড়ায় চড়ে স্কুলে যায় সে।


স্থানীয় সূত্র জানায়, কালীগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের খামারভাতি গ্রামের দিনমজুর লিয়াকত আলীর ছেলে মাইদুল। দুই ভাই এক বোনের মধ্যে মাইদুল মেজো। পড়াশোনা করে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখছে মাইদুল।

মাইদুলের পরিবার জানায়, মাইদুলের দাদার একটি ঘোড়া ছিল। দাদা তাকে ঘোড়ার পিঠে চড়িয়ে ঘুরাতেন। ৫ম শ্রেণিতে পড়ার সময় ওই ঘোড়ার প্রতি মাইদুলের ভালোবাসা জন্মায়। পরবর্তীতে অভাবের তাড়নায় ঘোড়াটি বিক্রি করে দেন দাদা। ঘোড়া বিক্রির পর থেকে কাঁদতে শুরু করে করে মাইদুল। সেই সঙ্গে ঘোড়াটি ফিরিয়ে আনার জন্য বাবার কাছে কাকুতি-মিনতি করে। প্রতিদিন সন্তানের কান্না দেখে দিনমজুর বাবা লিয়াকত আলী অনেক কষ্টে ৬ হাজার টাকা জমিয়ে স্থানীয় বালাপাড়া হাট থেকে একটি ঘোড়ার বাচ্চা কিনে আনেন। ঘোড়ার বাচ্চাটি দেখে খুশিতে মেতে ওঠে মাইদুল। সেই সঙ্গে ঘোড়ার বাচ্চাটি লালনপালন করতে থাকে সে। দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বড় হতে থাকে ঘোড়ার বাচ্চাটি। ঘোড়ার নাম রাখে বাহাদুর। মাইদুলের স্বপ্ন ছিল, একদিন বাহাদুরের পিঠে চড়ে স্কুলে যাবে। অবশেষে তার সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।

মাইদুল ইসলাম জানায়, ঘোড়ার পিঠে চড়ে প্রথম যেদিন স্কুলে যাই সেদিন থেকে স্কুলের সব ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা আমাকে এক নামে চেনেন। আমি প্রতিদিন ঘোড়ায় চড়ে স্কুলে যাই। স্কুলে বাহাদুরকে দেখে সবাই আনন্দ পায়। আমার বন্ধুরা ঘোড়ার পিঠে উঠতে চাইলে তাদের উঠাই। এখন আমার ইচ্ছা পড়াশোনা করে ডাক্তার হওয়ার।

মাইদুল ইসলামের বাবা লিয়াকত আলী বলেন, দাদার ঘোড়াটি বিক্রির পর অনেক কেঁদেছে মাইদুল। পরে দিনমজুরির টাকা জমিয়ে অনেক কষ্ট করে তাকে একটি ঘোড়া কিনে দিই। ওইদিন ঘোড়া দেখে খুশিতে আত্মহারা হয়ে যায় মাইদুল। সে ঘোড়াটি লালনপালন করে বড় করেছে। এখন ঘোড়ায় চড়ে প্রতিদিন স্কুলে যায় মাইদুল। আমি যতদূর পারি দিনমজুরি করে ছেলেকে পড়াশোনা করাব।

চন্দ্রপুর আদর্শ বিদ্যা নিকেতনের প্রধান শিক্ষক মোজাম্মেল হক বলেন, মাইদুল ইসলাম দিনমজুরের ছেলে হলেও খুব মেধাবী। সে ঘোড়া নিয়ে প্রতিদিন স্কুলে আসে। সবাই দেখে আনন্দ পায়। অনেকেই তার ঘোড়ার পিঠে চড়ে। দেখতেই ভালো লাগে।

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1078 বার

আজকে

  • ৯ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
  • ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
  • ১৩ই মুহাররম, ১৪৪০ হিজরী
 

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক

 
 
 
 
 
জুলাই ২০১৮
রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
« জুন   আগষ্ট »
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
 
 
 
 
WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com