ঈদে আপনি চাইলে ঘুরে আসতে পারেন বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতে

Pub: শনিবার, আগস্ট ১৮, ২০১৮ ৯:২২ অপরাহ্ণ   |   Upd: শনিবার, আগস্ট ১৮, ২০১৮ ৯:২২ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ঈদ মানেই খুশি আর আনন্দের উৎসব। কিন্তু ঘরে বসে বসে কি আর সেই আনন্দ পুরোপুরি উপভোগ করা যায়! যায় না। তাইতো যেকোনও উৎসবের মন ছুটে যায় নানা অচেনার পানে। নতুন সৌন্দর্যের পানে। এই ঈদে আপনি চাইলে ঘুরে আসতে পারেন বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতে।

কক্সবাজার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত কক্সবাজারে বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক বালুময় সমুদ্র সৈকত। প্রায় ১৫৫ কিলোমিটার, অর্থাৎ ৯৬ মাইল পর্যন্ত এর দৈর্ঘ্য। কথিত আছে- কক্সবাজার নামটি এসেছে ক্যাপ্টেন হিরাম কক্স নামে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির এক অফিসারের নাম থেকে। কক্সবাজারের আগের নাম ছিল পালংকি।

চট্টগ্রাম শহর থেকে কক্সবাজারের দূরত্ব ১৫২ কিলোমিটার। ঢাকা থেকে দূরত্ব ৪১৪ কিলোমিটার। রাজধানী ঢাকা থেকে বাসে করে কক্সবাজার যাওয়া যায়। এছাড়া ঢাকা থেকে চিটাগাং পর্যন্ত ট্রেনে করেও যাওয়া যায়, তারপর সেখান থেকে বাসে কক্সবাজার। তবে চিটাগাং থেকে কক্সবাজার রেলপথ স্থাপনের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

এখানে আপনি পাবেন পর্যটন মোটেল, বিলাসবহুল ফাইভ স্টার হোটেল, সাধারণ হোটেল, গেস্ট হাউজ কিংবা রিসোর্ট ইত্যাদি।

যেভাবে যাবেন:
রাজধানী ঢাকা থেকে সরাসরি কক্সবাজারের বাস আছে মোটামুটি সব গুলো বাস কোম্পানিরই। শ্যামলী, হানিফ, এনা, স্টার লাইন, সোহাগ, সেন্ট মার্টিন, গ্রীনলাইন পরিবহন সহ আরো বেশ কিছু অপারেটর। নন এসির ভাড়া ঢাকা টু কক্সবাজার ৮০০ টাকা। এসি বাসের ভাড়া ইকোনমি ১৫০০/- বিজনেস ক্লাস ২০০০/-।

ঢাকা থেকে মেইন বাস পয়েন্টগুলো হচ্ছে আরামবাগ,মতিঝিল,রাজারবাগ,ফকিরাপুল,সায়েদাবাদ,পান্থপথ, কলাবাগান। এছাড়া যেতে পারেন প্রথমে চট্টগ্রামে বাস বা ট্রেনে। তারপর সেখান থেকে বাসে কক্সবাজার। চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের বাস ভাড়া ২৫০/- (নন এসি)। যারা এয়ারে যেতে চান সেই ব্যবস্থাও আছে। ঢাকা টু কক্সবাজার এয়ার ফেয়ার পরবে বিভিন্ন কোম্পানি ভেদে ৫৫০০ থেকে ৮০০০/-, এয়ারলাইন্সগুলো হচ্ছে বিমান বাংলাদেশ, নভোএয়ার, রিজেন্ট এয়ারলাইন্স। সময় লাগবে ১ থেকে ১.৫ ঘণ্টা মাত্র।

কি কি দেখবেন:
পর্যটন নগরী কক্সবাজারে গেলে আপনার চোখে ধরা পড়বে লাবণী বীচ, সুগন্ধা বীচ, ইনানি বীচ, হিমছড়ি, বৌদ্ধমন্দির, বার্মিজ মার্কেট। দেশের যে প্রান্ত থেকে আসুন না কেন বাস থামবে কলাতলি ও সুগন্ধা পয়েন্টে। প্রতিটি বীচের পয়েন্টেই পাবেন থাকার হোটেল, খাবার রেস্টুরেন্ট।

ফাইভ স্টার থেকে শুরু করে মধ্যম সারির প্রতিটা হোটেলেই নিজস্ব রেস্টুরেন্ট আছে। আপনি চাইলে সেগুলোতে খেতে পারেন অথবা চাইলে বাইরে। কোনো কোনো হোটেলে ব্রেকফাস্ট ফ্রি দিয়ে থাকে। শহরের রেস্তোরাঁগুলোর খাবারের মান এভারেজ। দাম স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বেশি। তবে যারা বাজেট ট্রাভেল করেন তারা চাইলেই খাবারের খরচ, থাকার খরচ মানিয়ে নিতে পারেন কৌশলে।

সঙ্গে যদি নিজস্ব গাড়ি থাকে তবে সুগন্ধা পয়েন্ট ঘুরে সোজা রাস্তা ধরে এগিয়ে যান ঢেউয়ের গর্জনের দিকে। সেখানে যতক্ষণ মন চায় থাকুন। পাশেই বার্মিজ মার্কেট। এখানে রয়েছে মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, চীনের তৈরি বিভিন্ন পণ্যসমূহ। হরেক রকম আচার, উপজাতি পোশাক, সামুদ্রিক ঝিনুক, শামুক ও পাথরের জিনিস।

কক্সবাজার থেকে ইনানী বিচের দূরত্ব প্রায় ২৫ কিলোমিটার। মেরিন ড্রাইভ সড়ক ধরে কক্সবাজার থেকে ইনানী যেতে হয়। কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত দীর্ঘ একশো বিশ কিলোমিটার সমুদ্র সৈকতের মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ইনানী সৈকত। অভাবনীয় সৌন্দর্যে ভরপুর এই সমুদ্র সৈকতটি কক্সবাজার থেকে রাস্তায় মাত্র আধঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত। এখানের পরিবেশ অনেকটাই নিরিবিলি, নির্জন।

চাইলে সঙ্গে থাকা কাউকে নিয়ে এখানে সাগরের জলে গা ভেজাতেও পারেন। শেষ বিকেলটা আরও রোমান্টিক। দিগন্ত বিস্তৃত সমুদ্রের নীল-নোনা জলে ধীরে ধীরে ডুবতে থাকা রক্তিম সূর্য দেখার দৃশ্য কেউই মিস করতে চায় না।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1178 বার