কোরবানির মাংসের সাথে সাতকরা মজাই আলাদা

Pub: বুধবার, আগস্ট ২২, ২০১৮ ১১:০৪ অপরাহ্ণ   |   Upd: বুধবার, আগস্ট ২২, ২০১৮ ১১:১৩ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সিলেট : সাতকরা ছাড়া কোরবানির ঈদের মাংস রান্না-কল্পনাই করে না সিলেটের গৃহিণীরা। ঈদের রসনা বিলাসে রসুই ঘরে এ ফল থাকবেই। এ কারণে কোরবানির ঈদের আগে ‘সাতকরা’ কিনতে ভিড় করেন গৃহকর্তারা। আগ্রহ বেশি থাকায় খুশি বিক্রেতারাও। সেই সুযোগে দামও বাড়ে ফলটির।

মঙ্গলবার নগরীর বন্দরবাজারসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র। বিক্রেতারা জানান, সিলেট অঞ্চলে সাতকরা সারা বছরই পাওয়া যায়। তবে কোরবানির ঈদের সময় চাহিদা বেশি থাকায় বিক্রি বেশি হয়। এ সময় আকার ভেদে সাতকরার দাম উঠানামা করে। বর্তমানে হালিপ্রতি সাতকরা ১০০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আবার কোথাও কোথাও আকারভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকায় মিলছে। আদালেবু, জাড়ালেবুর চাহিদা বেশ রয়েছে।

সিলেট অঞ্চলে রান্নাঘরে সাতকরার ব্যাপক কদর। এ অঞ্চলের গৃহিণীরা মাছ ও মাংসের তরকারি রান্নায় সাতকরা দেন। টিলাগড়ের বাসিন্দা এহসান মুন্না বলেন, কোরবানির ঈদের গরুর মাংস রান্নায় সাতকরা লাগবেই। যে কারণে তিনি তা কিনতে এসেছেন। তবে অন্য সময়ের তুলনায় ঈদের কারণে দাম কিছুটা বেশি নিচ্ছে বলে জানান তিনি।

গৃহিণী মেহনাজ জেরিন বলেন, পরিমাণ মতো সাতকরা দিলে তরকারির স্বাদ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তবে পরিমাণ অতিরিক্ত হলে উল্টো ফল হতে পারে। মাংসের সঙ্গে রান্না করলে একটি আকর্ষণীয় ঘ্রাণযুক্ত খাদ্য তৈরি হয়।

আঠারো শতকে সিলেটের সীমান্তের ওপারে ভারতের আসাম রাজ্যে ব্যাপকভাবে ‘সাতকরা’ চাষ হতো। উনিশ শতকের গোড়ার দিকে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ‘সাতকরা’ চাষ শুরু হয় সিলেটের পাহাড়ি এলাকায়। কমলা লেবুর মতো ‘সাতকরা’র গাছ আকারে লম্বা ও বড় হয়। বর্তমানে মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সিলেট জেলার পাহাড়ি অঞ্চলে ‘সাতকরা’ চাষ হয়ে থাকে। এ তিন জেলার মধ্যে সিলেট জেলায় ‘সাতকরা’ চাষ হয় সবচেয়ে বেশি।

এখন নগরীর বেশিরভাগ রেস্টুরেন্টে তরকারির মধ্যে সাতকরা দেওয়া হয়। স্থানীয় অনেকে সাতকরা দিয়ে নানা রকম আচার তৈরি করছেন। যা সাতকরার স্বাদ বাড়িয়ে তুলেছে। তাছাড়া যুক্তরাজ্য, যুক্তরাজ্য, মধ্যপ্রাচ্যে চাকরি ও ব্যবসার জন্য বসবাসরত সিলেটিরা কাঁচা অথবা রোদে শুকিয়ে সঙ্গে করে ‘সাতকরা’ নিয়ে যান। এমনকি সিলেট সফরে আসা রাষ্ট্রীয় অতিথিদের খাদ্য তালিকায় সাতকরা দিয়ে রান্না করা তরকারি রাখা হয়।

ব্যতিক্রমধর্মী আর আকর্ষণীয় ঘ্রাণের ফল ‘সাতকরা’য় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস রয়েছে, যা মানবদেহের জন্য উপকারী। সাতকরার বেশ কিছু রাসায়নিক গুণাগুণ রয়েছে। আচার হিসেবে সাতকরার কদর অতুলনীয়।

পাঠকের জন্য সিলেটের ‘সাতকরায় গরুর গোশত ভুনা’ রান্নার রেসিপি দেওয়া হলো। এই রেসিপি দিয়েছেন সিলেটের রান্না শেখার প্রতিষ্ঠান ‘গৃহিণীর’ প্রতিষ্ঠাতা কাজী তাসলীমা সায়েরা।

উপকরণ: হাড়সহ এক কেজি গরুর গোশতের সঙ্গে মাঝারি আকারের একটি সাতকরার চার ভাগের এক ভাগ ব্যবহার করা জুতসই হবে। সাতকরা কেটে ভেতরে বুকের অংশ বাদ দিয়ে মাংসের আকৃতির সঙ্গে মিল রেখে টুকরা টুকরা করতে হবে। পেঁয়াজ কুচি এক কাপ, পেঁয়াজবাটা এক কাপ, রসুনবাটা এক টেবিল চামচ, আদা আধা টেবিল চামচ, পাঁচফোড়ন ও জিরা গুঁড়া এক চা-চামচ করে, হলুদের গুঁড়া আধা চা-চামচ, মরিচ গুঁড়ো দেড় চা-চামচ, গোলমরিচের গুঁড়া আধা চা-চামচ ও তেল-লবণ পরিমাণমতো।

প্রণালি: গোশত পরিষ্কার করে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিতে হবে। এবার গোশতে মসলা মিশিয়ে সেদ্ধ করতে হবে। সেদ্ধ হলে নামিয়ে অন্য পাত্রে তেল গরম করে পেঁয়াজ কুচি লাল করে ভাজতে হবে। সঙ্গে বাটা পেঁয়াজও কষাতে হবে। কষানো মসলায় সেদ্ধ করা গোশত ঢেলে প্রায় ১০ মিনিট অল্প আঁচে ভুনতে হবে। ভুনা হলে টুকরা সাতকরা দিয়ে আরও কিছুক্ষণ কষিয়ে দেড় কাপ পরিমাণ পানি দিতে হবে। এতে সাতকরা সেদ্ধ হয়ে পানি শুকিয়ে গেলে রান্না শেষ।

লক্ষ করুন: রান্নার আগে সাতকরা সেদ্ধ করার প্রয়োজন নেই। সেদ্ধ করলে এর স্বাদ আর ঘ্রাণ থাকে না। আকারে গোল আর হালকা ওজনের সাতকরা সবচেয়ে সুস্বাদু।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1229 বার