বাধা-বিগ্ন উপেক্ষা করে পৃথিবীকে দেখছেন নাজমুন নাহার

Pub: রবিবার, অক্টোবর ৭, ২০১৮ ২:৫৩ পূর্বাহ্ণ   |   Upd: রবিবার, অক্টোবর ৭, ২০১৮ ২:৫৩ পূর্বাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

যে ইতিহাস গড়ে সে ইতিহাসকে মানুষ মনে রাখে শতাব্দীকাল। যুগ যুগ ধরে আমাদের কন্যা, জয়া, জননীদের মাঝে অনেকেই আলোর শিখা হাতে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য বেরিয়ে এসেছেন। আলোকিত করেছেন আমাদের সমাজ ও দেশের মানুষকে। আজ তরুণ প্রজন্মের মাঝে আলোর মশাল হয়ে জ্বলছেন এই সময়ের সবচেয়ে আলোচিত নারী ‘বাংলাদেশের পতাকাবাহী প্রথম বিশ্বজয়ী পরিব্রাজক নাজমুন নাহার’। তিনি শুধু পরিব্রাজকই নন, তিনি বাংলাদেশের পতাকা বহনের সাথে সাথে বিশ্ব শান্তির বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে। দেশাত্ববোধে জাগ্রত প্রেরণাময়ী নারী তিনি। বাধা, বিগ্ন, কষ্ট, মৃত্যু সব কিছুকে উপেক্ষা করে যিনি ছুটছেন লাল সবুজের পতাকা হাতে পৃথিবীর পথে পথে। অনেকেই ভ্রমণ করেন, কিন্তূ নাজমুনের ভ্রমণ এডভেঞ্চার নিঃসন্দেহে চ্যালেঞ্জিং। তিনি শুধু এক দেশ থেকে আরেক দেশে বিমানে ফ্লাই করেই যাত্রা শেষ করেন না। তিনি হাজার হাজার মাইল বাই রোডে জার্নি করেছেন পৃথিবীর এক দেশ থেকে আরেক দেশে। তিনি সেইলিং বোটে করে পার হয়েছেন সমুদ্র থেকে সমুদ্র। ভ্রমণ করেছেন অনেক দ্বীপ দেশ। সমুদ্রের গভীরে গিয়েছেন বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে। আজ তিনি হয়ে উঠেছেন তরুণ জাগরণের পথিকৃৎ। যাকে দেখে আমাদের এ প্রজন্ম এগিয়ে যাবে অনেক দূর।

এখন পর্যন্ত ঘুরেছেন ১০৮ টি দেশ। যাবেন ইউ এন অন্তর্ভুক্ত ১৯৩ দেশে। শিগ্রই যাত্রা করবেন সেন্ট্রাল এশিয়ার দেশ শেষ করে আফ্রিকার বাকি দেশে। আগামী অমর একুশে বই মেলায় আসছে তার ভ্রমণ বিষয়ক বই।

প্রথম ভ্রমণ ২০০০ সালে ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল এডভেঞ্চার প্রোগ্রামে অংশ গ্রহণের মাধমে। তার শততম দেশের মাইলফলক হয়েছে ১ জুন জিম্বাবুয়ে ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত ব্রিজের উপর! জাম্বিয়ার সীমান্তবর্তী লিভিংস্টোন শহর থেকে পায়ে হেঁটে তিনি জিম্বাবুয়ে পৌঁছান। পতাকা হাতে একশত দেশ ভ্রমণের পর জাম্বিয়া সরকরের গভর্নর হ্যারিয়েট কায়েনা তাকে ‘ফ্ল্যাগ গার্ল’ উপাধি দেন। খুব দ্রুতই বিশ্ব ভ্রমণ শেষ করার ইচ্ছে নাজমুনের।

শততম দেশ জিম্বাবুয়েতে। এ যেন জীবনের সেরা মুহূর্ত


জীবন দর্শনের ভাবনা

নাজমুনের জীবন দর্শনের কথা জানতে চাইলে তিনি খুব সাবলীল ভাবে বলেন তার কথা গুলো-

আমি যখন ভাবি মহাকাশের অন্য গ্রহ থেকে পৃথিবীর দিকে তাকালে পৃথিবীকে মনে হয় একটা ব্লু ডট। এই ব্লু ডট মহাশূন্যের মধ্যে ভাসমান একটি গ্রহ, যার নাম পৃথিবী, যেখানে আমরা বসবাস করি। বিভাজন করি মানুষে মানুষে! অল্প সময়ের জন্য আসা এই পৃথিবীতে ভেদাভেদে মেতে উঠি, কিন্তু একবার হারিয়ে।

আর তাইতো সীমানার বাইরে যে আকাশ আছে আমি সেখানে উড়তে চাই। আমি এই পৃথিবীতে এসেছি সৃষ্টির অপরিসীম রহস্যকে অনুধাবন করার জন্য। বিধাতা আমাকে পাঠিয়েছে এই পৃথিবীতে এক্সপিরিয়েন্স করার জন্য। আর যখনি প্রকৃতির মাঝে আমি নিজেকে একাকার করে দিতে পারবো তখনি আমি এই পৃথিবীকে এক্সপেরিয়েন্স করা শুরু করবো। তখনি আমি সৃষ্টির গ্রেটনেসের সাথে কানেক্ট করতে পারবো! আর এই সৃষ্টির রহস্যের মাঝে আমি যা কিছু দেখবো, শিখবো তা আমি এই পৃথিবীর সাথে শেয়ার করবো। তরুণদের মাঝে যে শক্তি সম্ভাবনা আছে তাহাদের সেই শক্তির সাথে আমি নিজেকে একাকার করতে চাই। দুঃখ কষ্ট আমাদের থাকবেই, তার মাঝেও আমাদের নতুন নতুন স্বপ্ন দেখতে হবে।

মহা ভারত যিনি লিখেছেন তাকে অনেক দুঃখ কষ্ট বেদনার মধ্যে দিয়ে জীবনের অনেক সময় পার হতে হয়েছিল। আর তাইতো তিনি মহাভারত লিখতে পেরেছিলেন। আমার কাছে মনে হয় জীবনে যদি দুঃখ কষ্ট না থাকে তাহলে ভালো কিছু আসবে না। যারা নিজেকে দুঃখী ভেবে পড়ে থাকেন তাদের সময় কিন্তু চলে যাচ্ছে। আমাদের এই সমস্যা বিজড়িত পৃথিবীতে যে সমস্যার সমস্যার সমাধান না করে নিজেকে সমস্যার মধ্যে নিজেকে আটকে রাখলো, সে কিভাবে ছুঁবে ওই বিশালতা।

শুধু স্বপ্ন দেখলে হবে না, স্বপ্নের জন্য কাজ করে যেতে হবে। তবেই অসীমতাকে তুমি ছুঁতে পারবে! ধরেন, আপনার আঙিনায় একটা আর্চায্য বৃক্ষ আছে, আপনি যদি পানি না ঢালেন ওই বৃক্ষে তাহলে কিন্তু বৃষ্টি ধীরে ধীরে মরে যাবে, আর পানি ডাললে কিন্তু বৃক্ষ একসময় আপনাকে ছায়া দিবে, ফল দিবে। আমাদের ভেতরে যে হিডেন ট্রেজার আছে, তা বের করে আনতে হবে। একজন যদি কেউ এগিয়ে যায় তবে তার সাথে অনেকে এগিয়ে যাবে। একজনের সফলতার আলোর সাথে আলোকিত হতে পারে একটি পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র। শুধু তাই নয় আমি যদি এক পা এগিয়ে যাই তবে বিশ্ব এগিয়ে যাবে পাঁচ পা। তাইতো আমাদের সবাইকে সবাইকে সবার এগিয়ে দিতে সহযোগিতা করতে হবে।

তবে আমাদের কথা, তার স্বপ্ন, দর্শন, পজিটিভ চিন্তা, সাহস, শক্তি, আত্মবিশ্বাস, মেধা-মনন, বিনয়, বাবার অনুপ্রেরণা, পরিবারের সহযোগিতা, বিপদে নিজেকে রক্ষার কৌশল, নিজের পরিশ্রম সবই তাকে নিয়ে যাচ্ছে স্বপ্ন পূরণের বিশ্বজয়ের দ্বারপ্রান্তে।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1148 বার