জীবনের মাইডে

Pub: শুক্রবার, নভেম্বর ৩০, ২০১৮ ৩:২৬ অপরাহ্ণ   |   Upd: শুক্রবার, নভেম্বর ৩০, ২০১৮ ৩:২৬ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সাব্বির আহমেদ(ইবি),ঘড়ির কাঁটার গতি যেভাবে উর্দ্ধমূখী,আমাদের জীবনের গতিটা ঠিক ততটাই নিম্নমূখী।ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টানো হয় ঘড়ির কাঁটার টিক টিক শব্দের কম্পনে।ঘড়ির গতিময়তা আর আমাদের জীবনের শিথিলতার একমাত্র এবং অন্যতম কারণ মনে হয় আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি। ঘড়ির কাঁটাগুলো যেমন সারাদিন শেষে নতুন দিনের সূত্রপাতের জন্য উজ্জীবিত থাকে,আমরা ঠিক ততটাই নিমজ্জিত হয় অন্ধকারে।

বর্তমানে ঘড়ির কাঁটার মতো ২৪ ঘন্টার এক মায়াবি জীবনের সূত্রপাত ঘটিয়েছে ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারের মাইডে নামক ফিচার।বর্তমানে ফেসবুকের নাম শুনে নাই এইরকম খুব কম মানুষই আলোর সংস্পর্শে দিনাতিপাত করছে।আর ফেসবুকের নতুন সংযোজন মাইডে/ইউর স্টোরি নামক ফিচারটি বর্তমানে ব্যবহারকারীদের মাঝে তুমুল জনপ্রিয়। এখন যেখানে সেখানে মানুষ ‘ইনভিজিবল ডিজিজ’ সেলফির এক ঝলক মাইডে তে সংযোজন করতে ভুলে না।

এখনকার মাইডে ডিজিজ যেন এক লাগামহীন পাগলাঘোড়া।যেখানে সেখানে যখন তখন মাইডে না দিলে যেন পেটের ভাত হজম হয় না আমাদের। রেস্টুরেন্টে খেতে গেলে খাওয়ার আগে মাইডে দেওয়াটা যেন এখন একটা রীতিতে পরিণত হয়েছে।খাবারের ছবি দেখে হরেক রকমের মানুষ নানান রকম কমেন্ট করবে এখন হয়তো সেই আশাতেই আমরা রেস্টুরেন্টে যায়।বিষয়টা অনেকটা এইরকম ‘খাওয়াটা মূখ্য নয়,মাইডে দেওয়া চাই’।আজকাল যা কিছু ঘটে আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে তার সবই যেন মাইডের অংশ হওয়া চাই। নিজস্বতা বলে আজ কিছু নাই,সবই পাবলিক।

নিজস্বতা বলতে কি বোঝায়,আমরা মনে হয় তার সংজ্ঞা টাই ভুলে গেছি।কারণটা নিশ্চয় আমরা নয়,আমাদের মেকি আধুনিকতা। যেখানে সবকিছু প্রদর্শন করাটাকেই সামাজিকতা বলে গণ্য করা হয়।আর তার বিপরীত হলে আপনি এই মাপকাঠিতে অসামাজিক প্রাণী হিসেবে খুব সহজেই স্বীকৃতি অর্জন করবেন।আমার কথা এই মাইডের বিপক্ষে নয়,মাইডে দেন তবে তার একটা নিয়ন্ত্রণ থাকাটা প্রয়োজন নিজেদের স্বার্থেই।

জীবন এমন একটা খেলা, যেখানে পরাজয়ের শঙ্কা প্রতি পদে পদে,প্রতি পরতে পরতে । তবুও বেঁচে থাকার জন্য আমাদের চেষ্টার কোন কমতি থাকে না।এবং আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে আমরা সফলও হয়ে থাকি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই।বর্তমানে আমাদের তরুণ প্রজন্মের বড় একটা অংশ হতাশাগ্রস্ত।জীবনের প্রতি বেশিরভাগ তরুণ তরুণীই একরকম বিরক্ত।তাদের এই হতাশার মূলে আছে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি।বর্তমান তরুণ সমাজ যদি একবার তাদের এই দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম হয় তাহলেই হয়তো সব সমস্যার সমাধান মিলবে অনায়াসেই।

আমরা বর্তমানে মাইডে দেওয়ার জন্য যেভাবে অত্যন্ত বিচক্ষনতার সহিত আমাদের প্রাত্যহিক কর্মকান্ড গুলোকে পর্যবেক্ষণ করি,যদি তার সামান্যতমও আমাদের বাস্তব জীবনে করি তাহলে আমাদের জীবনটা অর্থপূর্ণ হয়ে উঠবে অনেকাংশেই। আমরা যদি জীবনের মাইডেতে প্রতিদিন পর্যবেক্ষণ করতে পারি যে আমরা কি করছি,কেন করছি,যা করছি সেটা কি সঠিক না বেঠিক? তাহলে মনে হয়না আমাদের জীবনে আর কোন হতাশা বাসা বাঁধতে পারবে।আমরা সেদিনই জীবনের অর্থ বুঝে জীবনকে অর্থপূর্ণ করতে সক্ষম হবো যেদিন আমরা জীবনের মাইডে পর্যবেক্ষণে দৃষ্টিপাত করবো।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1055 বার