সমাজের লোক আমাকে হেয়ালি করে জিজ্ঞাসা করে, ‘জৈবিক চাহিদা কিভাবে মিটাই?’

Pub: শুক্রবার, মার্চ ২৯, ২০১৯ ২:১৭ অপরাহ্ণ   |   Upd: শুক্রবার, মার্চ ২৯, ২০১৯ ২:১৭ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সেই ক্লাশ এইটে থাকতে একজনের সাথে প্রেম হয়েছিল আমার। মাস্টার্স শেষ অবধি আমাদের প্রেম ছিল। দুনিয়াজোড়া মানুষের কাছে আমরা ছিলাম “আদর্শ জুটি”। তারপর পারিবারিক সমস্যার জের ধরে সে হুট করেই অন্য একটি মেয়েকে বিয়ে করে নিল। আমাকে জানালোনা কিছুই। প্রায় মাস তিনেক পর আমার বান্ধবীর সাথে তার দেখা হলে সে বলে, “ওর (আমার) সামনে দাঁড়ানোর মুখ নেই আমার। ওকে কিভাবে নিজের বিয়ের কথা জানাই?” এতো বছরের প্রেম হারিয়ে কেন জানিনা এসব প্রেম ভালোবাসা চিরতরে হারিয়ে গেল আমার জীবন থেকে। আমি কোনভাবেই অন্য কাউকে জীবনসাথী হিসেবে মানার জন্য প্রস্তুত হতে পারিনি। মানুষটাকে যদি ভালোই বাসতে না পারলাম তবে কি লাভ বিয়ে করে? এসব সাতপাঁচ ভেবে আমার আর বিয়ে করা হল না। বর্তমানে প্রাইভেট ফার্মে বেশ ভাল বেতনের চাকরি করি। সেই চাকরির সুবাদে নিজের একটা এপার্টমেন্ট হয়েছে, স্কুটি হয়েছে। সংসার বলতে কিছু নেই..আমার একলা ঘর, বারান্দা, আসবাব, কাজের বুয়া এ দিয়েই জীবন কেটে যাচ্ছে

সমাজের লোক আমাকে হেয়ালি করে জিজ্ঞাসা করে , “জৈবিক চাহিদা কিভাবে মিটাই?” কেউ তিরস্কার করে বলে, “অফিসের বসেরা আছেনা চাহিদা মেটাইতে? ফ্রিতে সার্ভিস পাইলে বরের কি দরকার?” বসেরা মাঝে মাঝেই গায়ে হাত দেয়ার চেষ্টা করে। বোন বলে মায়া দেখিয়ে কাছে এসে নোংরা স্পর্শ দেয়ার চেষ্টা করে। এইসব কিছু সামলে নিয়েই চলছে আমার জীবন.. অবিবাহিত জীবন। বুঝলাম, জৈবিক চাহিদাই এখনকার বিয়ের ভিত্তি..ভালোবাসা মূল্যহীন। পাশাপাশি শুতে পারলেই ওটাকে স্বামী স্ত্রী বলে। ভালোবাসায় কি যায় আসে? একজন মানুষকে কতোটা ভালোবাসলে ভালোবেসে নিঃস্ব হয়েছি কথাটা সত্য হয়ে যেতে পারে নিজের জীবন দিয়ে শিখেছি।

আমার মদ খাওয়ার অভ্যাস হয়েছে। চুকচুক করে মদ খাবার কারণে সমাজের বিশ্রী মন্তব্য, লালসার চোখ সমস্ত ভুলে একটা আমেজের মাঝে থাকতে পারি। মিনিবারের বাহারি মদ আমাকে সঙ্গ দেয়। আমার বিশেষ শখের মাঝে আছে ব্ল্যাকম্যাজিক। কাজটা আমি বেশ কয়েক বছরের সাধনায় এক তান্ত্রিকের কাছ থেকে শিখেছি। কাপড়ের পুতুল, সুঁই, কাফনের কাপড়, রঙ্গিন সূতা, কালো আলখাল্লা, মোমবাতি আরো কিছু জিনিস এই কাজে লাগে। বাদুড়, মৃত প্রাণীর যকৃৎ, নাড়িভুড়ি যোগাড়ে কিছু অসুবিধায় পড়তে হয় আমাকে মাঝে মাঝে। আধো অন্ধকার রাতে বারান্দায় দাঁড়িয়ে জিরো পাওয়ারের বাল্ব জ্বালিয়ে ওপাশের এপার্টমেন্ট এর প্রেমের দৃশ্য দেখা যায়। আমি নিরাসক্ত দৃষ্টিতে মাঝে মাঝে ঢুলুঢুলু লাল চোখে তাদের দিকে তাকিয়ে থাকি।

বাড়ির পাশেই গোরস্থান। বৃষ্টি হলে সেখানে সমস্ত কবর একসাথে সাম্যবাদী ভঙ্গীতে ভিজতে থাকে। ধনী ভিজে, গরীব ভিজে, নারী ভিজে, পুরুষ ভিজে, হিজড়া ভিজে। আগে আমরা দুজন মুষলধারায় বৃষ্টি হলে অসহায়ের মতো ভিজতাম। আজ বাইরে ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে। ইচ্ছেহল, ভুডু বিদ্যা দিয়ে পুরুষ লাশগুলো জ্যান্ত করে ফেলি। লাশগুলোর সাথে সঙ্গমে মেতে উঠি বৃষ্টিস্নাত রাতে। কিন্তু পুরুষকে আমি ঘৃণা করি। গ্লাসের পর গ্লাস মদ খেয়ে ফ্লোরে গড়াগড়ি খাচ্ছি আমি। গায়ে কোন কাপড় ছিলনা। আয়নার দিকে চোখ পরতেই খুব আনন্দময় লাগছিল আমার, আবার অস্বস্তিও লাগছিল। স্নায়ুকে নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য আবারো গ্লাসভর্তি মদ ঢেলে একটু একটু করে খাওয়া শুরু করি। আবেদনময়ী ভঙ্গিতে চুমুক দিয়ে খাচ্ছি একেক গ্লাস মদ।

আজকাল মুখ খারাপ হয়ে গেছে। রাগে চিৎকার করে বলে উঠি, শুয়োরের বাচ্চা রা ! বলবার সময় মুখ দিয়ে গলগল করে রক্ত বের হতে থাকে আমার। শেষকালে কিনা কোথাকার কোন প্রেমিকের হাতে নিজের জীবনটাকে এভাবে সপে দিতে হল। বারো বছরের প্রেম ছিল আমার…বিয়ে করার কথা ছিল আমার…!

Romana Akter – শুদ্ধবালিকা


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ