শখের পাখি পুষে লাখপতি

Pub: বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৪, ২০১৯ ৪:৩৩ অপরাহ্ণ   |   Upd: বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৪, ২০১৯ ৪:৩৩ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বরিশাল প্রতিনিধি:একটু সৃষ্টিশীল হলেই মনের শখকে বড় করে নিতে পারেন সাধ্য মতো। আর এই শখ একদিন আপনার জীবনের পাথেয় হয়ে ধরা দিতে পারে জীবিকার নতুন পর্বে।

আসুন, এমন একজন ব্যক্তি সম্পর্কে জানি, যিনি শখকে জীবিকার পথ বানিয়ে নিয়েছেন। মামুনুর রশিদ রনি তেমনই একজন যিনি নিজের চেষ্টায় শখকে রূপ দিয়েছেন জীবিকা নির্বাহের মাধ্যম হিসেবে। সবাই তাকে চেনে পাখাল রনি নামে। ঘরে থাকেন, ঘরেই তার দুনিয়া। স্কুল জীবন থেকে নিজের আয়ে চলছেন এই মানুষটি। সংসার স্বচ্ছল হলেও তিনি ইচ্ছা করেই মুখাপেক্ষী হননি সংসারের।

রনি মনে করেন, নেশা ও বখে যাওয়ার যুগে তার চেষ্টা হতে পারে আর সব পরিবারের কাছে উদাহরণ। আসলে কী করেন রনি? তাহলে শুরুর দিকের ঘটনা জেনে নেওয়া ভালো। মাধ্যমিকের গণ্ডি তখনও পার হয়নি। শখ করে বাড়ির পাশের উচু গাছের মগডাল থেকে টিয়া পাখির ছানা এনে পুষতে শুরু করেন। একদিন টিয়া পাখির ছানাটি খাঁচা থেকে উড়ে গেলে দাগ কাটে রনির মনে, দুঃখ লাগে।

এরপর চিন্তা বদলান তিনি। বাজার থেকে কিনে আনেন একজোড়া অস্ট্রেলিয়ার বুনো পাখি বাজরিগার। সেই শুরু। এরপর আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি। প্রথমে রনির পরিবারের মানুষ আপত্তি করতো। কিন্তু এখন এটিকে ভালো ভাবেই মেনে নিয়েছেন তারা। পুরো বিল্ডিংয়ের এক ফ্লাটের রুম ছেড়ে দিয়েছেন। সেই সুযোগকে হাতছাড়া করেননি রনি। গড়ে তুলেছেন পাখির রাজ্য।

মাসখানেক আগে দেড় লাখ টাকার পাখি বিক্রি করেছেন। আর বর্তমানে তার খাঁচায় ১০০ জোড়া বিভিন্ন প্রজাতির বাজরিগার রয়েছে। আরও আছে লাভ বার্ড, ফিন্স আর ককাটেল।

ঝালকাঠি জেলা শহরের বাসস্ট্যান্ড থেকে পশ্চিমে মূল শহরের মধ্যে বাকলাই গলির বাসিন্দা রনি রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে সরকারি ব্রজমোহন কলেজ থেকে মাস্টার্স শেষ করেছেন। বর্তমানে বরিশাল ‘ল’ কলেজে লেখাপড়া করছেন।

তিনি জানান, বিভিন্ন প্রজাতির বাজরিগারের বাচ্চার জন্ম এখন তার খাঁচাতেই হয়। পর্যাপ্ত যত্ন করতে পারলে বাজরিগার পুষে একজন মানুষ সাবলম্বী হতে পারেন। চাকরির জন্য ঘুষ নিয়ে কারও পিছনে ঘুরতে হয় না।

রনির দেওয়া তথ্য মতে, বাজরিগার বিক্রি করে প্রতি মাসে কমপক্ষে ৩০/৪০ হাজার টাকা আয় করতে পারছেন। বর্তমানে রনি ব্যক্তিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাজরিগার পালনের পরিধি আরও বড় করবেন। 

তিনি আরও বলেন, আমাকে দিয়ে চাকরি হবে না। আমি যে পাখির প্রেমে মজে গেছি।

দীর্ঘ ১২ বছর ধরে পাখি পালনের অভিজ্ঞতা থেকে এই পাখাল বলেন, অনেকেই পাখি পালন শুরু করেই ভাবেন লাভ হচ্ছে না কেন? আবার অনেক দোকানি ক্রেতাদের সাথে প্রতারণা করেন অল্পতে অধিক মুনাফা লাভের আশায়। তারাই মূলত পাখি পালন ও সাবলম্বী হওয়ার জন্য মারাত্মক হুমকির। রনি মনে করনে, ধৈর্য ধারণ করতে হবে। যখন আপনি দেখবেন আপনার শখ ব্যবসায় রূপ নিচ্ছে তখন ক্রেতাদের না ঠকালেই সহজেই আপনার একটি বাজার সৃষ্টি হয়ে যাবে। তখন আর কারও মুখাপেক্ষী হতে হবে না।

বস্তুত ধৈর্য ও সততা ছাড়া ক্ষুদ্র উদ্যোগ থেকে সাবলম্বী হওয়া সম্ভব নয় বেলে জানালেন একজোড়া পাখি থেকে হাজারো পাখি উৎপাদনকারী মামুনুর রশিদ রনি।

রনি যে শুধু পাখি পালন করে সামলম্বী তা কিন্তু নয়; সারাদেশে সুনাম কুড়িয়েছে ইতোমধ্যে। অর্জন করেছেন বেশ কয়েকটি পুরস্কার ও খ্যাতি। চলতি মাসেই হ্যামস্টার সেক্টরে দেশসেরা ব্রিডার এ্যাওয়ার্ড লাভ করেছেন রনি।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1081 বার