শত শত কাঁকড়া-বিচ্ছু ঘোরাফেরা করলেও কামড়ায় না!

Pub: মঙ্গলবার, এপ্রিল ৩০, ২০১৯ ২:৫৯ অপরাহ্ণ   |   Upd: মঙ্গলবার, এপ্রিল ৩০, ২০১৯ ২:৫৯ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শত শত কাঁকড়া আর বিচ্ছু। এখানে সেখানে ঘুরছে, চাইলে হাত দিয়ে ধরাও যায় কিন্তু কামড়াচ্ছে না। শুনতে অবাক মনে হলেও এমন কাঁকড়া-বিচ্ছুর বসবাস  সৈয়দ শরফুদ্দিন শাহ উইলিয়ায়তের এই দরবারে। 

ভারতের পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের আমরোহায় এ দরবার অবস্থিত। যেখানে শত শত কাঁকড়া, বিচ্ছু ঘুরে বেড়ায়। আপনি তাদের পাশে বসে থাকলেও তারা কামড়াবে না। হাতে তুলে নিলেও হুঁল ফোটাবে না। এমনকি, যদি সঙ্গে করে নিজের বাড়িতে নিয়ে যেতে ইচ্ছা করে, যেতেই পারেন। বাড়িতেও আপনাকে দংশন করবে না বিষাক্ত কাঁকড়া কিংবা বিচ্ছুর দল।

তবে বাড়িতে কাঁকড়া, বিচ্ছু নিতে আছে বিশেষ শর্ত। দরবার থেকে কাঁকড়া-বিচ্ছু বাড়িতে নিয়ে যেতে গেলে মানতে হবে নির্দিষ্ট একটি সময়সীমা। সেই মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই কাঁকড়া বা বিচ্ছু দরবারে ফিরিয়ে দিতে হবে। অন্যথায় বিপত্তি ঘটবে। এমনকি এক সেকেন্ডেরও বেশি দেরি হলেই এসব কাঁকড়া বা বিচ্ছু কামড় মারবে!

আশ্চর্য হলেও ঘটনাটি সত্যি। অন্তত স্থানীয়রা এমনই বলছেন। তাদের দাবি, এই ‘ম্যাজিক’এর পিছনে রয়েছে দরবারের  আদি বাসিন্দা, প্রয়াত সুফিসাধক শাহ উইলিয়ায়ত, যিনি অত্র এলাকায় দাদা শাহ উইলিয়ায়ত নামেই পরিচিত। জনশ্রুতি অনুযায়ী, ত্রয়োদশ শতকে এই সুফিসাধক ইরাক থেকে উত্তরপ্রদেশের আমরোহার এই দরগায় আসেন। কিন্তু প্রবেশাধিকার পান না। তাঁকে বাধা দেন গ্রামেরই অন্য এক সুফিসাধক শাহ নাসিরুদ্দিন।

এলাকা থেকে চলে যাওয়ার জন্য নাসিরুদ্দিন তাঁকে বলেন, এখানে তিনি থাকতে পারবেন না। কারণ, এলাকার সাপ-বিচ্ছু তাঁকে এখানে থাকতে দেবে না। তখন প্রত্যুত্তরে শাহ উইলিয়ায়ত বলেন, ‘আমি যেখানে থাকব, সেখানে সাপ-বিচ্ছু কখনও আমাকে বা অন্য কাউকে কামড়াবে না।’ তার পর থেকেই ওই দরবারে যেই আসুক, কাউকেই কাঁকড়া বা বিচ্ছু  কামড়ায় না বলে স্মৃতি রোমন্থন করে জানালেন দরগার বর্তমান খাদেম।

কিন্তু এটা কীভাবে সম্ভব? হাসান আসকরি নামে এক স্থানীয় ব্যবসায়ীর যুক্তি, ‘এই দরগায় কাঁকড়া, বিচ্ছু নাকি কামড়ায় না! হতে পারে এই দরগায় ঘোরাফেরা করা সব কাঁকড়া বিছের বিষ আগে থেকে বের করে নেয়া হয়। তাই তারা কামড়ায় না।’


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ