মাহে রমজান আসসালাম

Pub: বৃহস্পতিবার, মে ২, ২০১৯ ১০:০৫ অপরাহ্ণ   |   Upd: বৃহস্পতিবার, মে ২, ২০১৯ ১০:০৫ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মাওলানা এম.এ.করিম ইবনে মছব্বির:
রহমতের প্রথম দশ দিন
আজ পহেলা রমজানুল মোবারক ১৪৪০ হিজরী, বছর ঘুরে ফিরে এসেছে আমাদের মাঝে রহমত, মাগফিরাত ও দোযখ থেকে নাজাতের মাস রমজান। যে বরকতময় মাসে প্রিয়নবী (সা.) এর উপর অবতীর্ণ হয়েছিল সমগ্র বিশ্বের মানবজাতির একমাত্র পরিচালনার গাইড মহাগ্রন্থ আল-কোরআন।

আরবী শব্দ সাওমের বহুবচন হচ্ছে সিয়াম। আভিধানিক অর্থ বিরত থাকা। আর ইসলামের পরিভাষায় এর অর্থ হচ্ছে যে, সুবহে সাদিক থেকে শুরু করে সূর্যাস্ত পর্যন্ত যে কোন রকমের পানাহার ও যৌনকর্ম থেকে বিরত থাকা।

এ সম্পর্কে হাদীসে কুদসীতে ইরশাদ হয়েছে যে, আদম সন্তানের নেক আমলের প্রতিদান দশ থেকে সত্তর গুন পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। আল্লাহ পাক বলেন, সিয়াম আমার জন্য এবং এর প্রতিদান আমি নিজেই। কেননা সিয়াম পালনকারীরা একমাত্র আমারই সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পানাহার ও প্রবৃত্তির চাহিদা পরিত্যাগ করে থাকে।

কোরআনুল কারীমে এরশাদ হয়েছে ইয়া আইয়ুহাল্লাজিনা আমানু কুতিবা আলাইকুমুস সিয়ামু কামা কুতিবা আলাল্লাজিনা মিন কাবলিকুম তাত্তাক্বুন। অর্থাৎ হে ঈমানদারগণ তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে। যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর ফরজ করা হয়েছিল। যাতে তোমরা তাক্বওয়া বা সাবধানতা অবলম্বন করতে পার।

রমযান মাসঃ– এ মাসে অপ্রাপ্ত বয়স্ক, রোগী, মুসাফির, পাগল, হায়েজ নেফাস সম্পন্ন মহিলা ও শারয়ী পরিভাষায় অক্ষম ব্যতীত প্রত্যেক নর নারীর উপর রোজা পালন করা ফরজ।

রোযার নিয়তঃ- নাওয়াইতু আন আছুম্মা গাদাম মিন শাহরী, রমযানাল মুবারাকি, ফারদাল্লাকা ইয়া আল্লাহু ফাতাক্বাব্বাল মিন্নি ইন্নাকা আনতাস সামিউল আলীম। অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমি আগামীকাল রমযানের রোযা রাখার নিয়ত করছি। যা তোমার পক্ষ থেকে ফরজ করা হয়েছে। সুতরাং আমার পক্ষ থেকে তা কবুল কর। নিশ্চই তুমি সর্বশ্রোতা সর্বজ্ঞ।

সেহেরী ঃ- সেহেরী খাওয়া সুন্নত। মহানবী (সাঃ) এরশাদ করেন যে, আমাদের এবং আহলে কিতাবের (ইহুদী-নাছারা) রোযার মধ্যে পার্থক্য হলো আমরা সেহেরী খাই ওরা খায় না। তিনি আরোও বলেন তোমরা সেহরী খাও, কারণ এর মধ্যে বরকত নিহিত আছে।

সেহরীর সময়ঃ ঃ- হাদীসের আলোকে জানা যায় যে, সেহরী খাওয়া রাত্রির শেষভাগেই উত্তম। হযরত যায়েদ ইবনে ছাবিত (রাঃ) হুজুরের যামানার কথা বলতে গিয়ে বলেন যে, আমরা মহানবীর (সাঃ) এর সাথে সেহরী খেয়েছি। তারপর নামাযে (ফজরের জন্য) দাড়িয়েছি। জিজ্ঞাসা করা হলো উভয়ের (সেহরী ও নামাযের) মধ্যে কতটুকু ব্যবধান ছিল? হযরত যায়েদ (রাঃ) বললেন পঞ্চাশটি আয়াত তেলাওয়াত করতে যতটুকু সময় লাগে ততটুকু।

ইফতার ঃ- সূর্যাস্তের পরপরই ইফতার করা উত্তম। মহানবী (সাঃ) বলেন মানুষ ততদিন কল্যাণের মধ্যে থাকবে, যতদিন তারা ইফতারের সময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করে নেবে।

ইফতারের দোয়া ঃ– আল্লাহুম্মা লাকা ছুমতু ওয়াআলা রিযকিকা আফতারতু। অর্থাৎ হে আল্লাহ আমি তোমার নামে রোযা রাখছি এবং তোমার রিযিক দ্বারাই ইফতার করছি।

ইফতার করানোর ফজিলত ঃ- মহানবী (সাঃ) এরশাদ করেন যে, যে ব্যক্তি কোন রোযাদারকে ইফতার করায় সে উক্ত রোযাদারের সমান ছওয়াব পায়। অথচ উক্ত রোযাদারের ভাগ হতে কিছু মাত্র কম করা হবে না।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ