দোযখের কঠিন আযাব থেকে মুক্তির শেষ ১০ দিন শুরু

Pub: সোমবার, মে ২৭, ২০১৯ ৪:৫৯ অপরাহ্ণ   |   Upd: সোমবার, মে ২৭, ২০১৯ ৪:৫৯ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মাওলানা এম. এ. করিম ইবনে মছব্বির:

আমাদের নিকট থেকে চোখের পলকের মত বিদায় নিয়েছে রহমত এবং মাগফেরাতের ২০টি দিবস। আজ থেকে শুরু হল দোযখ থেকে মুক্তির ১০টি দিন রহমত এবং মাগফেরাতের চাদরে যখন আচ্ছাদিত তখন আল্লাহ পাকের কাছে আমরা আশাবাদী, পবিত্র রমজানুল করিমের পূর্ণাঙ্গ ইবাদত দ্বারা আমরা দোযখের আগুনকে আমরা দূরে রাখব ইনশাআল্লাহ।

হজরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) থেকে বর্ণিত- নবীয়ে করিম (সা.) বলেন, যখন রমজান শরীফ শেষ দশক উপস্থিত হতো তখন নবীয়ে করিম (সা.) লুঙ্গি শক্ত করে বাঁধতেন অর্থাৎ রাত্রি জাগতেন ও পরিবারের সদস্যদের জাগিয়ে তুলতেন (বুখারী শরীফ- ১৯২০, মুসলিম শরীফ- ১১৭৪)

নবীয়ে করিম (সা.) আরও বলেন, রমজানের শেষ দশকে এমন মুজাহাদা করতেন যা তিনি অন্যসময় করতেন না। (মুসলিম শরীফ- ১১৭৫) পবিত্র রামজানুল করিমের এই শেষ আমরা বেশি বেশি করে মহান আল্লাহপাকের নিকট রমজানের দশক দোযখ থেকে পানাহ চাইবো এবং বেহেশত পাওয়ার আশা করবো।

হজরত উম্মে ইসমত (রা.) হতে বর্ণিত- নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেন। নবীয়ে করিম (সা.) আরও বলেন, রমজানের শেষ দশকে আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন অসংখ্য গুনাহগারদিগকে দোযখের কঠিন আযাব থেকে মুক্তি দান করেন। দোযখ থেকে সেই মুক্তির জন্য আমরা মহান রাব্বুল আলামিনের নিকট প্রতিনিয়ত বেশি বেশি তাওবা ও ইসতেগফার করব, আল্লাহ পাক আমাদিগকে দোযখের কঠিন শাস্তি থেকে মুক্তি দান করেন।

হজরত উম্মে ইসমত হতে বর্ণিত- নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেন, কোনও মুসলমান যখনই কোনও পাপ করে তখন যে ফেরেশতা তা লেখার কাজে নিয়োজিত থাকেন তিনি তিন ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেন। যদি সে এর মধ্যে ইস্তেগফার করে তাহলে এই পাপ তার আমলনামায় লিপিবদ্ধ করেন না এবং তার জন্য আল্লাহ তাকে কেয়ামতের দিন শান্তি দেবেন না। (মুস্তাদারাকে হাকিম)

যার আমলনামায় বেশি ইস্তেগফার থাকবে সে কামিয়াব।

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে বুসর (রা.) হতে বর্ণিত- নবী করিম (সা.) বলেন, সে ব্যক্তির অবস্থা অতি উত্তম, কেয়ামতের দিন যার আমলনামায় প্রচুর পরিমাণে ইস্তেগফার পাবে। (ইবনে মাজাহ)

মহান রাব্বুল আলামিন আমাদের ওপর কত না মেহেরবান প্রথম রমজান থেকে শুরু করে আজ ২১ রমজান চলে যাচ্ছে। রমজানের দু-একদিন আগে দেখা গেছে, প্রচণ্ড গরম। আমরা অনেকেই ভাবছিলাম, গরমের কারণে রোজা রাখাটা একটু কষ্টকর হবে। কিন্তু আমাদের আল্লাহ আমাদের সেই কষ্ট থেকে মুক্তি দিলেন। দেখা গেল, রমজানের প্রথম দিন থেকেই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন এবং মাঝে মধ্যে বৃষ্টি। এটাই প্রমাণিত হয়, আল্লাহ পাক আমাদের ওপর কতই না দয়ালু এবং ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখেন।

হযরত আবু সাইদ (রা.) হতে বর্ণিত- নবী করিম (সা.) বলেন, শয়তান বলেছিল, হে আমার প্রভূ তোমাদের সম্মানের শপথ। আমি তোমার বান্দাদের বিপথগামী করতেই থাকব যতক্ষণ তাদের রূহ শরীরে বিদ্যমান থাকে। তখন আল্লাহ বলেছিলেন, আমি আমার সম্মান, পরাক্রম ও উচ্চ মর্যাদার শপথ করে বলছি, আমি তাদের ক্ষমা করতেই থাকব, যতক্ষণ তারা আমার নিকট ক্ষমা চাইতে থাকবে। (আহমদ)

হজরত ছাওবান (রা.) থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন নবী করিম (সা.) নামাজ হতে অবসর হয়ে তিনবার ইস্তেগফার করতেন এবং এভাবে দোয়া করতেন। আল্লাহুম্মা আন্তাস্সালাম ওয়ামিনকাস্সালাম তাবারাক্তা ইয়া যালযালালি ওয়াল ইক্রাম অর্থাৎ হে আল্লাহ তুমি শান্তিময়। তোমার হতেই শান্তি লাভ হয়। তুমি বরকতময়। হে পরাক্রম ও সম্মানের অধিপতি। (মুসলিম শরীফ)

রমজানের শেষ দশকে প্রত্যেক মুমিনরা এই দোয়াটি বেশি বেশি পাঠ করব আল্লাহুম্মা আজিরনা ওয়া খালিসনা মিনান্নার।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ