fbpx
 

লক্ষী কাকিমার না বলা গল্প

Pub: রবিবার, ডিসেম্বর ৮, ২০১৯ ৫:৩১ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

একে কুদরত পাশা

লক্ষী রানী দাস জীবন সংগ্রামে বিজয়ী এক মহিয়সী নারী। তিনি সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার মধুপুর গ্রামের বাসিন্ধা। উনার দুই মেয়ে ও তিন ছেলে। আমার গ্রামের পাশের গ্রামে উনান বসবাস হলেও আমাদের দুপরিবারে রয়েছে গভীর সম্পর্ক সে হিসেবেই উনি কাকি মা।
উনার দুই ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে। তারা নিজ যোগ্যতায় এবং কাকিমার প্রচেষ্ঠার আজ প্রতিষ্টিত। বড় মেয়ে ঊষা রানী সরকার, একজন সুপ্রতিষ্ঠিত গৃহিণী। ভিটেমাটি-হীণ অজ পাড়া গাঁয়ে থেকে প্রতিটি সন্তানকে শিক্ষার আলো দেখিয়েছে। স্বামীহারা হওয়ার পরও স্ব-উদ্যোগে সংসারের উন্নতি সাধন পূর্বক সুনামগঞ্জ পৌর শহরে নিজের বাড়িতে স্বচ্ছল জীবন যাপন করছে। বড় ছেলে; নৃপেন্দ্র কুমার দাস, গ্রামের একমাত্র সেনাবাহিনী চাকুরীজীবী, অবসরপ্রাপ্ত ল্যান্স করপোরাল, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। ছেলেবৌ; শংকরী মন্ডল, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর। মেজো ছেলে: উদ্ধব কুমার দাস, খাদিম শিল্পনগরী সিলেটে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। ছেলেবৌ; শিখা রানী দাস, সিলেট এম.এ.জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত। ছোট মেয়ে; পুষ্প রানী রায়, ৫ম ও ৮ম শ্রেণীতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হয়। সে মধুপুর গ্রামের প্রথম মাস্টার্স ডিগ্রী পাস এবং একমাত্র সরকারি শিক্ষক। বিএ, এমএ, ঢাকা টিটিসি থেকে বি.এড (১ম শ্রেণী) ও এমএড (১ম শ্রেণী) । প্রধান শিক্ষক, চামটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বালিয়াকান্দি, রাজবাড়ি। মেয়েজামাই; শান্তি রাম বিশ্বাস, অবসরপ্রাপ্ত উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা। ছোট ছেলে; ডাঃ স্বাধীন কুমার দাস, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার শুরু গ্রামের পাশের অস্থায়ি মাদ্রাসায়। ৫ম ও ৮ম শ্রেণীতে বৃত্তি। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এম.বি.বি.এস, ২৪ তম বিসিএস, বর্তমানে সিলেট এম.এ.জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সার্জারী বিভাগে কর্মরত, এম.এস. জেনারেল সার্জারী থিসিস পর্বে অধ্যয়নরত। সে মধুপুর গ্রামের একমাত্র এম.বি.বি.এস ডাক্তার। ছেলেবৌ; এডভোকেট রিপা সিনহা, বি.এস.এস. (অনার্স), এম.এস.এস, এল.এল.বি, এল.এল. এম.। সিলেট ও সুনামগঞ্জ জজ কোর্টের সুপরিচিত, স্বনামধন্য, বিজ্ঞ আইনজীবী। সহসভাপতি, বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামীলীগ, সুনামগঞ্জজ জেলা এবং বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে দিরাই উপজেলা পরিষদের বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান। এ মহিয়সী নারী ২০১৯ সালে দিরাই উপজেলা ও সুনামগঞ্জ জেলায় সফল জননী ক্যাটাগরিতে জয়ীতা মনোনীত হয়েছেন। কাকিমার না বলা গল্পটি নিছে তুলে ধরা হলো।

আমি লক্ষ্মী রানী দাস, বয়স আনুমানিক ৭৮; জন্ম নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুড়ী থানার শিবপুর গ্রামে। শুরুতেই একজন মা হিসেবে আমি আমার মাতৃত্বের গল্প করছি। কিন্তু শুরুর আগেও শুরু আছে। আমি আমার পুত্রহীন মা-বাবার তিন কন্যার মধ্যে মধ্যম। নাম : “সুলক্ষণ ” কিন্তু লক্ষ্মণ মোটেও সুবিধের নয়। শৈশবেই মাতৃবিয়োগ- সংগত কারণেই আমি বাবা ও পরিবারের অন্যান্যদের অত্যন্ত আদরের মেয়ে। আমার মা ছিলেন শিক্ষিত। ‘পড়ালেখা শিখলে মায়ের মতই মারা যাবো’-এই বিশ্বাসে স্কুলে পাঠানো হয় নি আমাকে। আমার শৈশব-কৈশোর কেটেছে আমার বাবার কোলে-কাঁধে। বাবার মুখে গল্প শুনেছি- আমি নাকি বাবার মাসির মত। বাবার মাসি দেখতে কদাকার ছিলেন। তাই বাবা আমাকে মাসি বলেই ডাকতেন।
ভাটির দেশ- ভাটির গ্রাম- কৃষি পরিবার- পাশাপাশি বাবা গ্রামের বিচার সালিশের মাতব্বর। অক্ষরজ্ঞানহীন আমি, সেই কমতি পূরণের জন্য বুঝি সৃষ্টিকর্তা গলায় সুর ঢেলে দিয়েছিলেন অকাতরে। বাবা গাঁয়ে গাঁয়ে যেখানেই যেতেন সেখানেই নিয়ে যেতেন, যেন চোখের আড়াল না হই। সেই সুবাদে আমার কণ্ঠে ভাটি বাংলার ধামাইল, রাধারমণের গান, রাধা কৃষ্ণের বিচ্ছেদ – এই সমস্ত গান শুনে মানুষ আমায় ‘ধন্যি ধন্যি’ করত।
অল্প বয়সেই বাবা আমাকে পাত্রস্থ করেন। পাত্র দিরাই থানার মধুপুর গ্রামের শ্রী উপেন্দ্র সাধু। সাধু’র ১ম পক্ষের স্ত্রী ছিলেন আমার জেঠতুতো দিদি। অবাক হওয়ারই কথা, আমরা সব ভাগ্যহীনরা যে একত্র হয়েছিলাম! আমার জেঠতুতো দিদি ও ছোটবেলায় তার বাবাকে হারান, পিতৃহারা ভাই-বোনদের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন তারই একমাত্র কাকা অর্থাৎ আমার বাবা। তিনি আমার এই জেঠতুতো দিদিকে বিয়ে দেন উপেন্দ্র সাধুর সাথে। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস! আমার দিদি ও তার একমাত্র কন্যা শিশুকে রেখে মারা যান। পরবর্তীতে বাবা, আমার হাতে তুলে দেন সেই কন্যা শিশুর ভার আর আমাকে তুলে দেন সাধুর হাতে। মাতৃহারা কন্যাটিকে আমি অধিক স্নেহে বুকে তুলে নেই।
সাধু ছিলেন আপাদমস্তক আদর্শবান একজন সৎ মানুষ। আধ্যাত্মিক অন্বেষণ, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের কল্যাণ সাধনই যাঁর ধ্যান- এলাকায় “সাধু” বলেই তাঁকে এক নামে চিনে সবাই। শৈশবে পিতৃ-মাতৃ বিয়োগ হওয়ায় পাঠশালায় যাওয়া হয়নি তাঁরও, শিক্ষিত মামাদের সংস্পর্শে থেকে হয়ে উঠেছিলেন স্বশিক্ষিত। তিনিই প্রথম আমাকে হাতে ধরে অক্ষর জ্ঞান দেবার চেষ্টা করেন। তিনিই আমার শিক্ষাগুরু।
স্বামীর সংসারে এসে আমার নাম হয় “লক্ষ্মী “। কিন্তু ধীরে ধীরে সংসারের মা লক্ষ্মী মুখ ফিরিয়ে নেন। দিন যায়, দেখতে দেখতে আমি ২ পুত্র ১ কন্যা সন্তানের মা হই। স্বামী সংসারে থেকেও বিষয় মোহ থেকে দূরে সরতে থাকেন। সংসারে দেখা দেয় অভাব-অনটন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই বিবাহসূত্রে যে ছোট্ট মেয়েকে কোলে তুলে নিয়েছিলাম (আমার বড় মেয়ে) তাকে বিয়ে দিতে হয়।
শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। আসলে যুদ্ধ শুরু হয় আমারও। বড় ছেলের বয়স তখন ৯ কি ১০। মুক্তিদের সাথে যোগ দেয়ার তার কি প্রবল ইচ্ছা (পরবর্তীতে সে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগদান করে) ! ওদিকে পুরো গ্রাম খালি করে সবাই বালাট (ইন্ডিয়ায়)। দৃঢ়চেতা সাধুর প্রবল ইচ্ছায় ছেলেমেয়ে সহ দীর্ঘ নয় মাস থাকলাম ফাঁকা গ্রামে। স্পষ্ট মনে আছে, আমি রাস্তায় দাঁড়ানোৃ হাতে বন্দুক নিয়ে একদল লোক ধেঁয়ে আসছে… মনে হল সোজা আমার দিকেই। ভয়ে আমার অন্তর আত্মা শুকিয়ে যায়, আমি রাস্তায় পড়ে যাই। আমাকে সুস্থ করে তোলার সে কি আপ্রাণ চেষ্টা তাদের! “মা, আমরা মুক্তি, আপনার ভয় নাই, আপনি উঠুন, স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করছি আমরা”। পরে ছোট ছেলেটি কোলে আসলে তার নাম রাখি “স্বাধীন”। সব মিলে আমি হলাম ৩ পুত্র ২ কন্যার জননী। গ্রামেই ছিল মুক্তির ক্যাম্প। কাছে থেকে দেখে, নানান ভাবে নানান কাজে সহযোগিতা করে নিজের মনেও ধারণ করেছি যুদ্ধটাকে। যুদ্ধ শেষ হয়। দেশের মতই বিধ্বস্ত আমিও ঘুরে দাঁড়ানোর অস্ত্র ধারণ করি। চাই শিক্ষা- লেখাপড়া, চাই মুক্তি।
ঐদিকে বাবার অসুস্থতায় (প্যারালাইসিস) বাবার সকল সয়-সম্পত্তির অবসান ঘটে। বাবা মারা যান। বাবার আশীর্বাদই হয় আমার চলার পথের পাথেয়।
স্বামী অনিত্য-সত্য-সুন্দর সৃষ্টিকর্তার সাধনায় সিদ্ধিলাভে মত্ত হন। ত্যাগ করেন সংসার মোহ ও যাবতীয় সাংসারিক দেন দরবার; অন্দর হয় ধান শূণ্য। শুরু হয় আমার জীবনসংগ্রাম। চরম অভাব-অনটনের ভেতর দিয়ে ছেলেমেয়ে নিয়ে সংসার চালাতে আমাকে সরাসরি নামতে হলো যুদ্ধের ময়দানে।
ঘুরে যায় আমার জীবনের মোড়। যেহেতু নিজে লেখাপড়া শিখতে পারিনি, তাই ঐ বস্তুর প্রতি ছিল আমার প্রবল লোভ-আগ্রহ। সন্তানদের কি করে সুশিক্ষিত করে তুলব সেই চিন্তা-ভাবনা আমার মনে দিনরাত জেগে থাকে।
ইতিমধ্যে আসে “খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষা”; বয়স্ক শিক্ষা কর্মসূচী- মাটিতে ছাই বিছিয়ে অক্ষর শেখা। অতঃপর ছবি আঁকার মত করে আত্মস্থ করলাম আমার “সবকিছুর লক্ষ্মী”, আমার “স্বাক্ষর“। শিক্ষা এ পর্যন্তই। এই অজ পাড়া গাঁয়ে বসে ছেলেমেয়েদের জন্য মনে মনে খুঁজি শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ, সাথে চলতে থাকে পারিবারিক নৈতিক শিক্ষা।
শুরু করি বিভিন্ন ধরনের আয়মূলক কাজ। ঘর গৃহস্থালির পাশাপাশি আমি পা রাখি মাঠের কাজে। এক টুকরো ভিটার উপর একটি কুঁড়েঘর আর ছোট্টো উঠোন থেকে যাত্রা শুরু করি আমি । করতে থাকি মাটি কাটার কাজ, ধানের খড় তোলা, ঘরের চাল বাঁধা থেকে শুরু করে সব। শুকনো মৌসুমে নিজে কোদাল দিয়ে কুপিয়ে ঘরের পাশেই করি সব রকম সবজির বাগান। লাগাই প্রায় সব রকম ফলের গাছ- আম, জাম, কাঁঠাল, কলা, পেঁপে, বড়ই ইত্যাদি । বাড়িতে পুষি হাঁসমুরগী, গাভী আর ভেড়া। উঠানে লাগাই মিষ্টি আলুর গাছ। তখনকার সময়ে ৪০ টাকা মণে মিষ্টি আলুর চারা বিক্রি করি। এভাবে নানাবিধ উপায়ে উপার্জিত অর্থে চলতে থাকে সংসার। কিন্তু এতেও যখন পেরে উঠিনি তখন গ্রামের ধনাঢ্য ব্যাক্তিদের বাড়ির বৈশাখী তুলতেও কাজ করেছি। যখন যেখানে ধার দেনা চেয়েছি, কেউ ফিরিয়ে দেন নি। হিন্দু মুসলিম নির্বিশেষে এলাকাবাসীর প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।

একদিন এক পরিবার কল্যাণ স্হকারী আমাকে তার সাথে নেয় এবং ডেলিভারির প্রশিক্ষণ দেয়। ডেলিভারির কাজে আমার হাতযশ দেখে অনেকে আমার প্রশংসা করেন এবং গ্রামের বা যখন-যেখানে যে কারো প্রয়োজনে আমি ছুটে যাই। । গ্রাম থেকে প্রায় ৭ কি.মি. দূরে দিরাই শহরে পায়ে হেঁটে যাওয়া আসা ছিল আমার নিত্য দিনের সঙ্গী। স্বেচ্চাসেবী হিসেবে পরিবার কল্যাণ কাজের নানান সামগ্রী নিয়ে নারীদের উদ্দেশ্যে ছুটে বেড়িয়েছি গ্রাম থেকে গ্রামে ।
আমার দুঃখ ছিল একটাই -“আমি চোখ থাকতেও অন্ধ”। সেই দুঃখ, সেই অপূর্ণতাকে মুক্তি দিতে আমি সারাজীবন বিরতিহীন লড়াই করেছি যেন আমার সন্তানরা উচ্চশিক্ষিত হতে পারে। অনাহার-অর্ধাহার ছিল আমার নিত্যদিনের সাথী । “লক্ষ্মী” নাম ধরে আমি “মা সরস্বতী”র খোঁজে ফিরেছি দেশে দেশে। আমি ভালোমন্দ খাবার বা পোশাকের চিন্তা করিনি। চিন্তা করতাম বর্ষাকালে কার নৌকায় আমার ছেলেমেয়েরা স্কুলে যাবে, চিন্তা করতাম প্রদীপের কেরোসিন তেল আছে কিনা যেন সন্ধ্যার পর ছেলেমেয়েরা পড়তে বসতে পারে। গ্রামের অনেকেই বলতেন- এত লেখাপড়া করিয়ে কি হবে, বরং কাজে লাগিয়ে দাও। দু-চার টাকা রোজগার হবে‘। আমি আঁচলে মুখ লুকিয়ে চোখ মুছতাম। মনে মনে ভাবতাম, সৃষ্টিকর্তা একদিন নিশ্চয়ই মুখ তুলে চাইবেন।
চার আনা/আট আনা করে জমিয়ে সন্তানদের আবদার পূরণ করেছি আমি। ছেলেরা ভাল গান গাইতো। একবার যাত্রাপালার দলে অন্তর্ভুক্ত হয় আমার ছোট দুই ছেলে। পয়সার লোভ সংবরণ করে আমি তাদের ফেরত নিয়ে আসি (ছোট ছেলেটি এখন ডাক্তার)। চরম অভাবের মধ্যেও তাদের খেলাধুলা বা সাংস্কৃতিক চর্চায় কখনও বাধা দেই নি আমি।
চরম দারিদ্র্য, আমার প্রতি অন্যায় আর অবহেলাই হয়ে উঠেছে আমার শিক্ষক। ছেলেমেয়েদের আমি পড়াইনি। পড়তে বলেছি আমার সবটুকু শক্তি দিয়ে। তারা নিজেরাই পড়েছে, পড়িয়েছেন তাদের শিক্ষকেরা। আমি রাতের পর রাত কুপিবাতি জ্বালিয়ে শুধু বসে থেকেছি ওদের সাথে। প্রাইভেট পড়ানো তো দূরের কথা, স্কুলের বেতন, এমন কি পরীক্ষার ফিসও ঠিকমত দিতে পারিনি আমি। যখন যেখানে উপযুক্ত পরিবেশের সুযোগ সুবিধা পেয়েছি তখন সেখানে রেখেই তাদের পড়াতে থাকি। একাধিক প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলে পড়েছে আমার সন্তানেরা। লজিং থেকেছে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বাড়িতে। শিক্ষকেরা ছেলেমেয়েদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে ভালোবেসে পড়িয়েছেন কত! আমি সেই সমস্ত পরিবার ও সকল শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। তাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রম আর আমার ঘর্মাক্ত কায়ক্লেশে সেই স্বপ্ন সত্যই পূরণ হয়েছে। শেষ পর্যন্ত মা সরস্বতীর দয়ায় মা লক্ষ্মীও দেখা দিয়েছেন সংসারে। তাই আমি লক্ষ্মী “রানী” হয়ে জীবনের প্রতিটি ধাপে “সুলক্ষণ”এর সাক্ষ্য হয়ে আছি। আমি আনন্দিত ও গর্বিত যে আমার প্রত্যেক সন্তান আজ স্ব-স্ব অবস্থানে সুপ্রতিষ্ঠিত, জনপ্রিয় ও সুপরিচিত। প্রত্যেকেই সততা, নৈতিকতা ও অদম্য সাহসের পারিবারিক শিক্ষা ধারণ করেছে সম্পূর্ণরূপে।
ক্ষমা করবেন, আমিত্ব জাহির করার জন্য এসব লিখছিনা । কোনো কিছু পাওয়ার আশায় আমার ছেলেমেয়েদের পড়ালেখায় বেঁধে রাখিনি, রেখেছি চরম দুর্দশা থেকে মুক্তি পাবার জন্য, প্রকৃতই মানুষ হবার জন্য। এখানে যা লিখলাম তা চরম সত্যের কিয়দংশ মাত্র। যখন থেকে এই যুদ্ধের শুরু তখন আমি জানতাম না যে এই যুদ্ধে বিজয়ীদের জন্য রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির ব্যবস্থা থাকতে পারে। ধন্যবাদ মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরকে, এই রকম একটি মহোদ্যোগ গ্রহণের জন্য যা কিনা আমার মত মায়েদের জন্য নি:সন্দেহে অনুপ্রেরণামূলক।
এখানে সত্যের কিছুটা বলতে পেরে হালকা হলাম। সত্য স্বীকারের কোনো জায়গা পাইনি আমি অথবা বলতে চাইনি। এলাকাবাসী জানে এসব। বহুমূল্য এই সুযোগটুকু দেওয়ার জন্য “জয়ীতা অন্বেষণ বাংলাদেশ” কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

Hits: 46


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ