এলার্জির চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্ব

Pub: শনিবার, জুন ১৬, ২০১৮ ১:১১ পূর্বাহ্ণ   |   Upd: শনিবার, জুন ১৬, ২০১৮ ১:১১ পূর্বাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

জীবনে কোনো না কোনো রকম এলার্জিতে ভুগেছেন এ রকম মানুষের সংখ্যা এ পৃথিবীতে অনেক। তবে শিশুরা এর ভুক্তভোগি অন্যান্যদের তুলনায় অনেক বেশি আর ওয়ার্ল্ড এলার্জি অর্গানাইজেশনের (WAO) তথ্য অনুযায়ী এদের সংখ্যা ৫০% পর্যন্ত। মহিলারা রয়েছেন ভুক্তভোগীদের তালিকায় দ্বিতীয়। ওয়ার্ল্ড এলার্জি অর্গানাইজেশনের পরিসংখ্যানে ৩০% থেকে ৪০% মানুষ পৃথিবীতে এলার্জিতে ভুগছেন। আর এর আলোকে বাংলাদেশে এ সংখ্যা প্রায় ৫ কোটি কিন্তু বাংলাদেশে কি এলার্জির আপ-টু-ডেট ডায়াগনস্টিক এবং চিকিৎসা ব্যবস্থা আছে ?

সাইন্টিফিক গবেষণা থেকে জানা যায়, যে শিশুটা এলার্জি-জনিত সর্দিতে ক্রমাগত ভুগছে, যথাযত চিকিৎসা না পেলে এদের শতকরা ৮০ জন পর্যন্ত পরবর্তীতে হাঁপানিতে ভোগার ঝুঁকিতে থেকে যায় আর তাই বিশেষ করে বাচ্চাদের এলার্জিজনিত রোগ হলে একজন এলার্জি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ তুলনামূলকভাবে বেশি জরুরি।

লক্ষ্যকরে দেখবেন কিছুকিছু শিশুরা অল্পবয়সেই একটার পর আরেকটা এলার্জি-জনিত সমস্যায় আক্রান্ত হতে যেমন চামড়ার সমস্যা (এটপিক ডারমাটাইটিস), পেটের সমস্যা (বমি, পেট ফাপা, ডায়ারিয়া), ঘন ঘন সর্দি (এলার্জিক রাইনাইটিস), ঘন ঘন কাশি, শ্বাসকষ্ট (হাপানী/অ্যাজমা) এই ধারাবাহিকতাকে এলার্জিক মার্চ বলা হয়ে থাকে। এদেরকে এটপিক শিশু বলা হয় কারন এরকম শিশুদের একটা জেনেটিক/বংশগত বাড়তি প্রবনতা থাকে, আমাদের আশেপাশের জিনিষ যেমন ধুলাবালি, ফুলের রেনু, খাদ্যদ্রব্য ইত্যাদির সাে রিয়েকশন/প্রতিক্রিয়া করার।

এলার্জি একটা জেনেটিক এবং এনভায়রনমেন্টাল কমপ্লেক্স ডিসর্ডার। পরিবেশের অনেক জিনিস যেমন ধুলাবালি, যেরকম দায়ী তেমনি জেনেটিক/ বংশগত কারনটা অধিকতর দায়ী বলে এলার্জি বিজ্ঞানীরা বলছেন। আর যে কারনে শুধু মায়ের এলার্জি থাকলে বাচ্চার এলার্জিজনিত রোগ হওয়ার ঝুঁকি ৩০ % থেকে ৫০% হতে পারে । আর মা- বাবা দুজনের এলার্জির সমস্যা থাকলে এ সংখ্যা ৮০% পর্যন্ত গড়াতে পারে। তবে সব সময় সমান এলার্জি-জনিত রোগ না হতেও পারে, যেমন মায়ের ছিল অ্যাজমা বাচ্চার হতে পারে ফুড এলার্জি ইত্যাদি।

এলার্জি বিভিন্ন ধরনের রয়েছে যেমন ডিলেইড টাইপ- উদাহরনস্বরূপ, চামড়ার সমস্যা, একজিমা বা এলার্জিক কনটাক্ট ডার্মাটাইটিস। যা জীবনকে অনেক ক্ষেত্রে অসহ্য করে তুলে কিন্তু জীবনঘাতী নয়।কিন্তু ইম্মেডিয়েট টাইপ এতো মারাত্বক যে এর ভুক্তভোগী ঠিক সময়ে উপযুক্ত জরুরী চিকিৎসা না পেলে মাত্র কয়েক মিনিটের ভিতর মারা যেতেও পারে। মেডিকেল ডিকশনারীতে এলার্জিজনিত এনাফাইলেক্টিক ডেথ বলা হয়ে থাকে। উন্নত বিশ্বে এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশ ইন্ডিয়াতেও ভুক্তভোগী রোগীদের নাগালের ভিতর রয়েছে এর জীবন রক্ষাকারী ঔষধ, (Adrenaline Auto-Injector) এড্রেনালিন অটো ইঞ্জেক্টর, কিন্তু বাংলাদেশে এটা এখনো আগমন করেনি।

রোগীর ক্লিনিক্যাল হিস্ট্রির পাশাপাশি ডিলেইড টাইপ এর জন্য প্যাচ টেস্টিং এবং ইম্মেডিয়েট টাইপ বা ওমঊ মেডিয়েটেড এলার্জি ডায়াগনসিস এর জন্যে SPT (Skin Prick Testing), যা নির্ভরযোগ্য কিন্তু বাংলাদেশে এখনো এ সুযোগ প্রায় নাগালের বাহিরে। ডায়াগনোসিসের পর যারা এনফিল্যাক্সিসের ঝুঁকিতে রয়েছেন তাদেরকে দুটি এড্রেনালিন অটো ইঞ্জেক্টর সাথে রাখার পরামর্শ য়ো হয় – যা আসলে লাইফ সেভিং। এটা এতো জ্বরুরী যে ব্রিটিশ সরকার ২০১৭ সালের অক্টোবরে আইন পাস করেছে যাতে প্রতিটি স্কুল প্রেসক্রিপশন ছাড়াই এই জীবন রক্ষাকারী ইনজেকশন ক্রয় করে জরুরী প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারে।

বর্তমানে অনেক এলার্জিজনিত রোগ এখন নিরাময়যোগ্য। উদাহরনস্বরুপ হাপানী/অ্যাজমা, এলার্জিক রাইনাইটিস (নাকের এলার্জি) এলার্জিক কনজান্কটিভাইটিস (চোখের এলার্জি), ভেনম এলার্জিতে এলার্জি ভ্যাক্সিন/এলার্জেন ইম্মিউনোথেরাপী একমাত্র নিরাময়যোগ্য ঔষধ। আমরা যদিও স্বল্প আকারে ঢাকার এলার্জি সেন্টার  (www.allergybd.com) , সিলেটের ইবনে সিনায় এবং বিশ্বনাথ এলার্জি সেন্টারে স্কিন প্রিক টেস্টিংয়ের মাধ্যমে এলার্জির কারণ নিরুপন করে সাবলিন্গুয়াল ইম্মিউনোথেরাপী (ঝখওঞ-এলার্জি ভ্যাক্সিন) দেওয়াা শুরু করেছি যা বাংলাদেশের কোটি কোটি এলার্জি ভুক্তভোগীদের আশার আলো আর এটাকে পুরোপুরীভাবে বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ সরকারকে এগিয়ে আসার বিকল্প নাই।

বাংলাদেশে এলার্জি সচেনতনতা, এলাজির্র আপ-টু-ডেট ডায়াগনস্টিক, অত্যাধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং এলার্জি নিয়ে গবেষনার রয়েছে বেশ ঘাটতি। বাংলাদেশ সরকারকে এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে এ ঘাটতি পুরণে ্রুত এগিয়ে আসা আজ সময়ের দাবী জীবনের কারনে। এতে করে রোগীরে শুধু ভোগান্তিই কমবে না, বাংলাদেশের হাজার হাজার রোগীকে ইন্ডিয়াসহ বিদেশে যাওয়া থেকে বিরত রাখবে এবং বাংলাদেশ সরকারের কোটি কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।

লেখক:
ডা. মো. শানুর আলী মামুন
এম বি বি এস (সি ইউ), এম এস সি, এলার্জি (ইউ, কে)
এডভ্যান্সড কোর্স অন এলার্জি ও ইম্মিউনোথেরাপী (ইন্ডিয়া)


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1145 বার