• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

জার্মানির স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যের নির্বাচনে বড় জয়ের পথে কট্টরপন্থী এএফডি

প্রকাশ: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২:০০
আপডেট: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২:০০

জার্মানির স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যের নির্বাচনে বড় জয়ের পথে কট্টরপন্থী এএফডি

জার্মানির স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যের নির্বাচনে বড় জয়ের পথে কট্টরপন্থী এএফডি

শীর্ষ খবর ডেস্ক
ছবি : সংগৃহীত

জার্মানির পূর্বাঞ্চলীয় স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যের নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থী দল অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি) বড় জয়ের পথে রয়েছে।

গতকাল রোববার রাজ্যের পার্লামেন্ট নির্বাচনে ভোট গ্রহণ হয়। বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী, এএফডি প্রায় ৪৪ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানির কোনো রাজ্যে একটি কট্টর ডানপন্থী দলের এটি সম্ভাব্য সর্বোচ্চ নির্বাচনী সাফল্য। এ কারণে এএফডির সম্ভাব্য এ সাফল্যকে ‘ঐতিহাসিক’, ‘নাটকীয়’ বলা হচ্ছে।

সম্ভাব্য এ ফলাফল শুধু স্যাক্সনি-আনহাল্টই নয়, গোটা জার্মানির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

প্রথম দিকের ভোট গণনার প্রবণতায় এ আভাস দেওয়া হচ্ছিল যে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় আসনের তুলনায় মাত্র একটি আসন কম পেতে পারে এএফডি।

ফলাফলের এমন প্রবণতা ইঙ্গিত দিচ্ছে, ১৯৪৫ সালের পর এই প্রথম কোনো কট্টর ডানপন্থী দল জার্মানির একটি রাজ্যে সরকার গঠনের কাছাকাছি রয়েছে।

তবে এএফডি শেষ পর্যন্ত এককভাবে সরকার গঠন করতে পারবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। বিষয়টি নির্ভর করবে এএফডির চূড়ান্ত আসনসংখ্যাসহ অন্যান্য দলের অবস্থানের ওপর।

গতকাল সন্ধ্যায় নির্বাচনের ফলাফলের প্রাথমিক আভাস প্রকাশের পর রাজ্যের রাজধানী ম্যাগডেবুর্গের আল্টেস থিয়েটারে এএফডির সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে।

দলীয় সমর্থকদের এই উৎসবে উপস্থিত হন এএফডি নেতা বিয়র্ন হ্যোকে। তিনি দিনটিকে সুন্দর বলে বর্ণনা করেন। একই সঙ্গে তিনি এই ফলাফলকে একটি ‘যুগসন্ধিক্ষণ’ হিসেবে অভিহিত করেন। এ সময় তাঁর পেছনে থাকা ভিডিও পর্দায় লেখা ছিল ‘এখান থেকেই শুরু’।

বিয়র্ন হ্যোকে বলেন, স্যাক্সনি-আনহাল্টের জনগণ প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রত্যাখ্যান করেছে।

স্যাক্সনি-আনহাল্টের এই নির্বাচনী ফলাফল জার্মানির প্রচলিত রাজনৈতিক–ব্যবস্থার জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। দেশটির প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলো দীর্ঘদিন ধরে এএফডির সঙ্গে জোট গঠনের বিষয়টি নাকচ করে এসেছে। কিন্তু এখনকার নির্বাচনী ফলাফল এই নীতিকে বড় পরীক্ষার সামনে দাঁড় করিয়েছে। এএফডি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও দলটিকে বাদ দিয়ে অন্য দলগুলোর পক্ষে সরকার গঠন করা অত্যন্ত কঠিন হবে।

রাজ্যে এএফডির নির্বাচনী প্রচারে নেতৃত্ব দেন উলরিশ সিগমুন্ড। তিনি রাজ্য সরকারপ্রধানের পদপ্রার্থী। এই কট্টরপন্থী রাজনীতিক নির্বাচনের পর ইঙ্গিত দিয়েছেন, অন্য দলের সম্ভাব্য দলবদলকারী আইনপ্রণেতারা তাঁকে সমর্থন দিতে পারেন।

রাজ্যে সরকার গঠনের গোপন ভোটে অন্য দলের কয়েকজন আইনপ্রণেতা যদি উলরিশকে সমর্থন দেন, তাহলে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে তাঁর মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

জার্মানির রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, সাম্প্রতিক কালে জ্বালানির উচ্চ মূল্য, অর্থনৈতিক স্থবিরতা, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি অসন্তোষ ও ইউক্রেন যুদ্ধের মতো বিষয় এএফডির পক্ষে জনসমর্থন বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। এ ক্ষেত্রে অভিবাসন ইস্যুও ভূমিকা রেখেছে। অভিবাসন প্রশ্নে দলটি কঠোর অবস্থান নিয়েছে। দলটি আরও কঠোর অভিবাসননীতি, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অবস্থান ও নাৎসি জাতীয়তাবাদী কর্মসূচির পক্ষে ব্যাপক প্রচার চালিয়েছে।

স্যাক্সনি-আনহাল্টের এ নির্বাচন শুধু একটি রাজ্যের রাজনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কোনো জার্মান রাজ্যে চরম ডানপন্থী দলের এত বড় নির্বাচনী সাফল্য পুরো দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

আ/আ


সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ

উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রকেস )
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: sheershakhoboronline@gmail.com


WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com