আন্তর্জাতিক ডেস্ক
সংগৃহীত ছবি
নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও ভয়াবহ ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৯১৯ জনে পৌঁছেছে। এ ঘটনায় এখনো প্রায় ৪ হাজার ৮০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ৮৫৩ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুর্যোগ শুরুর ছয় দিন পর নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ হতাহত ও নিখোঁজের সর্বশেষ এ তথ্য জানিয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৯০৩ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ২৪৭ জন। তাদের মধ্যে ৫৯২ জন বিদেশি নাগরিক।
নিখোঁজদের উদ্ধারে বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি অভিযান চলছে। একই সঙ্গে কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে আটকে পড়া শ্রমিকদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন উদ্ধারকারীরা।
নেপালে নিখোঁজদের মধ্যে ২৫ জন পুলিশ সদস্য, ৪৫ জন সেনাসদস্য, ১৩ জন সশস্ত্র পুলিশ সদস্য, ১৪ জন শুল্ক দপ্তরের কর্মী এবং তিনজন অভিবাসন দপ্তরের কর্মী রয়েছেন। বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের আরও ৯৩৩ কর্মীরও কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
এ ছাড়া নিখোঁজদের মধ্যে ১২৭ জন নেপালি যাত্রী রয়েছেন।
অন্যদিকে, চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তিব্বত অঞ্চলের গিরং কাউন্টিতে ভয়াবহ দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ১৬ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে সেখানে পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। গিরং কাউন্টিতে আরও ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া।
চীনে নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। ফলে নেপাল ও চীনে দুর্যোগে হতাহতের সর্বশেষ তথ্য একত্র করলে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯১৯ জনে। একই সঙ্গে নিখোঁজ রয়েছেন মোট ৪ হাজার ৭৯৩ জন। নিখোঁজদের মধ্যে ৮৫৩ জন বিদেশি নাগরিক।
দুর্যোগ মোকাবিলা ও নিখোঁজদের উদ্ধারে চীন বড় ধরনের উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে। দেশটি এরই মধ্যে ২ হাজার ১০০ জনের বেশি উদ্ধারকর্মী মোতায়েন করেছে। উদ্ধারকারীদের সহায়তায় শত শত যানবাহন এবং হাজার হাজার ধরনের উদ্ধার সরঞ্জামও ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।
গত ২৬ আগস্ট এই ভয়াবহ দুর্যোগের সূত্রপাত হয়। ওইদিন নেপালের লাংটাং লিরুং পর্বতে প্রায় ৫ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতায় একটি হিমবাহের অংশ ভেঙে পড়ে। এতে বিপুল পরিমাণ বরফ ও পাথর নিচের দিকে ধেয়ে আসে।
পরবর্তীতে বরফ ও পাথরের সেই বিশাল স্রোত পানির প্রবল স্রোত এবং কাদার সঙ্গে মিশে যায়। এর ফলে সৃষ্টি হয় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধস। আকস্মিক এই দুর্যোগে নেপাল ও চীনের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং বহু মানুষ নিখোঁজ হন।
দুর্যোগের পর থেকে দুই দেশেই উদ্ধার ও অনুসন্ধান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বিপুলসংখ্যক নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানে স্থানীয় ও বিদেশি উদ্ধারকারী দলগুলো কাজ করছে। একই সঙ্গে দুর্গম এলাকায় নতুন করে ঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কার মধ্যেও উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
নেপালের রাসুয়া, নুয়াকোট, ধাদিং, কাভ্রে এবং কাঠমান্ডু উপত্যকার বিস্তীর্ণ এলাকা এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চীনের গিরং সীমান্ত এলাকাতেও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি












