fbpx
 

বৃটিশ সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায় পার্লামেন্ট স্থগিত অবৈধ

Pub: বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৯ ১:০২ পূর্বাহ্ণ   |   Upd: বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৯ ১:০২ পূর্বাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এক ব্রেক্সিটকে কেন্দ্র করে বৃটিশ রাজনীতিতে একের পর এক নাটকীয়তা। দু’জন প্রধানমন্ত্রী- ডেভিড ক্যামেরন ও তেরেসা মে এ ইস্যুতে ক্ষমতা হারিয়েছেন। কয়েকদিন আগে ক্ষমতায় আসা নতুন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনেরও পদত্যাগের জোরালো দাবি উঠেছে। একের পর এক পরাজয় তাকে গ্রাস করছে। সর্বশেষ তিনি ৫ সপ্তাহের জন্য পার্লামেন্ট স্থগিত করেছিলেন। বুধবার বৃটিশ সুপ্রিম কোর্ট তার ওই সিদ্ধান্তকে বেআইনি বলে ঘোষণা দিয়েছে। এরপরই তার পদত্যাগ দাবি করেছেন বিরোধী লেবার নেতা জেরেমি করবিন, লন্ডনের মেয়র সাদিক খান সহ রাজনীতিকরা। আহ্বান জানানো হয়েছে সরকারকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে। বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী পদে যোগ্য নন বরিস জনসন। হাউজ অব কমন্সের স্পিকার জন বারকাউ অবিলম্বে পার্লামেন্ট শুরু হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি আজ স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে এগারটায় পার্লামেন্ট অধিবেশন আহ্বান করেছেন। এর আগে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বলা হয়, ব্রেক্সিট সম্পাদনের সময়সীমা ফুরিয়ে আসায় পার্লামেন্ট স্থগিত রাখা অন্যায়। সুপ্রিম কোর্টের ১১ জন বিচারক দুটি আপিলের ওপর শুনানি করেন গত সপ্তাহে। এরপর সর্বসম্মতভাবে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে রায়ে উল্লেখ করেছেন সুপ্রিম কোর্টের প্রেসিডেন্ট বিচারপতি লেডি হ্যালি। এতে বলা হয়, পার্লামেন্ট স্থগিতাদেশ বাতিল হয়ে গেছে। ফলে পার্লামেন্ট আর স্থগিত থাকতে পারে না। এরই মধ্যে পদত্যাগ দাবি উঠেছে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের। বৃটেনের রাজনীতিতে যখন এ নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে তখন জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউ ইয়র্কে অবস্থান করছিলেন বরিস জনসন।

তবে আদালতের ওই রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এর সঙ্গে দৃঢ়তার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন তিনি। এসময় তিনি ৩১শে অক্টোবরের মধ্যেই ব্রেক্সিট সমপাদনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তবে অবিলম্বে তার পদত্যাগের আহ্বান জানিয়ে বিরোধী লেবার নেতা জেরেমি করবিন বলেছেন, আমি বরিস জনসনকে আহ্বান জানাবো তার পদ বিবেচনা করতে এবং বৃটেনের ইতিহাসে এ যাবৎকালের মধ্যে সবচেয়ে কম সময় ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী হতে। করবিনের ভাষায়, আইন মেনে চলুন। আর কোনো চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিট সামনে আনবেন না। গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে, আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে সরকার বাছাই করতে একটি নির্বাচন দিন। জনগণের কাছে ক্ষমতা ফিরিয়ে দিন। ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন লন্ডনের মেয়র সাদিক খান। তিনি বলেছেন, বৃটিশ জনগণ, পার্লামেন্ট, রানী এবং আদালতকে পার্লামেন্ট স্থগিত করার বিষয়ে ভুলপথে নিয়েছেন বরিস জনসন। বাস্তবতা হলো, আমাদের এমপিদের কণ্ঠকে স্তব্ধ করে দিতে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাদেরকে চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিট পরিকল্পনায় বিতর্ক থেকে বিরত রাখতে চেয়েছেন। এটা একটি বিপর্যয় সৃষ্টিকারী পরিকল্পনা। তাই অবিলম্বে পার্লামেন্ট অধিবেশন আহ্বান করা উচিত, যাতে এমপিরা অগণতান্ত্রিক ও অসৎ সরকারের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে জবাবদিহিতা নিতে পারেন। অন্যদিকে, অনতিবিলম্বে হাউজ অব কমন্সের অধিবেশন ডাকতেই হবে বলে জানিয়েছেন হাউজ অব কমন্সের স্পিকার জন বারকাউ। এ ঘোষণা দেয়ার পরপরই বৃটিশ রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন এক অধ্যায়। তুমুল স্বস্তি দেখা দিয়েছে বরিস জনসনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া রাজনীতিকদের মধ্যে। সুপ্রিম কোর্টের এ রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন জন বারকাউ। তিনি বলেছেন, সরকারের দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন বিচারকরা। পার্লামেন্টারি গণতন্ত্রে তাই অবিলম্বে হাউজ অব কমন্সের অধিবেশন ডাকা উচিত। তাই অবস্থার গুরুত্ব বিবেচনা করে আমি দলীয় নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করবো। ওদিকে রায় শুনে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন, ইংলিশ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলকারী ব্যবসায়ী জিনা মিলার। তিনি বলেছেন, বুধবারই প্রধানমন্ত্রীকে পার্লামেন্টের দরজা খুলে দিতে হবে। এমপিদেরকে ফিরতে হবে পার্লামেন্টে এবং সাহসী হতে হবে। এই বিবেকবর্জিত সরকারকে জবাবদিহিতায় আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে হবে। ওদিকে, বরিস জনসন প্রধানমন্ত্রী পদে যোগ্য নন বলে দাবি করেছেন লিবারেল ডেমোক্রেট নেতা জো সুইনসন। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী জনসন পার্লামেন্ট স্থগিত করার আগে রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ ও দেশকে ভুলপথে পরিচালিত করেছেন। এ থেকে আমরা এরই মধ্যে নিশ্চিত যে, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার যোগ্য নন বরিস জনসন। তিনি বেআইনিভাবে জনগণের প্রতিনিধিদের কণ্ঠকে স্তব্ধ করে দিয়েছেন। আমি হাউজ অব কমন্সে আমার দায়িত্ব পালন শুরু করতে যাচ্ছি। একই সঙ্গে সবাইকে নিয়ে ব্রেক্সিট বন্ধের জন্য কাজ করবো। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের প্রশংসা করেছেন ব্রেক্সিট বিষয়ক ছায়ামন্ত্রী কিয়ের স্টারমার। তিনি বলেছেন, আদালত থেকে শক্তিশালী রায় এটাই প্রমাণ করে যে, আইনের কোনো তোয়াক্কাই করেন না বরিস জনসন। শিগগিরই আমরা কাজ শুরু করে চ্যালেঞ্জ করবো এবং উন্নত ভবিষ্যতের জন্য তাকে পরাজিত করবো। রায়কে সত্যিকার ঐতিহাসিক রায় বলে আখ্যায়িত করে টুইট করেছেন স্কটিশ ন্যাশনালিস্ট পার্টির নেত্রী ও স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার নিকোলা স্টারজেন। প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট গ্রুপ ফর চেঞ্জের নেত্রী এমপি আনা সবরি। তিনি বলেছেন, পার্লামেন্টে ফিরে যেতে চাই এবং প্রস্তুত আছি। পার্লামেন্ট স্থগিত হয় নি। মুলতবিও হয়নি। কার্যত আমরা পার্লামেন্টেই আছি এবং শিগগিরই চেম্বারে ফিরবো। সরকারকে জবাবদিহিতায় আনতে আমরা চেম্বারে ফিরতে রাজি এবং প্রস্তুত। আমাদের অনেক প্রশ্ন আছে। প্রধানমন্ত্রীকে এসব বিষয়ে প্রশ্ন করা উচিত। আদালতের রায়ে উল্লাস প্রকাশ করেছেন প্লেইড সিমরু ওয়েস্টমিনস্টার দলের নেতা লিজ স্যাভিলে-রবার্টস, স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির ওয়েস্টমিনস্টার নেতা ইয়ান ব্ল্যাকফোর্ড, গ্রিন পার্টির এমপি ক্যারোলাইন লুকাস।
ওদিকে, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বাকিংহাম রাজপ্রাসাদ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এর আগে যখন স্কটিশ কোর্ট অব সেশন বরিস জনসনের সিদ্ধান্তকে বেআইনি বলেছিল তখন রাজপ্রাসাদের সূত্র শুধু বলেছিল- প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে রানী পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং কাজ করেছেন।
ব্রেক্সিট পার্টির চেয়ারম্যান রিচার্ড টাইস সুপ্রিম কোর্টের রায়কে ‘ভূমিকম্প, ঐতিহাসিক’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। এরপর কি ঘটবে সে বিষয়ে এমপিদেরকে অবশ্যই চিন্তাভাবনা করতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। বলেন, বুধবার যখন পার্লামেন্ট আহ্বান করা হবে, তখন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পদত্যাগ করা উচিত বরিস জনসনের। অনাস্থা ভোটও হতে পারে। এক্ষেত্রে জনগণের জানা উচিত যে, আমরা ৩১শে অক্টোবর ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগ করছি না। এর জন্য সময়সীমা বর্ধিত করতে হবে। তিনি আরো বলেন, নভেম্বরের প্রথম অর্ধাংশে একটি নির্বাচন হতে পারে। মূল পরিকল্পনাবিদ ডমিনিক কামিংস সম্পর্কে তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি তিনি মঙ্গলবারই পদত্যাগ করবেন।

বরিস জনসন একজন অনভিজ্ঞ স্বৈরাচারের মতো আচরণ করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন ছায়া অ্যাটর্নি জেনারেল শমি চক্রবর্তী। তিনি আদালতের রায়কে প্রশংসা করে বলেন, বরিস জনসন সহ কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন। সুপ্রিম কোর্টের প্রেসিডেন্ট লেডি হ্যালে একটি বিস্ময়কর রায় দিয়েছেন। বহু বছর এই রায় সারাবিশ্বে স্মরণ করা হবে এবং পঠিত হবে।

এখন কি হবে
সুপ্রিম কোর্ট ৯ই সেপ্টেম্বর পার্লামেন্ট স্থগিত করার রায়কে বেআইনি এবং বাতিল ঘোষণা করেছেন। এর ফলে এমপিদেরকে এখন সামনের দিনগুলোতে ওয়েস্টমিনস্টারে ফিরতে হবে। এরই মধ্যে ৩১শে অক্টোবরের মধ্যে চুক্তিবিহীন একটি বেক্সিট সম্পাদনের বিরুদ্ধে আইন পাস হয়েছে। যদি ১৯শে অক্টোবরের মধ্যে বৃটেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন একটি চুক্তিতে উপনীত হতে না পারে এবং এমপিরা যদি চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিট অনুমোদন না করেন, তাহলে অবশ্যই ব্রেক্সিট বিলম্বিত করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে অনুরোধ করতে আইনগতভাবে বাধ্য বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ