কাশ্মির ইস্যু এড়িয়ে গেলেন মোদী

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

একতরফা ও বিতর্কিত ভাবে জম্মু-কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসনসহ বিশেষ সাংবিধানিক অধিকার বাতিল করে দুই ভাগ করে নাদালকে বিচ্ছিন্ন করেছে ভারত সরকার। প্রায় দুই মাস ধরে উপত্যকাকে কারাগারে পরিণত করেছে হিন্দ্যুতবাদী দল বিজেপি শাসিত কেন্দ্রীয় সরকার।

আন্তর্জাতিক মধ্যে ভারত সরকারের এমন আচরণে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ করলেও চলমান জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে কাশ্মির ইস্যু এড়িয়ে গেলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

বাংলাদেশ সময় শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দফতরে ৭৪তম অধিবেশনের ভাষণ দেন নরেন্দ্র মোদি। এদিনের ভাষণে কাশ্মীর ইস্যুতে কোনো কথাই বলেননি তিনি।

এছাড়াও তিনি সে দেশে সংখ্যালঘু মুসলিম হত্যা-নির্যাতন নিয়েও কথা বলেননি ভারত সরকারপ্রধান। তবে তিনি কথা বলেন সন্ত্রাসবাদ ও নিজের দেশের উন্নয়ন নিয়ে। 

গৌতম বুদ্ধের কথা তুলে ধরে নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ‘আমরা বিশ্বকে বুদ্ধ দিয়েছি, যুদ্ধ নয়। সেই কারণেই, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আমাদের ক্ষোভ ও দায়বদ্ধতা রয়েছে। সন্ত্রাসবাদ রাষ্ট্রসংঘ প্রতিষ্ঠার নীতির বিরুদ্ধে। মানবতার জন্য সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সারা বিশ্বের এক হওয়া একান্ত প্রয়োজন। বিভাজিত বিশ্ব কোনো কাজে আসে না।’

তবে ভারত অধিকৃত কাশ্মীরে মানবিক সংকট ও সেখানকার নাগরিকদের অবরুদ্ধ জীবনযাপনের বিষয়টি জাতিসংঘে উপস্থাপন করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যিব এরদোগান ও মালয়েশিয়া প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ।

দিল্লি জম্মু-কাশ্মীরে সংবিধানের ৩৭০ ধারার সুযোগসুবিধা প্রত্যাহার করার পর সেখানকার মুসলিমদের জন্য বড়ই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে পাকিস্তান। কাশ্মিরীদের ব্যাপারে অনেকটা ফিলিস্তিনিদের ওপর দখলদার ইহুদিবাদী বন্ধুরাষ্ট্র ইসরায়েলের পথ বেছে নেয়া মোদির সরকারের তীব্র সমালোচনা করছে পাকিস্তান। এমনকি কাশ্মির ইস্যুতে পারমাণবিক যুদ্ধেরও ইঙ্গিত দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান কান । 

অবরুদ্ধ উপত্যকাটিতে ভারত সরকারের নির্মম অত্যাচারের বিষয়টি বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরে ইমরান খান বলেন, গত ৫২ দিন ধরে ৮০ লাখ কাশ্মীরিকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। ৯ লাখের বেশি সেনা মোতায়েন করে সেখানকার নাগরিকদের সঙ্গে পশুসূলভ আচরণ করছে আরএসএস মতাদর্শী মোদি সরকার।

আরএসএস মতাদর্শী ভারতের বর্তমান সরকার হিটলারের নাৎসি বাহিনীর মানসিকতা নিয়ে মুসলিমনিধন করছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, এ সরকারের হাতেই গুজরাটে মুসলিমদের ওপর গণহত্যা পরিচালিত হয়েছে। কাশ্মীরে কারফিউ প্রত্যাহারের পর আমরা আবারও এমন একটি গণহত্যার আশঙ্কা করছি।

মুসলিম নির্যাতনে বিশ্ব সম্প্রদায়ের নীরবতার সমালোচনা করে ইমরান খান বলেন, মুসলমানদের সন্ত্রাসী আখ্যায়িত করে তাদের ব্যাপারে সবাই নীরব বসে থাকে। আজকে যদি ইহুদিরা এভাবে অবরুদ্ধ থাকতো, তাহলে কি বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া এমন হতো? রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালানো হলো, আন্তর্জাতিক শক্তি কি ভূমিকা পালন করেছে?

তিনি বলেন, মুসলিমদের মধ্যে যারা উগ্রবাদে জড়ায়, তারা ইসলামের কারণে নয় ইনসাফের অভাবেই এ পথে পা বাড়ায়। এ জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দায় এড়াতে পারে না।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ফোনঃ +৪৪-৭৫৩৬-৫৭৪৪৪১
Email: [email protected]
স্বত্বাধিকারী কর্তৃক sheershakhobor.com এর সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত