fbpx
 

ইতালিতে করোনা নিয়ে কারাগারে দাঙ্গা, নিহত ১২

Pub: বুধবার, মার্চ ১১, ২০২০ ১:৩৩ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ইতালির কারাগারগুলোতে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া রোধে নেওয়া পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে দাঙ্গায় মৃতের সংখ্যা ১২ জনে দাঁড়িয়েছে। এমনিতেই দেশটিতে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত বন্দি কারাগারে রয়েছে। দাঙ্গার সুযোগে একটি কারাগার থেকে কিছু বন্দি পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে।

ইতালিতে ব্যাপকহারে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টালমাটাল অবস্থাতেই কারাগারগুলোতে ভাইরাসটির ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে পরিবারের সদস্যদের কারাগারে এসে বন্দি স্বজনদের সঙ্গে দেখা করার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। এতে অধিকাংশ কয়েদি ক্ষিপ্ত হয়ে কারাগারে আগুন লাগিয়ে, কারারক্ষীদের জিম্মি করে রবিবার প্রতিবাদ শুরু করেন কয়েদিরা। 

দীর্ঘদিন ধরেই ইতালির কারাগারগুলোতে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত বন্দি রয়েছে।এ কারণে সেখানে ভাইরাসটির সংক্রমণ শুরু হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।

ইতালির কারাগারগুলোতে প্রায় ৬১ হাজার ২৫০ জন বন্দি আছে। এ সংখ্যা কারাগারগুলোর ধারণক্ষমতার চেয়ে প্রায় ১০ হাজার বেশি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।  

দেশটির বিচার মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মঙ্গলবারের মধ্যে সহিংস প্রতিবাদগুলো নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। সোমবার দাঙ্গার সুযোগ নিয়ে দক্ষিণাঞ্চলীয় ফোজার একটি কারাগার থেকে ৫০ জন বন্দি পালিয়ে গিয়েছিল, মঙ্গলবার সকালে তাদের মধ্যে ২২ জনকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

কিন্তু বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, তারপরও ১০টি কারাগারে এখনও বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। যাদের জিম্মি করা হয়েছিল তাদের সবাইকে বন্দিরা ছেড়ে দিয়েছে অথবা পুলিশ মুক্ত করেছে। মূলত কারারক্ষী ও স্থাস্থ্য কর্মীদেরই জিম্মি করা হয়েছিল। 

রবিবার ও সোমবার মোদেনা কারাগারে সাত জন বন্দি মারা যান। মঙ্গলবার সেখানে আরও দু’জনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। এদিন রিয়েতির একটি কারাগারে আরও তিন বন্দির লাশ পাওয়া যায়।

বিচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কারাগারের ক্লিনিক থেকে লুট করা ওষুধ মাত্রারিক্ত সেবনেই অধিকাংশ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, এমনটাই ধারণা করা হচ্ছে। 

করোনা ভাইরাসে চীনের পর বর্তমানে ইতালির অবস্থাই সবচেয়ে খারাপ। যখন চীনে পরিস্থিতি প্রায় নিয়ন্ত্রণে এসে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে, তখন ইতালিতে সরকারি নির্দেশে দেশের ৬ কোটি লোককে কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় বসবাস করতে হচ্ছে।

মঙ্গলবার একদিনেই ১৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৩১ জনে দাঁড়িয়েছে এবং আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ১০ হাজার ১৪৯ জন হয়েছে। 

এদিকে চীন থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাস আতঙ্ক ছড়িয়েছে পৃথিবীজুড়েই। এতে বিশ্বজুড়ে নিহত হয়েছে ৪ হাজার ২৯৯ জন। শুধু চীনেই মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ১৫৮ জন। চীনের বাইরে নিহত হয়েছে ১ হাজার ১৪১ জন। 

এ ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ১৯ হাজার ২২০ জনে দাঁড়িয়েছে। চীনে আক্রান্তের সংখ্যা ৮০ হাজার ৭৭৮ জন। চীনের বাইরে ৩৮ হাজার ৪৪২ জন। আক্রান্তদের মধ্যে ৫ হাজার ৭৪৭ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এখন পর্যন্ত মোট ৬৬ হাজার ৫৬৮ জন সুস্থ হয়েছে। 

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান শহরের একটি বন্যপ্রাণীর বাজার থেকে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত বিশ্বের ১১৯টি দেশে ভাইরাসটি ছড়িয়েছে। বিশ্বজুড়ে জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি (হেলথ ইমার্জেন্সি) ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। 

এক গবেষণায় দেখা গেছে, করোনা ভাইরাস বয়স্ক ব্যক্তি এবং আগে থেকেই অসুস্থ এমন ব্যক্তিদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। 

বুধবার সকালে চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন জানিয়েছে, চীনে নতুন করে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছে ২৪ জন এবং মারা গেছে ২২ জন। এ পর্যন্ত মোট আক্রান্ত ৮০ হাজার ৭৭৮ জন এবং মারা গেছে ৩ হাজার ১৫৮ জন। 

ভাইরাস সংক্রমণের কারণে চীনসহ অধিক আক্রান্ত দেশ ভ্রমণে সতর্কতা, নিষেধাজ্ঞা এবং কড়াকড়ি আরোপ করেছে প্রায় সকল দেশ। ভাইরাসের কারণে, বিশ্বের অনেক দেশ তাদের নাগরিকদের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। অধিকাংশ বিমান সংস্থার ফ্লাইট বাতিল করা হচ্ছে। 

চীনে উদ্ভূত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা। এখন পর্যন্ত বিশ্বের ১১৯টি দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। শুধু চীনেই আক্রান্তের সংখ্যা ৮০ হাজার ৭৭৮ জন। চীনের বাইরে শনাক্ত হয়েছে ৩৮ হাজার ৪৪২ জন। এর মধ্যে ইটালিতে ১০ হাজার ১৪৯ জন। যা চীনের বাইরে সর্বোচ্চ।

যেসব দেশে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে-

নিহত হওয়া দেশগুলোর মধ্যে চীনে ৩ হাজার ১৫৮, ইটালিতে ৬৩১, ইরানে ২৯১, দক্ষিণ কোরিয়ায় ৬১, যুক্তরাষ্ট্র ৩১, ফ্রান্স ৩৩, স্পেন ৩৬, জাপান ১০, ডায়মন্ড প্রিন্সেস জাহাজে ৭, ইরাক ৭, হংকং ৩, অস্ট্রেলিয়া ৩, যুক্তরাজ্য ৬, নেদারল্যান্ড ৪, জার্মানি ২, সুইজারল্যান্ড ৩, সান ম্যারিনো ২, ফিলিপাইন, পানামা, মরক্কো, মিশর, থাইল্যান্ড,  আর্জেন্টিনা, কানাডা, লেবানন ও তাইওয়ানে ১ জন করে। 

Hits: 46


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ