fbpx
 

‘করোনার নতুন কেন্দ্র হতে পারে যুক্তরাষ্ট্র’

Pub: বুধবার, মার্চ ২৫, ২০২০ ৩:২৩ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ইউরোপের পর যুক্তরাষ্ট্র করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) বিস্তারের নতুন কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটি বলছে, দেশটিতে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুতগতিতে বাড়ছে। এ থেকে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র এ ভাইরাস বিস্তারের নতুন কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। 

ডব্লিউএইচও’র মুখপাত্র মার্গারেট হ্যারিস বলেছেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুতগতিতে বাড়তে দেখছি। এ থেকে আশঙ্কা করা যায় যুক্তরাষ্ট্র এ ভাইরাস বিস্তারের নতুন কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।’

জন হপকিন্স ইউনিভার্সিটির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ২২৫ জনের। যা দেশটিতে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। এ নিয়ে করোনায় দেশটিতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৭৮ জনে। 

এছাড়া এই ভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় ১১ হাজার ৮৯ জনসহ আক্রান্তের সংখ্যা ৫৪ হাজার ৮২৩ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছে বাড়ি ফিরেছেন মাত্র ৩৭৮ জন। 

যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে ৫৩ হাজার ৬৬৭ জন আক্রান্ত ব্যক্তি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৫২ হাজার ৯৯২ জনের অবস্থা সাধারণ। বাকি ১ হাজার ১৭৫ জনের অবস্থা গুরুতর, যাদের অধিকংশই আইসিউতে রয়েছেন।

দেশটির জাতীয় স্বাস্থ কমিষন জানিয়েছে মঙ্গলবার পর্যন্ত ৩ লাখ ১৩ হাজার জনের করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে। তার মধ্যে ৫৪ হাজারের বেশি রিপোর্ট পজেটিভ এসেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফেস মাস্ক ও ভেন্টিলেটর সঙ্কটে পড়তে হচ্ছে বলে উঠে এসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক টুইটে।

একদিকে যখন ডব্লিউএইচও থেকে এমন সতর্কবার্তা এসেছে, তখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বার্থে জনজীবন স্বাভাবিক করার পক্ষে মত দিয়েছেন।

ট্রাম্প বলেছেন, অর্থনীতির চাকা স্বাভাবিক ধারায় ফিরিয়ে আনার পথ খুঁজছেন তিনি। করোনা ভাইরাসের কারণে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ক্ষতি এড়াতে চান। বর্তমান যে পরিস্থিতি, তা তিন বা চার মাসের বেশি থাকবে না। ট্রাম্প মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র শাট ডাউনের জন্য সৃষ্টি হয়নি।

মঙ্গলবার এক টুইটে তিনি বলেছেন, আমাদের জনগণ কাজে ফিরতে চায়। তারা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখবে এবং বয়স্কদের বিশেষ যত্ন নেয়া হবে। আমরা একসাথে দুটি কাজই করতে পারবো। সমাধানটা সমস্যার চেয়ে বেশি কঠিন হতে পারে না। কংগ্রেসকে এখনই কিছু একটা করতে হবে। আমরা অবশ্যই ঘুরে দাঁড়াবো।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মার্ক এসপার অবশ্য ভিন্ন কথা বলছেন। তিনি বলেছেন, আমার মনে হয় আমাদের কয়েক মাসের জন্য এ পরিস্থিতি থাকবে ধরে নিয়ে পরিকল্পনা থাকা উচিত। আমরা সেভাবেই এগোচ্ছি।

এখনও পর্যন্ত করোনার থাবায় সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত ইতালিতে পর পর দুদিন মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে, তবে সে সংখ্যাটিও ৬শর বেশি। তবে ইতালিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা যা হিসাবে আছে তার চেয়ে ১০ গুণ বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তেমনটা হলে ৬ কোটির দেশটিতে আগামী সপ্তাহ নাগাদ আক্রান্তের সংখ্যায় চীনকে ছাড়িয়ে যাবে। দু’সপ্তাহ আগে ইতালির নেয়া শক্ত পদক্ষেপের সুফল এখন পাওয়া যাচ্ছে। আগামী কয়েক দিনের তথ্যে বোঝা যাবে দেশটিতে আসলেও আক্রান্তের হার কমছে কি না।

যেসব দেশে করোনা ভয়াবহ আকারে ছড়িয়েছে তার একটি স্পেন। সেখানে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৯৬ জনে। স্পেনে এ ভাইরাসে আক্রান্তদের ১৪ শতাংশই স্বাস্থ্যকর্মী। 

বিভিন্ন দেশের সরকারগুলো শক্ত পদক্ষেপ নেয়ার কারণে বিশ্বের প্রায় ১৭০ কোটি মানুষকে ঘরবন্দি থাকতে বলা হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে দু মাসের জন্য জরুরি স্বাস্থ্য অবস্থা জারি করেছে ফ্রান্স।

দক্ষিণ আফ্রিকাতে তিন সপ্তাহের লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। দেশটির আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৫৪। আফ্রিকা মহাদেশে এটিই সর্বোচ্চ। বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহারের চিন্তা চলছে থাইল্যান্ডে, বুধবার থেকে কারফিউ জারি হচ্ছে মিসরে। একবছরের জন্য পিছিয়েছে টোকিও অলিম্পিক।

এদিকে চীন দাবি করছে, তারা সেখানে করোনার বিস্তার ঠেকাতে সক্ষম হয়েছে। গত কয়েকদিনে যেকজন আক্রান্ত হয়েছেন তাদের সবাই-ই অন্য দেশ থেকে আক্রান্ত হয়েছেন। তবে চীনের এমন দাবির বিশ্বাযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।

উল্লেখ্য, চীন থেকে করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) ছড়িয়ে পড়েছে পুরো বিশ্বে। সেখানে ভাইরাসটি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে চলে আসলেও অন্যান্য দেশে বাড়ছে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা। এতে প্রতিদিনই প্রাণ হারাচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। 

এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে শুধু গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বজুড়ে প্রাণ হারিয়েছেন ২ হাজার ২৯৬ জন। এর মধ্যে ইতালিতেই ৭৪৩ জন। এ নিয়ে করোনা ভাইরাসে বিশ্বে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ১৮ হাজার ৯০৭ জনে। এর মধ্যে চীনে মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ২৮১। চীনের বাইরে মারা গেছে ১৫ হাজার ৬২৬ জন।

বিশ্বজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৩ হাজার ৩৮৪ জনসহ আক্রান্তের সংখ্যা ৪ লাখ ২২ হাজার ৬২৯ জন। এর মধ্যে ১ লাখ ৮ হাজার ৮৭৯ জন সুস্থ হয়েছে বাড়ি ফিরেছেন। চীনে আক্রান্তের সংখ্যা ৮১ হাজার ২১৮ জন। চীনের বাইরে আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লাখ ৪০ হাজার ২৪২ জন। 

এ ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে বর্তমানে ২ লাখ ৯৪ হাজার ৮৫৫ জন আক্রান্ত রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২ লাখ ৮১ হাজার ৭৬০ জনের অবস্থা সাধারণ। বাকি ১৩ হাজার ৯৫ জনের অবস্থা গুরুতর, যাদের অধিকাংশই আইসিউতে রয়েছেন।

গত বছরের ডিসেম্বরে চীনে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব হয়। এখন পর্যন্ত এ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা চার লাখ ছাড়িয়েছে। প্রথম এক লাখ রোগী শনাক্ত হতে সময় লেগেছে ৬৭ দিন। পরবর্তী এক লাখ শনাক্ত হয় ১১ দিনে। চার দিনে তৃতীয় এক লাখ রোগী শনাক্ত হয়। আর ৪র্থ লাখ হতে সময় নিয়েছে মাত্র ৩ দিন। 

এর আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান ড. টেড্রস আধানম গেব্রেইয়সুস অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, সরকারগুলো এই বৈশ্বিক মহামারি ঠেকাতে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তিনি সরকারগুলোকে নিজ নিজ দেশের করোনাভাইরাস পরীক্ষার ব্যবস্থা আরও বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন। এছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় এখন লকডাউন যথেষ্ট নয়। 

করোনা ভাইরাস পৃথিবীজুড়ে অদ্ভুত এক আঁধারের ছায়া নিয়ে এসেছে। চারিদিক নিরব, নিস্তব্ধ। কেউ কারও সাথে মিশছে না বা চাইছে না। যেন সবাই সবাইকে এড়িয়ে যেতে পারলেই বাঁচে। ‘বিশ্ব গ্রাম’ ধারণায় মানুষ অনেক বছর ধরেই একাকি জীবনের অভ্যস্ত হয়ে উঠছিল। কিন্তু এতটা একাকি হয়তো তারা কখনোই হয়নি। যে চাইলেও তারা একে অন্যের সাথে দেখা করতে পারবে না। সবাই যেন এক যুদ্ধ কেন্দ্রীক জরুরি অবস্থায় রয়েছে।

এক করোনা ভাইরাস পুরো বিশ্বকেই যেন স্তব্ধ করে দিয়েছে। অধিকাংশ দেশেই রাস্তা-ঘাট, অফিস-আদালত, শপিংমল-মার্কেট, রেস্তোরাঁ-বার ফাঁকা। যেন সব ভূতুড়ে নগরী, যুদ্ধকালীন জরুরি অবস্থা চলছে। সবার মধ্যে ভয়, আতঙ্ক আর আশঙ্কা।

উহান, চীনের শিল্পোন্নত এই শহর থেকেই প্রথম করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে ভাইরাসটি প্রায় নিয়ন্ত্রণে চলে আসলেও চীনের বাইরে ব্যাপক হারে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা।

চীনে উদ্ভূত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা। এখন পর্যন্ত বিশ্বের ১৯৭টি দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে।

এ রোগের কোনো উপসর্গ যেমন জ্বর, গলা ব্যথা, শুকনো কাশি, শ্বাসকষ্ট, শ্বাসকষ্টের সঙ্গে কাশি দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। জনবহুল স্থানে চলাফেরার সময় মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। বাড়িঘর পরিষ্কার রাখতে হবে। বাইরে থেকে ঘরে ফিরে এবং খাবার আগে সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে। খাবার ভালোভাবে সিদ্ধ করে খেতে হবে।

Hits: 22


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ