সরকার ক্ষমতা রক্ষায় জাতির আত্মমর্যাদা বিক্রি করেছে : রব

Pub: Wednesday, August 19, 2020 3:55 AM
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেছেন, সরকার ক্ষমতা রক্ষায় জাতির আত্মমর্যাদা বিক্রি করে দিয়েছে। যেনতেনভাবে সরকারের ক্ষমতায় থাকার লোভ রাষ্ট্রের অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে।

যেসব প্রতিষ্ঠান জনগণ ও রাষ্ট্রের পক্ষে অবস্থান নেয়ার কথা, সেগুলো দলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ফলে এখন আর রাষ্ট্র নেই; এটি একটি ভূখণ্ড মাত্র। রাষ্ট্রকে পুনরুদ্ধারের জন্য এখন আমাদের লড়াই করতে হবে। রাষ্ট্রের অস্তিত্বের স্বার্থেই যে কোনো সময় গণঅভ্যুত্থান, গণ-আন্দোলন বা গণবিস্ফোরণ ঘটবে।

যুগান্তরের সঙ্গে একান্ত আলাপকালে স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলক রব আরও বলেন, করোনা মোকাবেলায় সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ। তিন হাজারের অধিক মূল্যবান প্রাণ ঝরে যাওয়ার পরও সরকার করোনা সফলভাবে মোকাবেলা করতে পেরেছে বলে আত্মতুষ্টি প্রকাশ করে যাচ্ছে। এর চেয়ে নির্মম-বেদনাদায়ক-মর্মান্তিক আর কিছু হতে পারে না। তিনি বলেন, করোনা-পরবর্তী বিশ্ব রাজনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। করোনা মোকাবেলায় ব্যর্থ সরকারগুলো ক্ষমতা অব্যাহত রাখার প্রশ্নে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জে পড়বে।

রাজধানীর উত্তরার বাসায় যুগান্তরের সঙ্গে আলাপকালে বর্তমান করোনা পরিস্থিতি, সরকারের নেয়া নানা উদ্যোগ, ব্যর্থতা, স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি, অনিয়ম, করোনাকালীন রাজনীতি ও অর্থনীতি, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনসহ সার্বিক বিষয় নিয়ে কথা বলেন আ স ম আবদুর রব।

করোনা মোকাবেলায় সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, নকল মাস্ক সরবরাহের কারণে কত চিকিৎসকের মৃত্যু ঘটল। সরকারদলীয় লোকজনকে ব্যবসা দিতে গিয়ে অসংখ্য প্রাণ চলে গেল। আজ তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে; কিন্তু যাদের প্রাণ গেল তাদের দায় কে নেবে? পরীক্ষাবিহীন ভুয়া সনদে কতজনের মৃত্যু হয়েছে বা কতজন সংক্রমিত হয়েছে, তার দায় কে নেবে।

পরীক্ষাবিহীন ভুয়া সনদ বিশ্বব্যাপী রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ধুলায় মিশিয়ে দিয়েছে। করোনার মধ্যেও সরকারি আশ্রয়-প্রশ্রয়ে দুর্নীতির যে তাণ্ডব চলছে, তা সরকারের সফলতার বহিঃপ্রকাশ! তারপরও সরকার বলছে বিশ্ববাসী আমাদের কাছ থেকে করোনা মোকাবেলায় শিক্ষা নিতে পারে। সরকারের আত্মমর্যাদার কত অভাব। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত একটি রাষ্ট্রকে সারা বিশ্বের কাছে হাস্যকর করে তুলছে।

সফলভাবে করোনা মোকাবেলায় পদক্ষেপ সম্পর্কে তিনি বলেন, অতিদ্রুত সবাইকে নিয়ে জাতীয় স্বাস্থ্য কাউন্সিল গঠন করতে হবে। সব মানুষের স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক বিষয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গণমুখী জাতীয় স্বাস্থ্য নীতি প্রণয়ন, স্বাস্থ্যসহ সব খাতের দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত রাঘববোয়ালদের বিচারের আওতায় আনা, স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বরাদ্দ বাড়ানো, হাসপাতালসহ সমগ্র স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে দক্ষ, আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করা, প্রত্যেক নাগরিকের জন্য কম্পিউটারাইজড স্বাস্থ্য ডেটা সংরক্ষণের ব্যবস্থা, ওষুধের মূল্য ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা, করোনা পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ানোর জন্য উপজেলা পর্যায়ে ল্যাব স্থাপন, করোনা নিয়ন্ত্রণে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শমতো ব্যবস্থা গ্রহণ করা, করোনা পরীক্ষার ফি বাতিল, টেস্টবিহীন করোনা পরীক্ষার ভুয়া সার্টিফিকেট প্রদান রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ দেশের সার্বিক দুর্নীতি প্রসঙ্গে আ স ম আবদুর রব বলেন, শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কেন, সারা দেশের রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। এ জন্য স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে দুর্নীতিমুক্ত করতে হলে সারা দেশ থেকে দুর্নীতি দূর করতে হবে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি ঢুকে পড়েছে। এসব খতিয়ে দেখার কেউ নেই এবং এখান থেকে দুর্নীতি উচ্ছেদের প্রচেষ্টাও আজ পর্যন্ত গ্রহণ করা হয়নি।

করোনা মহামারী মোকাবেলায় জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন কতটুকু, সরকার কেন জাতীয় ঐক্যে সাড়া দিচ্ছে না-এমন প্রশ্নের জবাবে রব বলেন, জাতীয় সংকট জাতীয় ঐক্য দিয়ে মোকাবেলা করতে হয়।

জাতীয় ঐক্য নবজাগরণের সৃষ্টি করে, চেতনায় উজ্জীবনী শক্তির উন্মেষ ঘটায়। ফলে সংকট মোকাবেলায় জাতি উচ্চতম আত্মশক্তির অধিকারী হয়। সরকারের ক্ষমতা থাকার অতি লোভ, যেনতেন প্রকারে ক্ষমতা থাকার লোভ রাষ্ট্রের অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে।

করোনা-পরবর্তী রাজনীতি প্রসঙ্গে রব বলেন, বিশ্বযুদ্ধের জয়ের মতোই এই করোনাযুদ্ধে যারা জয়ী হবে, তারাই নেতৃত্ব দেবে নতুন বিশ্ব ব্যবস্থাপনার। বাংলাদেশের এখন উচিত হবে নতুন বিশ্ব ব্যবস্থার অগ্রগামী দেশগুলোর সঙ্গে আগে থেকেই সম্পৃক্ত হয়ে নতুন পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার অংশীদার হওয়া।

যে স্বপ্ন নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছিলেন, তা কতটুকু পূর্ণ হয়েছে জানতে চাইলে এ মুক্তিযোদ্ধা বলেন, স্বপ্ন ছিল রাষ্ট্র হবে জনগণের। জনগণ কর্তৃক জনগণ দ্বারা এবং জনগণের জন্য রাষ্ট্র নির্মাণের স্বপ্ন ’৭২ সালেই আমরা পরিত্যাগ করে ফেলেছি।

যে রাষ্ট্রব্যবস্থাকে উচ্ছেদের জন্য সশস্ত্র সংগ্রাম রচিত হল অথচ সে রাষ্ট্রব্যবস্থাই পুনর্বহাল করা হল। ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রব্যবস্থা হচ্ছে গণবিরোধী রাষ্ট্রব্যবস্থা আর আমাদের মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য ছিল- সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের ভিত্তিতে বাংলাদেশ বিনির্মাণ। এখন বিশ্বে অতি দ্রুত ধনী হওয়ার দেশের তালিকায় প্রথম বাংলাদেশ। অতি দ্রুত ধনী হওয়া মানে লুটপাটের স্বর্গরাজ্য। বৈষম্য এখন বিপজ্জনক পর্যায়ে উপনীত হয়েছে।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
নিউজটি পড়া হয়েছে 10021 বার

Print

শীর্ষ খবর/আ আ