আশা করি আইনি দিকগুলো আদালত বিবেচনায় আনবে

Pub: সোমবার, মে ৭, ২০১৮ ৩:৪২ অপরাহ্ণ   |   Upd: সোমবার, মে ৭, ২০১৮ ৩:৪২ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। ১৯৫৩ সালের ২৭ জুলাই বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন। একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৮ সালে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর থেকে আইন পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন।

ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন অংশ নেন দেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে। পরবর্তীতে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। বিএনপির ষষ্ঠ কাউন্সিলে দলটির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান মনোনীত হয়েছেন। সম্প্রতি টানা দ্বিতীয়বার ও মোট তৃতীয়বারের মতো সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবী প্যানেলের সদস্যদের মধ্যে অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন অন্যতম। হাইকোর্টে বিএনপি নেত্রীকে দেয়া জামিনের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার আপিল শুনানির কথা রয়েছে। খালেদা জিয়ার জামিন, শারীরিক অবস্থা ও প্রাসঙ্গিক বিষয়ে তিনি কথা বলেছেন । তার সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন খাদেমুল ইসলাম। পাঠকদের জন্য সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হলো-

আপিলে বেগম খালেদা জিয়ার জামিন বহাল থাকার বিষয়ে আপনারা কতটা আশাবাদী?
জয়নুল আবেদীন: অতীতে এই ধরনের মামলায় দেশের সর্বোচ্চ আদালত ইন্টারফেয়ার করেনি। আশা করি মামলার আইনের দিকগুলো আদালত বিচার বিশ্লেষণের মধ্যে আনবেন। এই পর্যন্ত একটা উদাহরণ নেই যে এই সেন্টেন্সে (কম সাজা) দেশের সর্বোচ্চ আদালত কোনওরকম কোন স্থগিত করেছে বা বেইল আবেদন খারিজ করেছে। এখানে সাধারণভাবে যে জিনিসগুলো অতীতের এসেছে সেটা হচ্ছে হাইকোর্ট বিভাগ হয়তো কোনো কারণে বেইল দেয়নি, সেগুলো অ্যাপিলেট ডিভিশনে গেছে। কিন্তু যেগুলো হাইকোর্ট ডিভিশন জামিন দিয়েছেন কম সাজায় সাধারণভাবে আপিল বিভাগ সেক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করেন না। কিন্তু এই মামলায় জামিন স্থগিত করেছেন এজন্য আমরা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। এ কারণে আমরা অধিকভাবে প্রস্তুতি নিয়েছি এই মামলায় বিভিন্ন দিক তুলে ধরার জন্য।

বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে, আপনারা তো সম্প্রতি সাক্ষাৎ করে এসেছেন, তার অবস্থা কেমন দেখেছেন?
জয়নুল আবেদীন: বেগম খালেদা জিয়া আজ তিন মাস জেলে। যে অবস্থায় তিনি গিয়েছেন আমরা শনিবার দেখে আসছি ম্যাডাম সে অবস্থার মধ্যে নেই। ম্যাডাম অনেক অসুস্থ এবং তিনি তাঁর বাম পা নাড়াতে পারছেন না এবং তার ঘাড়ের ব্যথা। আমরা এও জানতে পেরেছি জেলখানা কর্তৃপক্ষও বলেছে তার যে ধরনের রোগ এ রোগের চিকিৎসা জেল কর্তৃপক্ষের পক্ষে করা সম্ভব নয়। এজন্য ইতিধ্যেই তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে লিখেছেন বাইরে চিকিৎসার জন্য। আমরা মনে করি এই চিকিৎসা একমাত্র ইউনাইটেড হসপিটালে আছে। কারণ এ ধরনের চিকিৎসকার জন্য যে সমস্ত উন্নত মেশিনপত্র দরকার এগুলো ইউনাইটেড হাসপাতাল ছাড়া বাংলাদেশের কোনও হাসপাতালে নেই। সেজন্য সব দিক বিচার বিশ্লেষণ করে আমরা মনে করি ৮ তারিখে দেশের সর্বোচ্চ আদালত থেকে বেগম খালেদা জিয়াকে বেইল দেবেন।

বিএনপি বলছে রাজনৈতিক মামলায় দলের চেয়ারপারসনকে সাজা দেয়া হয়েছে, সেক্ষেত্রে এ ধরনের মামলায় আইনি প্রক্রিয়ায় তাকে কি মুক্ত করা সম্ভব?
জয়নুল আবেদীন: আদালতকে রাজনৈতিকভাবে দেখা উচিত নয়। সরকার এটাকে রাজনৈতিকভাবে দেখতে পারে। সরকার চাইবে তাকে রাজনৈতিকভাবে তাকে জেলখানায় রাখার জন্য, কিন্তু আদালত সরকারের সঙ্গে একাকার হওয়া উচিত নয়। এটা আমি দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আইনজীবীদের সভাপতি হিসেবে মনে করি। আমি মনে করি সরকারের ইচ্ছা পূরণ করার জন্য বেগম খালেদা জিয়ার জেলকে দীর্ঘায়িত আদালত অন্তত করবেন না।

নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে এখন অনেকেই সংশয়ে আছে, আপনি কি মনে করেন?
জয়নুল আবেদীন: সরকার চাচ্ছে বেগম খালেদা জিয়াকে নির্বাচনের আগে যাতে তিনি বের হতে না পারেন। কিন্তু আমাদের দেশের সর্বোচ্চ আদালত সরকারের সেই ইচ্ছার সাথে একাকার হয়ে যেতে পারে না। তাহলে পরে দেশের বিচার বিভাগের উপর মানুষের আর আস্থা থাকবে না। যখন মানুষের বিচার বিভাগের উপর কোনো আস্থা থাকে না, তখন দেশে কোনও গণতন্ত্র থাকে না। তখন আইনের শাসন বলতে কিছুই থাকে না। এই অবস্থাটা আমাদের দেশের সর্বোচ্চ আদালত করতে পারেন না।

খালেদা জিয়াকে আরও কয়েকটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে, তাই অরফানেজ মামলায় আপিল বিভাগ জামিন দিলেই কি তার সহসাই মুক্তি সম্ভব?

জয়নুল আবেদীন: ওই মামলাগুলো খুব একটা কঠিন মামলা নয় এবং ওই মামলাগুলো আমরা মনে করি এই মামলায় বেইল পাওয়ার পরে ওই মামলায় যেহেতু কনভিকশন দেয়া হয়নি শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে। কাজেই শ্যোন অ্যারেস্টের মামলা নিয়ে আমরা খুব একটা চিন্তিত না।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1237 বার