খালেদা জিয়ার মুক্তিতে চাই কার্যকর রাজনৈতিক আন্দোলন

Pub: বৃহস্পতিবার, জুন ৭, ২০১৮ ৩:০৮ অপরাহ্ণ   |   Upd: বৃহস্পতিবার, জুন ৭, ২০১৮ ৩:০৮ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

বিএনপির বর্তমান রাজনীতিতে যে কয়েকজন মেধাবী, পরিশ্রমী, সৎ ও বিনয়ী তাদের মধ্যে অন্যতম বিএন‌পির নির্বাহী ক‌মি‌টির সদস্য আবু না‌সের মুহাম্মাদ রহমাতুল্লাহ। ১/১১ সময় দেশে যখন রাজনৈতিক সংকট চলছিলো তখন জাতীয় প্রেসক্লাব, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিসহ বিভিন্ন জায়গায় সভা সমাবেশ এবং মানববন্ধনের আয়োজন করে দুঃসময়ে বিএনপির পক্ষে তিনি অগ্রণীভূমিকা পালন করেন। নেতৃত্বের অসাধারণ গুণ এবং সবসময় রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় থাকায় ক্রমে হয়ে উঠছেন বিএনপির অপরিহার্যদের একজন এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আস্থাভাজন।

বর্তমানে তিনি বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং স্বাধীনতা ফোরামের প্র‌তিষ্ঠাতা সভাপতি।

সম্প্রতি একান্ত সাক্ষাৎকারে দেশের জনপ্রিয় অনলাইন গণমাধ্যম এর মুখোমুখি হন এই রাজনীতিক। দীর্ঘ কথোপকথনে উঠে আসে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতা, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি, প্রত্যাশা ও ব্যক্তিজীবনের জানা-অজানা নানা তথ্য-উপাত্ত। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আহসান হা‌বিব সবুজ।

দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
আবু নাসের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ: দে‌শে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটজনক। দেশের রাজনীতি সংকটটা ১০ বছর ধরে ঘনীভূত হচ্ছে। এর আ‌গে এরকম ছি‌ল না। স্বাধীনতার পরে বর্তমানে রাজনীতিতে সবচেয়ে বেশি সংকটজনক সময় বিরাজ করছে। একটি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যদি সংকটজনক হয় তাহলে পুরো দেশেই সংকটজনক বা মানু‌ষের মা‌ঝে অসন্তোষ বিরাজ ক‌রে।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আপনারা নির্বাচন নিয়ে ভাবছেন কি না?
আবু নাসের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ: যে দেশে নির্বাচনে প্রকাশ্যে সিল মারা হয়, ব্যালেট বাক্স ছিনতাই করা হয়, সে সব মিডিয়াতে দেখানোর পরেও নির্বাচন কমিশন বলে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে- সেখানে নিরপেক্ষ নির্বাচনের কোনো পরিবেশ নেই। আর নিরপেক্ষ নির্বাচন ছাড়া একটি জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারে না। দেশের এ অবস্থায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া জেলে, যিনি দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী, তাকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে রাখা অবস্থায় এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসনের নামে মিথ্যা মামলা থাকা অবস্থায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নির্বাচনে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বর্তমানে নিরপেক্ষ নির্বাচনের কোন সুযোগ নেই এবং সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার গঠন ছাড়া নির্বাচনে যাওয়া হবে বলে আমার মনে হয় না।

বেগম খালেদা জিয়ার কারাগার দীর্ঘ সময় হলে বিএনপির করণীয় কী?
আবু নাসের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ: বেগম খালেদা জিয়া তো কোন অপরাধ করে জেলে যাননি, তিনি রাজনৈতিকভাবে জেলে গেছেন। তিনি যদি বিএনপি চেয়ারপারসন না হতেন দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দলের চেয়ারপারসন না হতেন তাহলে তাকে জেলে যেতে হতো না। তিনি রাজনৈতিকভাবেই কারাগারে গেছেন। তাই রাজনৈতিকভাবেই তাকে মুক্ত করতে হবে। সরকারের আঙ্গুলির মধ্য দিয়ে আইন বিচার কার্য পরিচালিত হয় কাজেই বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হলে একটি কার্যকর রাজনৈতিক আন্দোলন করেই মুক্ত করতে হবে।

একদিকে রাজনৈতিক সমঝোতা অন্যদিকে আন্দোলনের হুমকি- আসলে নির্বাচন নিয়ে বিএনপির অবস্থান কী?
আবু নাসের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ: যেকোনো সংকটের সমাধান করতে হয় সমঝোতার মাধ্যমে। যদি সমঝোতার ব্যবস্থা না হয় তাহলে আমাদেরকে পাল্টা ব্যবস্থা রাখতে হবে। আ‌ন্দোল‌নের কথা বলা হুমকি নয়। তারা (আওয়ামী লীগ) মাঝে মাঝে বলে বিএনপির শক্তি নেই, এজন্য হুমকিটা দিয়ে রাখা ভালো। কারণ সরকার যখন বিএনপির আন্দোলন ঠেকাতে পারবে না, তখন যেন এটাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে নানা ধরনের মিথ্যাচার করতে না পারে, সেই ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। বিএনপি আন্দোলন করবে, আন্দোলন করার মত ক্ষমতাও তাদের আছে এবং তারা যে আন্দোলন করবে এই আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণের দাবি আদায় করে ছাড়বে।

বেগম খালেদা জিয়া জেলে যাওয়ার পরে বিএনপির মধ্যে ফাটল ধরেছে নাকি তারা ঐক্যবদ্ধ হয়েছে?
আবু নাসের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ: বেগম খালেদা জিয়া জেলে যাওয়ার পরে সবকিছু মিলে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের নির্দেশে দল ঐক্যবদ্ধভাবে রয়েছে। সরকারের মাথা ব্যথা কিন্তু এখানেও। কারণ তারা চেয়েছিল বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে ভরে বিএনপিকে টুকরো টুকরো করতে। কিন্তু সেটাতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমা‌নে দলের শীর্ষ থেকে কর্মী পর্যন্ত সব নেতাকর্মী ঐক্যবদ্ধ।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের উপর ভারতের প্রভাব বাড়ছে। এর কারণটা কি?
আবু নাসের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ: এর কারণ হচ্ছে বাংলাদেশের বড় একটি দল ভারতকে প্রভু মনে করে। আর ভারতকে প্রভু মনে করার কারণে ভারত ওই দলের মাধ্যমে বাংলাদেশের ওপর প্রভাব খাটাতে চাচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ ভারতকে প্রভু মনে করে না। দেশের মানুষ যারা দেশকে ভালোবাসে বিশেষ করে বিএনপিপন্থী তারা কিন্তু ভারতকে প্রভু মনে করে না । তারা ভারতকে বন্ধু মনে করে । বন্ধুত্ব কিন্তু এক ভাবে হয় না । দেয়া-নেয়া থাকতে হয় । ভারত যদি বাংলাদেশের সাথে বন্ধুত্ব রাখতে চায়, তাহলে দেশের জনগণের সাথে বন্ধুত্ব রাখতে হবে। যদি তারা একক ব্যক্তি বা একক রাজনৈতিক দলের সাথে এ ধরনের ন্যক্কারজনক কার্যকলাপ করে, তাহলে ভুটান নেপাল থেকে যেভাবে গুটিয়ে আসতে হয়েছে, বাংলাদেশ থেকেও একদিন তাদের প্রভাব নিঃশেষ হয়ে যাবে।

রাজনীতিতে আসার কারণ কি?
আবু নাসের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ: ছোটবেলা থেকেই দেশকে মনেপ্রাণে ভালবাসতাম। সবসময় চিন্তা করতাম কিভাবে দেশের মঙ্গল হয়, দেশ উন্নত হবে, সমাজের ভাল কাজের সাথে আমি শরিক হব। এই চিন্তাটা মাথায় ঘুরপাক খেত। রাস্তাঘাটে চলার সময় দেখতাম রাস্তাঘাট ভালো না। কোন ইস্কুলে বিল্ডিং নেই । ছাত্রছাত্রীরা পড়াশোনা করতে পারছে না। তখন আমার মনে হতো আমার কাছে যদি কোনো ক্ষমতা থাকতো তাহলে এই ছাত্রছাত্রীদের জন্য দেশের জনগণের জন্য কাজ করতাম। তারই পরিপ্রেক্ষিতে দেখলাম এই ভালো কাজ করতে গেলে আমাকে রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করতে হবে এবং তা এমন রাজনীতি যে রাজনীতি করে জনগণের জন্য ভাল কিছু করা যায় । সেই চিন্তা থেকেই আস্তে আস্তে রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়েছি।

সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
আবু নাসের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ: আপনারদেরও অসংখ্য ধন্যবাদ।

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1104 বার

আজকে

  • ৯ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
  • ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
  • ১৪ই মুহাররম, ১৪৪০ হিজরী
 

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক

 
 
 
 
 
জুন ২০১৮
রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
« মে   জুলাই »
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
 
 
 
 
WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com