কাজ করতে পারিনি সরকারের জন্যই: বুলবুল

Pub: রবিবার, জুলাই ২৯, ২০১৮ ১০:৫৯ অপরাহ্ণ   |   Upd: রবিবার, জুলাই ২৯, ২০১৮ ১১:০৪ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

রাজশাহীতে ভোটের প্রচারে আওয়ামী লীগ প্রবলভাবে তুলে ধরেছে তাদের প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন আর বিএনপির প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের মেয়র হিসেবে কতটা কাজ করেছেন সেই বিষয়টি।

লিটন ২০০৮ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত মেয়র থাকাকালে নগরীর চেহারাই পাল্টে দিয়েছিলেন। সেই তুলনায় বুলবুল ¤্রয়িমান। বলার মতো কোনো কাজ নেই তার। উল্টো নগর ভবন দেনায় জর্জরিত। হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়িয়েও আয় বাড়াতে পারেননি তিনি। উন্নয়নের জন্য সরকারের পাঠানো টাকাও খরচ হয়নি।

তারপরেও ভোটাররা যাকে ইচ্ছা তাকে ভোট দিতে পারলে ২০১৩ সালের মতোই জয়ের প্রত্যাশায় ধানের শীষের প্রার্থী। একান্ত সাক্ষাৎকারে সুষ্ঠু ভোট নিয়ে সংশয়ের কথাও বলেন বুলবুল।

কেন মেয়র হতে চান?

আমার বাবা ছিলেন একজন চিকিৎসক। মানুষের সেবা করতেন। আমিও মানুষের সেবা করতে চাই। কিন্তু বাবার মতো ডাক্তার হতে পারিনি। রাজনীতি করেছি। রাজনীতিতে মানুষের সেবা করার সুযোগ আছে। আমি এই সুযোগটা কাজে লাগিয়েই মানুষের পাশে থাকতে চাই। আর এ জন্যই আবার মেয়র হতে চাই।

গত নির্বাচনে আপনি মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। কতটুকু মানুষের সেবা করতে পেরেছেন?

আমাকে কাজ করতে দেওয়া হয়নি, শুধু বিএনপি করি বলে। পাঁচ বছরের মধ্যে মাত্র ২৬ মাস দায়িত্ব পালন করেছি। বাকি সময় জেলখানা আর আদালতে কাটিয়েছি। অন্যায়ভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। উচ্চ আদালতে সেটা প্রমাণিত হয়েছে। এ জন্য শেষে দায়িত্ব ফিরে পেয়েছিলাম। নানা প্রতিবন্ধকতা সত্বেও এই সময়ের মধ্যে একজন মেয়র যতটুকু করতে পারেন, তার সবই করার চেষ্টা করেছি।

এবার নির্বাচিত হলে কি করতে চান?

মেয়র থাকাকালে বেশকিছু উন্নয়নমূলক কাজের উদ্যোগ নিয়েছিলাম। নগরীতে প্রায় ২৭০ কোটি টাকার কাজ চলছে। সেই কাজগুলো শেষ করতে চাই। এছাড়া ভারত সরকারের অনুদানের অর্থে আরও কিছু কাজ চলছে। সেসব কাজও শেষ করতে চাই। এবার নির্বাচিত হলে এবং সরকার সহযোগীতা করলে সবার আগে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে চাই।

মেয়র থাকাকালে কি নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা যায়নি?

কতটুকু করতে পেরেছি তা সবাই জানে। যতটুকু পেরেছি, করেছি। তবে মানুষের প্রত্যাশা তো অনেক বেশি। নিঃসন্দেহে সরকারের অসহযোগিতার কারণে সেগুলো পূরণ করা সম্ভব হয়নি। আমি নির্বাচিত হলে, সরকার এবার সহযোগিতা করবে বলেও আশা রাখি। কারণ, মেয়রকে অসহযোগিতা করা মানে রাজশাহীর মানুষকে অসম্মান করা। এই অসম্মান আমাকে করা হয়েছে। এর প্রতিবাদে আমি অনেক দিন সিটি করপোরেশনের গাড়ি ব্যবহার করিনি।

আপনার ইশতেহারে উন্নয়নের তেমন বার্তা নেই, কারণ কী?

শুধু মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিলেই তো হবে না। পূরণ করতে হবে। ইশতেহারের জবাবদিহিতা থাকতে হবে। এরপরও উন্নয়নের বার্তা একেবারেই নেই, তা নয়। যা কিছু পরিকল্পনার কথা ইশতেহারে বলা হয়েছে, সেগুলো পূরণ করা গেলেই রাজশাহী শহর গ্রিন সিটি, ক্লিন সিটি, হেলদি সিটি ও এডুকেশন সিটি হিসেবে গড়ে উঠবে। নগরবাসী তো এটাই চায়।

আপনি মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর নগরীর হোল্ডিং ট্যাক্স অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। ভোটে এর প্রভাব পড়বে কি না?

হোল্ডিং ট্যাক্স বেড়েছে, কিন্তু সেটা আমি বাড়াইনি। আমাকে সাময়িক বরখাস্ত করে সাবেক মেয়র তার এক আত্মীয়কে ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে বসিয়েছিলেন। তিনিই হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়িয়েছিলেন। এটা সবাই জানেন। আমি সেটা কমানোর চেষ্টা করেছিলাম। নির্বাচন চলে আসায় দায়িত্ব ছাড়তে হয়েছে। সেটা কমানো যায়নি। এবার নির্বাচিত হলে হোল্ডিং ট্যাক্স কমিয়ে দেব। এটা আমার ইশতেহারেই আছে। সুতরাং এ নিয়ে ভোটে কোনো প্রভাব পড়বে না।

আপনি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন সময় কর্মচারীরা আপনার বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছেন, গত ঈদের আগেও আন্দোলন হয়েছে। এর কারণ কী?

আন্দোলন হয়েছে একটা মহলের ইন্ধনে। তারা আমাকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করে আসেন। গত ঈদের আগে বেতন নিয়ে একটু সমস্যা হয়েছিল। কিন্তু আমি তো বেতন দিয়েছি। আমার স্বাক্ষরেই কর্মচারীদের বেতন হয়েছে। মেয়র ছাড়া কি অন্য কেউ কর্মকর্তাদের বেতন দিতে পারবে? আমি বেতন দেইনি, ভোটের আগে এগুলো অপপ্রচার।

নির্বাচনে আপনার বিরুদ্ধেও অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ করেছে আওয়ামী লীগ…

কেউ বলতে পারবে না কোথাও গিয়ে আমি অপপ্রচার করেছি। যা বলেছি, সত্য বলেছি। বরং আওয়ামী লীগই আমাদের নেতাকর্মীদের বিভিন্ন সময় হুমকি দিয়েছে। আওয়ামী লীগের কথায় প্রচার চলাকালেই আমাদের প্রায় ২৫০ জন নেতাকর্মীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। এদের মধ্যে পোলিং এজেন্টও আছে। বিএনপির বিজয় নিশ্চিত দেখে তাদের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। নির্বাচনে কারচুপির চেষ্টা করছে। আমাদের সেভাবে প্রচার চালাতে দেওয়া হয়নি। কিন্তু সুষ্ঠু নির্বাচন হলে ধানের শীষের নিরব বিপ্লব ঘটবে। এই জয় কেউ ঠেকাতে পারবে না।

ভোট সুষ্ঠু হবে বলে মনে হচ্ছে কী?

সে রকম কোনো সম্ভাবনা দেখিনি। আওয়ামী লীগ যখন-তখন আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছে। তাদের দলের এমপিরা, যারা আইনপ্রণেতা তারা আইন লঙ্ঘন করে নির্বাচনে প্রচারে অংশ নিয়েছেন। এসব তো সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্তরায়। আগেই যারা আইন মানেননি, তারা ভোটের দিন আইন মানবেন এর নিশ্চয়তা কী? আমরা তো নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করেও ফল পাইনি। তাহলে সুষ্ঠু নির্বাচনের আশা করব কীভাবে?

ভোট সুষ্ঠু না হলে কী করবেন?

আমাদের কিছু করা লাগবে না। কেউ ভোটে বাধা হয়ে দাঁড়ালে জনগণই তা প্রতিহত করবে।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1155 বার