দরকার সুস্থ রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা : হোসেন জিল্লুর রহমান

Pub: শুক্রবার, নভেম্বর ২, ২০১৮ ১২:১৫ অপরাহ্ণ   |   Upd: শুক্রবার, নভেম্বর ২, ২০১৮ ১২:১৫ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

অর্থনীতিবিদ এবং সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে মাস্টার্স ও যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাজনৈতিক সমাজতত্ত্বে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তিন দশকের বেশি সময় ধরে তিনি দারিদ্র্য, সুশাসন, স্থানীয় সরকার, শিক্ষা, টেকসই উন্নয়ন, নগরায়ণ ইত্যাদি নিয়ে গবেষণা ও নীতি প্রণয়নের কাজ করছেন। তিনি বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিপিআরসির প্রতিষ্ঠাতা। এ ছাড়া পরিকল্পনা কমিশনের পরামর্শক, বাংলাদেশ ব্যাংক বোর্ডের সদস্য ও সার্ক পোভার্টি কমিশনের সদস্য হিসেবে বিভিন্ন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন-

বর্তমান সংসদ বহাল রেখে নির্বাচন হলে সেটা কতটা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে বলে আপনি মনে করেন?

হোসেন জিল্লুর রহমান : সংসদ ভেঙে নির্বাচন দেয়াটা কয়েকটি কারণে গুরুত্বপূর্ণ। যদিও এ বিষয়ে সংবিধান সংশোধন করে একটি আইন পাস করা হয়েছে। কিন্তু আমি বলব সেটি প্রচলিত রীতিনীতির এক ধরনের ব্যত্যয়। সংসদ ভেঙে নির্বাচন দেয়াটা বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ; বিশেষ করে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার দৃষ্টিকোণ থেকে এ বিষয়টি সাইকোলজিক্যাল বা মনস্তাত্ত্বিক একটি পদক্ষেপ বলে মনে করি। কেননা ২০১৪ সালের নির্বাচন যেহেতু অংশগ্রহণমূলক হয়নি, সেহেতু ওই নির্বাচন নিয়ে জনগণের মাঝে একটি আস্থাহীনতার আবহ তৈরি হয়েছে, আগামী জাতীয় নির্বাচনে এর অনেকটা প্রভাব পড়বে। এ আস্থাহীনতার বলয় থেকে বেরিয়ে আসতে হলে একটি অন্যতম পদক্ষেপ হচ্ছে সংসদ ভেঙে দেয়া। এটা নির্বাচনের নানা ধরনের অনিশ্চয়তার বিষয়গুলোকে অনেকটা কমিয়ে আনবে। সব মিলিয়ে দেশের বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে সংসদ ভেঙে নির্বাচন অনুষ্ঠান করাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ।

আগামী নির্বাচনে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ থাকার সম্ভাবনা কতটুকু? কীভাবে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হতে পারে বলে মনে করেন?

হোসেন জিল্লুর রহমান : আসলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড শুধু কাগজে-কলমের কোনো বিষয় নয়, এটা মানসিকতারও বিষয়। যেমন বিরোধী ঐক্যফ্রন্ট সভা করার জন্য একটি ভেন্যু চেয়েছে; কিন্তু সেটা দেয়া হল না। সেটা কোর্টের মাধ্যমে নিতে হল। এটা তো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের সহায়ক নয়। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির জন্য প্রথম কথা হচ্ছে, সংবিধানে একজন রাজনৈতিক প্রতিযোগীকে যে অধিকারগুলো দেয়া হয়েছে সে অধিকারগুলোকে কোনোভাবেই অস্বীকার করা বা বাদ দেয়া যাবে না। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের নানা আঙ্গিক রয়েছে, একটি হচ্ছে ন্যূনতম আঙ্গিকের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড, অপরটি হচ্ছে সমৃদ্ধ লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড। বর্তমানে দেশে ন্যূনতম আঙ্গিকের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডটিই দরকার। সাধারণভাবে একটি রাজনৈতিক দলের দাবি ও প্রস্তাবগুলোকে নমনীয়তার দৃষ্টিতে দেখা এবং দলের কর্মীবাহিনী নিয়ে লোকের কাছে ভোট চাইতে যেতে দেয়া, সভা করতে দেয়া ইত্যাদি ন্যূনতম বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং প্রশাসন যেন দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালিত না করে। অন্ততপক্ষে এতটুকু করতে দিতে হবে ন্যূনতম লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির জন্য। তা না হলে নির্বাচনী মাঠে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড উপেক্ষিত হবে এবং নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে। কেননা বর্তমান আঙ্গিকে আমরা যেহেতু সমৃদ্ধ লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের পর্যায় পর্যন্ত যেতে পারছি না, সেহেতু ন্যূনতম লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের বিষয়টি নির্বাচনী মাঠে থাকা উচিত বলে মনে করি।

আরেকটি বিষয় হচ্ছে, ক্ষমতাসীন দলের ভয়ভীতি, পেশিশক্তি, হামলা, গায়েবি মামলা অর্থাৎ প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার যে প্রবণতা, এটা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে হবে। এ বিষয়গুলো একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের জন্য খুবই অন্তরায় বলে মনে করি।

বর্তমানে যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়েছে, এ জোট নির্বাচনে কতটুকু প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করেন?

হোসেন জিল্লুর রহমান : জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে বর্তমানে যতটুকু চোখে পড়ছে, আমার ধারণা জাতীয় নির্বাচনে এ জোটের একটি প্রভাব থাকবে। কারণ নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনের একটি সংস্কৃতির দিকে আমরা ঝুঁকে পড়ছিলাম। বিশেষ করে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন থেকে আমরা একটু দূরে সরে আসছিলাম। ক্ষমতাসীন দলের পক্ষপাতদুষ্ট নিয়ন্ত্রণ অথবা নিষ্ক্রিয় নির্বাচন কমিশন, পেশিশক্তি, ভয়ভীতি, প্রশাসনের হামলা-মামলার ব্যবহার ইত্যাদি কারণে আমরা নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনী সংস্কৃতির আবর্তেই ঘুরপাক খাচ্ছিলাম। রাজনৈতিক মাঠ তো শুধু কাগজের মাঠ নয়। এটা হচ্ছে রাজনৈতিক সক্ষমতার একটি মাঠ। সুতরাং রাজনৈতিক সক্ষমতার দৃষ্টিকোণ থেকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট হওয়ার ফলে কিছুটা প্রতিযোগিতার আমেজ তৈরি হয়েছে। সরকারি মহলও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় রয়েছে। সরকার আগের নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনী সংস্কৃতির বিষয়টিকে কীভাবে পুনঃস্থাপন করা যায় সেটি নিয়েও হয়তো চিন্তাভাবনা করছে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের যে ৭ দফা দাবি উপস্থাপিত হয়েছে, এ সম্পর্কে আপনার অভিমত কী?

হোসেন জিল্লুর রহমান : একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য যদি কোনো দাবি করা হয়, তাহলে সেটা অবশ্যই যৌক্তিক। ৭ দফা দাবির মধ্যে প্রায় সবই নিরপেক্ষ নির্বাচনের সঙ্গে সম্পর্কিত। যেমন- নির্বাচন কমিশন পুনর্র্র্গঠন, সংসদ ভেঙে নির্বাচন অনুষ্ঠান করা, সেনা মোতায়েন, আটক নেতাকর্মীদের মুক্তি, হামলা-মামলা থেকে মুক্তি ইত্যাদি দাবি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টির জন্য অবশ্যই বিবেচনাযোগ্য বিষয়।

এ দাবিগুলো সরকার কতটুকু মানবে বলে মনে করেন?

হোসেন জিল্লুর রহমান : মানার বিষয়টি মূলত জনসমর্থন এবং সরকারের বিপক্ষে কতটুকু চাপ প্রয়োগ করা যায় সাধারণত তার ওপরই নির্ভর করে। কারণ সরকার প্রাথমিকভাবে না মানার একটি মানসিকতা দেখিয়েছে। এখন এ মানা এবং না মানার পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে রাজনৈতিক সক্ষমতার প্রতিযোগিতা কীভাবে এগোচ্ছে এবং সরকারের বিরুদ্ধে কতটুকু চাপ প্রয়োগ করা যাচ্ছে তার ওপর। সার্বিকভাবে আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গনটি অনেকটাই অসহিষ্ণু হয়ে উঠেছে এবং জয়-পরাজয় কোনো বিষয় নয়, অনেকটা অস্তিত্ব ও অস্তিত্বহীনতার লড়াইটাই মুখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটা বাংলাদেশের রাজনীতি এবং সার্বিকভাবে সমাজের জন্য খুবই দুর্ভাগ্যজনক একটা বিষয়। এ মানসিকতা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। সরকারি মহল নির্বাচনের বিষয়টিকে অস্তিত্ব এবং অস্তিত্বহীনতার লড়াই না ভেবে নির্বাচনে প্রতিযোগিতা হবে এবং সেখানে জয়-পরাজয় হবে এ মানসিকতা নিয়ে যদি এগিয়ে যায়, তাহলে একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি হবে বলে আমার বিশ্বাস।

একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য কী কী আবশ্যকতা রয়েছে?

হোসেন জিল্লুর রহমান : প্রথমেই একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড দরকার। দ্বিতীয়ত, সাংবিধানিক এবং প্রশাসনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত যেসব মেশিনারিজ আছে যেমন নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেন কোনো ধরনের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ না করে, সেই পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ এবং আস্থা অর্জনকারী নিরপেক্ষ একটি স্বাধীন নির্বাচন কমিশন দরকার। বর্তমানে যে নির্বাচন কমিশন আছে, তাদের কর্মকাণ্ডে তারা অনেকটা আস্থা হারিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে তাদের যে বিষয়গুলো জনসমক্ষে চলে এসেছে সেগুলো থেকে বোঝা যাচ্ছে তাদের আস্থা নিয়ে একটি বড় ধরনের সংকটে ভুগছে তারা। সুতরাং ওইসব প্রতিষ্ঠানকে এসব সংকট থেকে মুক্তি দিতে হবে। সেটা নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে হোক অথবা বর্তমানে যারা আছেন তারা যদি তাদের নতুনভাবে উপস্থাপন করতে পারেন তাহলে তারাও দায়িত্ব নিতে পারেন। সর্বোপরি একটি সুস্থ রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা প্রয়োজন।

সুস্থ রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা বলতে কী বোঝাতে চাচ্ছেন?

হোসেন জিল্লুর রহমান : প্রথমেই বলব জনগণকে সন্ত্রাস বা ভয়ের পরিবেশ থেকে মুক্ত করতে হবে। কারণ জনগণ নির্ভয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে চায়। ভোট কেন্দ্রে যদি ভয়ের পরিবেশ থাকে তাহলে জনগণ ভোট কেন্দ্রে যাবে না, নিষ্ক্রিয় থাকবে। তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য ভয়ের পরিবেশ যেন সৃষ্টি না হয় সেটা নিশ্চিত করতে হবে। যেসব পদক্ষেপের কারণে ভয় তৈরি হয় তা পরিহার করতে হবে। কেননা সংবিধানে যেহেতু বলা হয়েছে, দেশের মালিক হচ্ছে জনগণ, সেহেতু তাদের অধিকারকে কোনোভাবেই বাদ দিলে চলবে না। দ্বিতীয়ত, গ্রহণযোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করতে হবে। যদিও গ্রহণযোগ্যতা নির্বাচনের মাধ্যমেই হয়, তারপরও অতীতে একটি প্রবণতা দেখেছি, যেসব প্রার্থীকে নিয়ে নানা ধরনের প্রশ্ন আছে তারাই টাকার জোরে হোক বা গায়ের জোরে হোক নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। অথচ অনেক যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেননি। এবারে যেন এমনটি না হয়, আমাদের সেদিকে নজর দিতে হবে। অর্থাৎ দল-মত নির্বিশেষে সব যোগ্য প্রার্থীই যেন নির্বাচনে সমানভাবে অংশগ্রহণ করতে পারেন, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। তাহলেই সুষ্ঠু রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার সৃষ্টি হবে বলে আমি মনে করি।

অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সেনাবাহিনীর কতটা গুরুত্ব রয়েছে বলে আপনি মনে করেন?

হোসেন জিল্লুর রহমান : নির্বাচনে সেনা মোতায়েন আগেও হয়েছে, ভবিষ্যতেও হবে। সেনা মোতায়েন প্রয়োজন হবে না যদি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সরকারের আজ্ঞাবহ না হয়ে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ না করে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে সেনা মোতায়েনের বিষয়টিকে একটি যৌক্তিক বিষয় হিসেবে সামনে আনতে হবে। তবে আগামী দু-এক মাসের মধ্যে আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যদি জোরালোভাবে তাদের একটি ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করতে না পারে, তাহলে সেনা মোতায়েনের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। সেনাবাহিনীও তো দেশের একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং আগেও তাদের নানা কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। যেহেতু আগের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, সেনা মোতায়েন করলে ভয়ের পরিবেশ কম থাকে, তাই এ দাবিটাকে আমরা যৌক্তিক দাবি হিসেবে বিবেচনা করতে পারি।

২০১৪ সালের মতো নির্বাচন আবারও হওয়ার কোনো আশঙ্কা আছে কি?

হোসেন জিল্লুর রহমান : ২০১৪ সালে যেভাবে নির্বাচনটি হয়েছিল তার একটা ব্যাখ্যা ক্ষমতাসীন দল তৈরি করতে পেরেছিল। তাদের কয়েকটি ব্যাখ্যার মধ্যে একটি হচ্ছে, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। দ্বিতীয়টি হচ্ছে, আমরা তো নির্বাচন দিয়েছি এখন যদি বিরোধী দল স্বেচ্ছায় অংশগ্রহণ না করে তাহলে আমাদের কী করার আছে। তৃতীয়, একটা সহিংসতার পরিপ্রেক্ষিত ছিল; কিন্তু এবার তো এগুলোর একটিও নেই। যারা প্রতিযোগী তারা বলছে, আমরা যে কোনোভাবেই নির্বাচন করব। সহিংসতার পরিপ্রেক্ষিত নেই। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতাও আছে। সুতরাং ২০১৪ সালের মতো নির্বাচনের তেমন কোনো আশঙ্কা নেই বললেই চলে।

আগামী জাতীয় নির্বাচনটি যদি ২০১৪ সালের মতো হয়, তাহলে দেশ-বিদেশে এর প্রভাব কী হতে পারে?

হোসেন জিল্লুর রহমান : আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন যদি ২০১৪ সালের মতো হয়, তাহলে দেশের শাসনব্যবস্থাকে তা পুরোপুরি বৈধতার সংকটের মধ্যে ফেলবে; এটা দেশেও হবে বাইরেও হবে। বৈধতার সংকট নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি এজেন্ডাগুলো নিয়ে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়বে সরকারের জন্য। সেটা এসডিজি বলি, আর মধ্যম আয়ের স্বপ্ন বলি অথবা বাংলাদেশের ৫০ বছরপূর্তি বলি, সবগুলোর জন্যই বৈধতার সংকটবিহীন সরকার দরকার। ২০১৪ সালে যেহেতু অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন ছিল না, তাই সেই ধরনের নির্বাচন কোনোভাবেই কাম্য নয় এবং সেটা সম্পূর্ণভাবেই অগ্রহণযোগ্য- দেশে-বিদেশে।

আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

হোসেন জিল্লুর রহমান : আপনাকেও।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1081 বার