প্রয়াত অভিনেতা রাজীব ভাইয়ের হাত ধরে আমার রাজনীতিতে আসা

Pub: বুধবার, ডিসেম্বর ৫, ২০১৮ ১০:১৭ অপরাহ্ণ   |   Upd: বুধবার, ডিসেম্বর ৫, ২০১৮ ১০:১৭ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ব্যস্ততা তো থাকেই, ভাই। সারা দিন গণসংযোগ করতে হচ্ছে। জনগণের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কুশল বিনিময় করছি। বিষয়টা বেশ উপভোগ্য যে জনগণের সঙ্গে থাকতে ভালো লাগছে আমার। মাটি ও মানুষের মাঝে এক অদ্ভুত সরলতা আছে।

রাজনীতিতে কীভাবে এলেন?

প্রয়াত অভিনেতা রাজীব ভাইয়ের হাত ধরে আমার রাজনীতিতে আসা। উনি সে সময় জাসাস করতেন। ১৯৯৮ সালের কথা। আমি সেবারই সিনেমায় আসি। এরপর রাজিব ভাইয়ের সঙ্গে জাসাসের বিভিন্ন প্রোগ্রামে যাই। তখন থেকে বিএনপির প্রতি আগ্রহ জন্মায়। এরপর পরিচয় হয় জাসাসের আরেক নেতা গাজী মাজহারুল আনোয়ার ভাইয়ের সঙ্গে। মূলত এ দুজনের মাধ্যমেই আমার বিএনপিতে প্রবেশ।

এরপর থেকেই কী রাজনীতিতে সক্রিয়?

না না। তখন আমি কেবল জাসাসের বিভিন্ন প্রোগ্রামে যেতাম। জিয়াউর রহমান ও বিএনপির ইতিহাস সংবলিত বই পড়তাম। মূলত জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও ত্যাগের মহিমায় মুগ্ধ হয়ে আমি সিদ্ধান্ত নিই বিএনপিতে সক্রিয় হওয়ার। আমি রাজনীতিতে সক্রিয় হই ২০১১ সালে লন্ডন থেকে দেশে ফিরে।

লন্ডন কেন গিয়েছিলেন?

পড়াশোনার জন্য। আমি ওখান থেকে অনার্স কমপ্লিট করেছি।

তখন তো তারেক রহমানও লন্ডনে, যোগাযোগ হয়েছিল?

হ্যাঁ, কয়েকটা প্রোগ্রামে দেখা হয়েছিল।

তারেক রহমানের নির্দেশেই কি আপনি নির্বাচনে অংশ নিলেন?

-লিডার তৃণমূল কর্মীদের মূল্যায়ন করেন। উনি লন্ডনে থাকতে আমাকে নিঃস্বার্থভাবে দলের জন্য কাজ করে যেতে বলেন। আমি তা-ই করছি। নির্বাচন সেই কাজেরই একটা অংশ।

বিএনপিতে আপনার অবস্থান কী?

আমি জাসাসের কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট। এর আগে ছিলাম আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক।

কিসের ভিত্তিতে মনোনয়ন পেলেন বলে মনে হয়?

আত্মত্যাগের ভিত্তিতে। ফেব্রুয়ারির ৮ তারিখ যখন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গ্রেপ্তার হন তখন আন্দোলন করতে গিয়ে পুলিশি নির্যাতনের শিকার হয়েছি। ২৮ ফেব্রুয়ারি পুলিশের জলকামানে গুরুতর আহত হয়েছি। এ ছাড়া কেন্দ্র ঘোষিত সব আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছি। এগুলো মূলত জনে জনে বলে বেড়ানোর বিষয় নয়। আমার দলের কেন্দ্রীয় নেতারা বিচক্ষণ। তারা সবকিছুই পর্যবেক্ষণ করেন। এরই ভিত্তিতে আমি মনোনয়ন পেয়েছি।

জাতীয় নির্বাচনের সময় দলীয় প্রধান কারাগারে। এ রকম প্রেক্ষাপটে নির্বাচনে অংশ নেয়া কি যুক্তিযুক্ত বলে আপনার মনে হয়?

অবশ্যই যুক্তিযুক্ত। এই নির্বাচন ম্যাডামকে কারামুক্ত করার নির্বাচন। এই নির্বাচনে বিএনপি বিপুল ভোটে জয়লাভ করে দেশে দীর্ঘদিন ধরে চলা অন্যায়-অত্যাচারের অবসান ঘটাবে। আমাদের নেত্রী জেলে, আমাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমানকে দেশে আসতে দেয়া হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে বিএনপির জয়লাভের মধ্য দিয়ে সরকার গঠনের কোনো বিকল্প নেই। আর সারা দেশে বিএনপির যে জনপ্রিয়তা, তাতে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে নিশ্চিতভাবে বিজয়ী হব আমরা।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ আলোচনা চলছে আপনাকে নিয়ে। কেউ কেউ বলছে ‘অশ্লীল’ সময়ের নায়িকা। বিষয়টা কীভাবে দেখেন?

এই সমালোচনাকারীদের ভেতর বয়সে যারা তরুণ তারা না জেনে এগুলো করছে। আর যারা সব জেনেশুনে আমাকে অশ্লীল নায়িকা প্রমাণে গলদঘর্ম হচ্ছে তাদের প্রতি আমার করুণা ছাড়া আর কিছুই নেই। আমার সমসাময়িক নায়ক-নায়িকা যারা ছিলেন, তারা সবাই জানেন একটাও অশ্লীল শট আমি দেইনি কখনো। তখন ছিল কাটপিস প্রবণতা। আমি ৬০টা সিনেমায় অভিনয় করেছি। এর ভেতরে ৫ থেকে ৭টা সিনেমায় কাটপিস ঢোকানো হয়েছে। এই দায় কি আমার? ঢাকাই সিনেমায় যখন কাটপিস প্রবল আঁকাড় ধারণ করে, তখন আমি সিনেমা ছেড়ে পড়াশোনার জন্য লন্ডন চলে যাই। একরকম অভিমান থেকেই সেই চলে যাওয়া। একজন অভিনেত্রী সিনেমাকে কতটা ভালোবাসে তা কেবল সে-ই জানে। কতটা কষ্টে একজন অভিনেত্রী সিনেমা ছেড়ে চলে যায় এটা একটু ভাবার জন্য অনুরোধ করছি সবাইকে।

বিএনপি ক্ষমতায় এলে ‘এমপি’ শায়লা সিনেমার জন্য কী ভূমিকা রাখবে?

সিনেমা অত্যাধুনিক করার জন্য যা যা করা দরকার বা আমার পক্ষ থেকে যা যা করা সম্ভব তার সবই করব।

ফরিদপুর-৪ আসনের জনগণ কেন আপনাকে ভোট দেবে?

কারণ আমি তাদের মা, বোন, মেয়ে। আমার ঘরের দরজা ফরিদপুরবাসীর জন্য সব সময় খোলা থাকবে। এটা তারাও জানে। আমি সুখে-দুঃখে সব সময় তাদের পাশে থাকি। এ কারণেই তারা আমাকে ভোট দেবে।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1102 বার