ছাত্রদলের ত্যাগী নেতারা প্রার্থী হতে পারছেন না

Pub: বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১৯ ১:৫৮ পূর্বাহ্ণ   |   Upd: বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১৯ ১:৫৮ পূর্বাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

অনেক জল্পনা কল্পনার পর অবশেষে দীর্ঘ ২৮ বছর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১১ মার্চ। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে দীর্ঘ ৯ বছর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে বিএনপির সহযোগী সংগঠন ছাত্রদল। এরপর থেকেই নিয়মিত মধুর ক্যান্টিন বসেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। মধুর ক্যান্টিনেই বসে ডাকসু নির্বাচন নিয়ে কথা হয় আকরামুল হাসানের সঙ্গে। তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক। এছাড়া বিএনপির ভ্যানগার্ড খ্যাত এই ছাত্র সংগঠনটি ডাকসু নির্বাচন নিয়ে কি ধরণের পরিকল্পনা নিয়েছে, সেটা জানতে বাংলাদেশ জার্নালের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছিলো আকরামুল হাসানের সঙ্গে। খোলামেলা নানা কথা জানিয়েছেন তিনি। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন কিরণ সেখ।

কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও এখনো নতুন কমিটি গঠন করা হয়নি। কবে নাগাদ কমিটি হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে?

আকরামুল হাসান: আমরা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে কমিটির বিষয় নিয়ে কথা বলেছি। তিনি যখন কমিটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেবেন তখনই আমরা নতুন কমিটি দেওয়ার জন্য রাজি আছি। কিন্তু ডাকসু নির্বাচন যেহুত এখন সামনে, সেহুত আমাদের এখন মূল এজেন্ডা ডাকসু নির্বাচন।

ডাকসু নির্বাচনে সহাবস্থান নিশ্চিতসহ ৭ দফা দাবি জানিয়েছিল ছাত্রদল। তবে ছাত্রদল অভিযোগ করছে যে, তাদের দাবি উপেক্ষা করেই ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। আপনাদের দাবি না মানার শর্তেও কেনো নির্বাচনে যাচ্ছেন?

আকরামুল হাসান: ছাত্রদলের ৭ দফা দাবি মধ্যে প্রশাসন প্রথম দাবির (সহাবস্থান) প্রতি আন্তরিকতা প্রকাশ করেছেন। আমরা মনে করি, বাকি দাবিগুলোও আন্তরিকতার সঙ্গে প্রশাসন দেখবেন। এটাই এখন আমাদের প্রত্যাশা। আর ডাকসু নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত আমরা ইতিবাচক থাকতে চাই। এটাই হচ্ছে, ডাকসু নির্বাচন নিয়ে এই মূহুর্তে আমাদেরর পরিকল্পনা।

শোনা যাচ্ছে, ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল প্রার্থী সংকটে পড়েছে, এ বিষয়ে আপনার মতামত কি?

আকরামুল হাসান: প্রার্থী খুঁজে পাচ্ছি না, আসলে কথাট এমন নয়। আমাদের অনেক নেতাকর্মীরা আছেন, যারা ৫ বছর আগে অর্নাস শেষ করেছেন। কিন্তু ছাত্রলীগের নির্যাতনের কারণে ক্যাম্পাসে আসতে পারেনি এবং মাস্টার্সে ভর্তি হতে পারে নাই। যে কারণে মাস্টার্স শেষ করতে পারেনি। এমন বাস্তবতায় আমাদের অনেক ত্যাগী ও পরিক্ষিত নেতাকর্মীরা ছাত্রত্রের কারণে তারা ভর্তি হতে চেষ্টা করেছেন। কিন্তু ভর্তি নিয়ে তালবাহানা করা হয়েছে। পরবতির্তে আবার ভর্তি হতে চেষ্টা করেছেন, সেটা নিয়েও তালবাহানা করছে। একারণে হয়তো আমাদের ত্যাগী ও পরিক্ষিত অনেক নেতারাই প্রার্থী হতে পারছেন না। কিন্তু ছাত্রদল প্রার্থী সংকটে পড়ছে, এমনটা বাস্তবতায় নেই।

শোনা যাচ্ছে, ডাকসু নির্বাচেন আপনি প্রার্থী হতে ইচ্ছুক প্রকাশ করেছেন?

আকরামুল হাসান: আমার প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নেই। যেহেতু বয়সের একটা বিধিমালা রয়েছে। আমার প্রার্থী হওয়ার কোন সুযোগ নেই।

ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের প্রার্থীর তালিকা কবে নাগাদ ঘোষণা করা হবে?

আকরামুল হাসান: আমরা পুন:তফসিল ঘোষণার দাবি জানিয়েছি। পুন:তফসিল অনুযারি যে দিন প্রার্থী ঘোষণার শেষ দিন থাকবে, ওই দিনই আমরা চূড়ান্ত প্রার্থীর তালিকা ঘোষণা করবো।

পুন:তফসিল ঘোষণা করা না হলে ছাত্রদলের পদক্ষেপ কি হবে?

আকরামুল হাসান: আমি আগেই বলেছি যে, শেষ পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করবো। আর শেষ পর্যন্ত আমরা ইতিবাচক থাকবো।

ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল কি কি বিষয়ে ওপরে গুরুত্ব দিয়ে প্রার্থী বাছাই করবে?

আকরামুল হাসান: আর্দশ, লক্ষ্য বাস্তবায়ন, ছাত্র-ছাত্রীদের অধিকার আন্দোলনে তার অংশগ্রহণ কেমন ছিল, সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে তার সম্পর্ক। এসব কিছু বিবেচনায় এনেই আমরা প্রার্থি নির্ধারণ করবো।

ডাকসু নির্বাচনে আপনার প্রত্যাশা কি?

আকরামুল হাসান: আমরা চাই সকল ছাত্র সংগঠনগুলো তাদের পরিকল্পনা নিয়ে, ছাত্র-ছাত্রীদের দাবি নিয়ে, বাংলাদেশে যে আজকে গণতন্ত্রহীন অবস্থা, মানুষের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে- এসব বিষয়ে কার কি অবস্থা। আর এগুলো নিয়ে অবাধে ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে উপস্থাপন করতে পারে। এরকম একটি পরিবেশন সৃষ্টি করতে হবে। এছাড়া ভয়-ভীতিমুক্ত পরিবেশে ছাত্র-ছাত্রীরা যাতে তাদের মতামতের প্রতিফলন ঘটাতে পারে। আর ভোট কেন্দ্রে নেতা ও সাংবাদিকদেরকে ক্যামেরাসহ অবাধে প্রবেশ করতে দিতে হবে এবং সবার কাছে একটি বিশ্বাসযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আমরা চাই।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ