fbpx
 

আন্দোলন ব্যর্থতার দায়ভার বিএনপির : আলাল

Pub: Wednesday, August 21, 2019 2:11 AM
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। বিএনপির অন্যতম একজন যুগ্ম মহাসচিব। সরকার বিরোধী নানা আন্দোলনে অগ্রগামী একজন এবং টেলিভিশনের টকশো ব্যক্তিত্ব হিসেবেই তাকে গণ্য করে তার দল বিএনপি। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলন ও পরবর্তী কর্মসূচি, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এবং কেন্দ্রীয় কমিটির কাউন্সিলের বিষয়ে বাংলাদেশ জার্নালের সঙ্গে কথা বলেছেন সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।

প্রায় ১৮ মাস অতিবাহিত হতে চললেও রাজপথের আন্দোলন কিংবা আইনি লড়াইয়ের মধ্যে দিয়ে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে পারেনি বিএনপি। এর দায়ভারটা কার?

সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল: আন্দোলন ব্যর্থতার দায়ভারটা বিএনপির উপর বর্তায়। কিন্তু সরকার যদি ফ্যাসিবাদি, স্বৈরাচারি চরিত্রের হয়, বিচারবিভাগ থেকে শুরু করে সমস্ত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের করায়ত্ত করে রাখে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকার সুযোগ নিয়ে এবং সেগুলোকে অপব্যবহার করে তখন এটা অনেক কষ্ট সাধ্য হয়ে দাঁড়ায়। সেই কষ্ট সাধ্যের দায়টা বিএনপির জন্য অনেক বড়। তাই এখানে আংশিক সফলতার কোন সুযোগ নেই। আর বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে সম্মানের সাথে পুরিপূর্ণ মুক্তি করে আনতে পারলে তখনই আমরা কেবল বলতে পারি যে, দায়ভার থেকে মুক্তি হয়েছি। এরআগে আমরা বলতে পারবো না। তবে আমরা চেষ্টা করছি। আমাদের আন্তরিকতাও রয়েছে। তারপরও বাস্তবতা হচ্ছে- যে প্রক্রিয়ায় উনাকে কারাগারে নেওয়া হয়েছে এবং আওয়ামী লীগ প্রধানের লন্ডনে বসে হুমকি দিয়ে বলেছেন, তাকে ছাড়া হবে না এবং উনি মুক্তি পাবে না। এতেই বুঝা যায় যে, আন্দোলনে সাধারণ মানুষকে অংশগ্রহণ করানো এবং দলকে শক্তিশালী করতে হবে। আর এর মধ্যে থেকে আন্দোলন গড়ে তোলা ছাড়া আমাদের সামনে আর কোন বিকল্প পথ নেই।

বিএনপি বলছে, আইনীগতভাবে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে দলের চেয়ারপারসনকে মুক্ত করতে বিএনপির পরবর্তী পদক্ষেপ কি হবে?

সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল: আমরা কয়েকটি বিভাগে সমাবেশ করেছি। যেগুলোতে বাকি রয়েছে, সেগুলোতেও সমাবেশ হবে। এটা হচ্ছে, আমাদের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করতে একটি কর্মসূচি। আর সারা বাংলাদেশে যদি আমরা আমাদের কর্মসূচিগুলো সফল করে আসতে পারি তখনই কেন্দ্রীয় অনেক কর্মসূচিতে আগের চেয়ে বেশী সাড়া পাওয়া যাবে। যদিও আমাদের জন্য ফ্যাসিজম, অত্যাচার, লাঠি ও কারাগার বরাদ্দ রয়েছে। যেমন গত ১২ বছর ধরে ছিল। এখনও আছে। তবে আমরা যে সময়গুলো পার করেছি, এজন্য আমাদের অনুশোচনা আছে। আর পুনরায় যাতে সময় নষ্ট না হয়, এজন্য শক্তিশালী সংগঠন এবং নিবেদিত নেতৃত্ব- এই দুটির সমন্বয় ঘটানোর জন্য আমরা চেষ্টা করছি।

শোনা যাচ্ছে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ভেঙে গেছে। এটা কতটুকু সত্যে। এই বিষয়ে আপনার মতামত কি?

সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল: যারা বলছেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ভেঙে গেছে- তাদের এই কথাটি ঠিক না। আমরা মনে করি, জাতীয় প্রয়োজনে ঐক্যফ্রন্টের প্রয়োজনীয়তা এখনো রয়েছে। একদিকে ফ্যাসিজম, স্বৈরাচার ও অত্যাচারী হিসেবে যারা রাজনীতি ব্যবহার করে। অপরদিকে গণতন্ত্রকামী মানুষ। আর গণতন্ত্রকামী মানুষের উপযুক্ত প্লাটফর্মটাই হচ্ছে, বিএনপি ও বেগম খালেদা জিয়া। আর এর সাথে গণতন্ত্রের জন্য যারা লড়াই করছেন, তাদের নিয়েই ঐক্যফ্রন্ট। তাই ঐক্যফ্রন্টের বাস্তবতাও আছে এবং প্রয়োজনীয়তাও আছে। আর বিষয়টা হচ্ছে- একটা পর্ব উপলক্ষ করে অনেক মানুষ তৎপর হয়। তাই জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ঐক্যফ্রন্ট বেশী প্রকাশ্যে এবং দৃশমান ছিল। আর এখন একটু ঝিমে তালে চলছে। এটাকে আবার যথা-সময় প্রকাশ্যে আনা হবে। এজন্য তৎপর চলছে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হলেও এখনো বেশ কয়েকটি শুন্য পদ রয়েছে। এই শুন্যপদগুলো কি কাউন্সিলের আগেই পূরণ করা হবে?

সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল: আমাদের কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। তবে এটা বেশী দিন হয়নি। তারপরও কমিটি হতে দেরি হচ্ছে। এর মূল কারণ হচ্ছে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের শারিরীকভাবে অনুপস্থিতি। আর উনাদের মধ্যে যদি একজনও আমাদের কাছে থাকতেন তাহলে এই বিলম্বটা হতো না। তবে এখন যেহুত আমাদের সর্বোচ্চ স্থায়ী কমিটির একটি প্লাটফর্ম হয়েছে। এই ফোরামে আলোচনা করে এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে শুন্য পদগুলো পূরণের চেষ্টা চলছে বলে আমার জানা রয়েছে।

আপনাকে ধন্যবাদ।

সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল: আপনাকেও ধন্যবাদ।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ