জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি:সংগৃহীত
সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু এবং বিতর্কিত ব্যবসায়ী এস আলমসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও ঋণ জালিয়াতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) মামলা করেছে ইসলামী ব্যাংক।
বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন ইসলামী ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ করপোরেট শাখার সহকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ ইয়াসীন আলী।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ‘সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেড’ নামে একটি দুর্বল প্রতিষ্ঠানের ঋণসীমা জালিয়াতির মাধ্যমে বাড়ানো হয়। প্রতিষ্ঠানটির ঋণসীমা ১০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ কোটি টাকা করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে ওই ঋণের বিপুল অর্থ উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ইসলামী ব্যাংক। ঋণ অনুমোদন ও অর্থ উত্তোলনের পুরো প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ আছে।
অভিযোগে ইসলামী ব্যাংকের তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংকটির সাবেক তিন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিরুল মাওলা, আব্দুল হামিদ মিয়া ও মাহবুব উল আলমসহ সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে ঋণ অনুমোদনের প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অনৈতিকভাবে ঋণ অনুমোদনের মাধ্যমে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন। এ ছাড়া অ্যাননটেক্স গ্রুপের ইউনুস বাদলের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেড’-এর নামে অবৈধভাবে ঋণ বরাদ্দ করিয়ে দিতে ব্যবসায়ী এস আলম ভূমিকা রেখেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ইসলামী ব্যাংকের পক্ষ থেকে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) জানানো হয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে চারটি নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তদন্ত পরিচালনা করা হয়েছে। ওই নিরীক্ষা ও তদন্তে ঋণ অনুমোদন এবং অনুমোদিত ঋণের অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও অসঙ্গতির তথ্য উঠে এসেছে।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা, ঋণ অনুমোদনের পুরো প্রক্রিয়া এবং ঋণের অর্থ কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে—এসব বিষয় বিস্তারিতভাবে তদন্ত করার দাবি জানিয়েছে ইসলামী ব্যাংক। একই সঙ্গে তদন্তের মাধ্যমে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৪ জুলাই ব্যগুরুতর অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে ইস্তফা দেন মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। দুই সপ্তাহ না যেতেই তার নামে হলো দুর্নীতি ও ঋণ জালিয়াতির মামলা।












