জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে এক বছর আগেই সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন সুবর্ণা নদী

Pub: বুধবার, আগস্ট ২৯, ২০১৮ ৪:০৮ অপরাহ্ণ   |   Upd: বুধবার, আগস্ট ২৯, ২০১৮ ৪:০৮ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নিউজ ডেস্ক: বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের পাবনা প্রতিনিধি সুবর্ণা নদী দুর্বৃত্তদের হামলায় খুন হওয়ার এক বছর আগেই জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন।
মঙ্গলবার রাতে নিজ বাসার সামনে নদীকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। স্বামী রাজীব হোসেন ও শ্বশুর আবুল হোসেনের হাত থেকে বাঁচতে অনেক আগেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা চেয়েছিলেন তিনি। এনিয়ে পাবনা ও ঢাকায় একাধিক সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন সুবর্ণা।

২০১৭ সালের ২২ জুলাই
পাবনায় সংবাদ সম্মেলন করে সুবর্ণা নদী বলেছিলেন, স্বামী রাজীব হোসেন ও শ্বশুর আবুল হোসেনের ভাড়াটিয়া গুণ্ডাবাহিনী তাকে নির্যাতন ও হত্যার চেষ্টা করছে। ২০১৬ সালের ৬ জুন পাবনার শহরের রাজীব হোসেনের সাথে ৫ লাখ ১ টাকা দেনমোহর ধার্য করে বিয়ে হয় তার। একপর্যায়ে তার কাছে ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে স্বামী। দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় তাকে প্রচণ্ড মারধর করে। ২০১৭ সালের ৩১ মে  স্বামী তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। ৪ জুন পাবনা সদর থানায় নারী-শিশু ও যৌতুক আইনে মামলা করেন তিনি। এছাড়া পাবনা জজ কোর্টে যৌতুক মামলা করেন।

সেখানে তিনি বলেন, ২০১৭ সালের ৩ অক্টোবর বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে একই অভিযোগ করে সুবর্ণা বলেন, ‘মামলা করার পর আমার শ্বশুর-শাশুড়ি ও স্বামী প্রচণ্ডভাবে আমার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে সব মামলা তুলে নেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ ও হুমকি প্রদর্শন করছেন। মামলা তুলে না নিলে আমাকে জানে মেরে ফেলার হুমকিও দেয়া হচ্ছে। রাস্তায় ভাড়াটিয়া গুন্ডা দিয়ে গলায় চাকু ধরে মামলা তুলে নেয়ার জন্য শাসিয়েছে। এ অবস্থায় আমি ভয়ে পাবনা ছেড়ে ঢাকায় পালিয়ে বেড়াচ্ছি।’

তিনি বলেন,‘ এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। একই সঙ্গে আসামিদের গ্রেফতারসহ উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাচ্ছি।’

এ মামলার কারণেই সুবর্ণাকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন বড় বোন চম্পা খাতুন।
বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আনন্দ টিভির পাবনা প্রতিনিধি সুবর্ণা নদীকে হত্যার ঘটনায় অভিযোগের তীর ইদ্রাল ইউনানি ফার্মাসিটিউক্যালের মালিক ও তার ছেলের দিকে। এই হত্যাকাণ্ডের পর বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে তদন্তে নেমেছে পুলিশ। দেড় বছর আগে ওই প্রতিষ্ঠানের মালিকের ছেলের সঙ্গে নদীর ডিভোর্স হয়। এ ডিভোর্সের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আদালতে একটি মামলা চলছে।
নদীর বোন চম্পা খাতুন বলেন, আমার বোন মৃত্যুর আগে আমাদের বলে গেছেন, তার সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধে গত বছরের ৪ জুন থানায় একটি মামলা করেছিল। মামলাটি আদালতে বিচারাধীন। ঘটনার দিন আদালতে শুনানি শেষে সাবেক স্বামী রাজীবের লোকজন নিশ্চিত ছিলেন যে তারা মামলায় হেরে যাবেন। আর এই কারণেই সুবর্ণা নদীকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তার বড় বোন।

তিনি আরো বলেন, ইদ্রাল ইউনানি ফার্মাসিটিউক্যাল ও শিমলা ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড হাসপাতালের মালিক আবুল হোসেনের ছেলে রাজীবের সঙ্গে বছর দুয়েক আগে বিয়ে হয়। বছর দেড়েক আগে তাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। এরপর সুবর্ণা নদী পাবনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আদালতে একটি যৌতুক মামলা করেন। এ মামলায় সুবর্ণা তার সাবেক স্বামী রাজীব ও তার বাবা আবুল হোসেনসহ তিনজনকে আসামি করেন।

নদীর বোন আরো বলেন, গতকাল মঙ্গলবার (২৮ আগস্ট) এ মামলার সাক্ষ্য দেয়ার দিন ছিল। এতে সুবর্ণা তার পক্ষে আদালতে সাক্ষ্যও উপস্থাপন করেন। মামলায় ফেঁসে যাওয়ার আশঙ্কায় আসামিরা পরিকল্পিতভাবে সুবর্ণাকে হত্যা করেছে। ইতিপূর্বেও নদীকে বিভিন্নভাবে ভয় ভীতি দেখিয়ে আসছিলেন তারা। গত বছরের জুন মাসে শহরের আব্দুল হামিদ রোডে প্রকাশ্যে তাকে গলায় চাকু চালানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পরে সুবর্ণা নদী জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে পাবনা সংবাদপত্র পরিষদ মিলনায়তনে ২২ জুলাই একটি সংবাদ সম্মেলন করেন। পরে ওই বছরেই ৩ অক্টোবর একই দাবিতে ঢাকার ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। এতেই প্রমাণিত হয় যে তাকে হত্যার উদ্দেশে কারা দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনা করে আসছিল।

সুবর্ণা নদী আনন্দ টিভির পাবনা প্রতিনিধির পাশাপাশি অনলাইন পোর্টাল দৈনিক জাগ্রত বাংলার সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন। রাজীবের সঙ্গে বিয়ের আগেও তার আরেকটি বিয়ে হয়েছিল। সেই ঘরে তার একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।

সুবর্ণা নদী জেলার আটঘরিয়া উপজেলার একদন্ত গ্রামের মৃত আইয়ুব আলীর মেয়ে।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1121 বার