দুই কৃতী নারী সাংবাদিককে সম্মাননা

Pub: শনিবার, মার্চ ৯, ২০১৯ ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ   |   Upd: শনিবার, মার্চ ৯, ২০১৯ ১২:১৮ পূর্বাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

জাতীয় প্রেস ক্লাবে স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরী মানবজমিন সম্পাদক মাহবুবা চৌধুরীর হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দিচ্ছেন নারীর অগ্রগতিতে বিশেষ অবদান রাখায় আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে দুই পথিকৃৎ সাংবাদিককে সম্মাননা দিয়েছে জাতীয় প্রেস ক্লাব। তারা হলেন- সংবাদিক এবিএম মূসার স্ত্রী সাংবাদিক সেতারা মূসা ও দৈনিক মানবজমিন-এর সম্পাদক মাহবুবা চৌধুরী। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত আন্তর্জাতিক নারী দিবসের বিশেষ অনুষ্ঠানে তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে ‘গণমাধ্যমে নারী-পুরুষ সমতা: প্রেক্ষিত বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন দৈনিক যুগান্তরের ‘সুরঞ্জনা’ বিভাগের সম্পাদক রীতা ভৌমিক। মঙ্গল প্রদীপ জ্বেলে ‘সত্য সুন্দরও’ গান গেয়ে অনুষ্ঠান শুরু করা হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, নারীর ক্ষমতায়নে আজ বাংলাদেশ সারা বিশ্বের রোল মডেল। নারীরা সকল ক্ষেত্রে তাদের সফল উপস্থিতি রেখে যাচ্ছেন।

শুধুমাত্র নারীদের একার বিষয় নয়। নারী-পুরুষের মধ্যকার সমতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শেখ হাসিনা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সুযোগগুলো তৈরি করার কারণে আজ নারীদের এই পর্যায়ে আসা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, গণমাধ্যমে নারীর যে সমস্যাগুলো রয়েছে সেগুলো নিয়ে সম্পাদকদের সঙ্গে বিশদ আলোচনা করা যেতে পারে। স্পিকার বলেন- যোগাযোগ, পরিবহন যাতে নারীবান্ধব হয় সে জন্য আরো কাজ করতে হবে। নিজস্ব চ্যালেঞ্জ আছে, প্রতিকূলতাকে মেধা, দক্ষতা ও যোগ্যতা দিয়ে মোকাবিলা করে সফলতার চাবিকাঠি অবশ্যই ছিনিয়ে নিতে হবে।

ইত্তেফাকের সম্পাদক তাসমিমা হোসেন বলেন, নারীর অধিকার নিয়ে কাজ করছি। সাংবাদিকতায় নারী এগিয়ে আসছে। শেখ হাসিনার মতো নেতৃত্ব পেয়েছি। আমরা ভাগ্যবান। দৈনিক মানবজমিন-এর সম্পাদক মাহবুবা চৌধুরী অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, খুব ছোটবেলা থেকেই ইচ্ছা ছিল সাংবাদিকতা করার। তাই অধ্যাপনা ছেড়ে সাংবাদিকতায় আসা। তিনি বলেন, সাংবাদিকতা রক্ত ও আত্মার সঙ্গে মিশে গেছে। তিনি বলেন, মেয়েরা এগিয়ে যাচ্ছেন। সংসদের স্পিকার ও ফরিদা আপা তার উদাহরণ। প্রেস ক্লাব প্রতি বছর সুন্দরভাবে নারী দিবস পালন করে নারীদের উদ্বুদ্ধ করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম বলেন, দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হচ্ছে সর্বত্র। রাষ্ট্র যদি নারীবান্ধব হয় তাহলে সব জায়গায় নারীবান্ধব হতে বাধ্য।

অনুষ্ঠানে প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, প্রতিটি নারী কঠোর পরিশ্রম ও সাধনার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। নারী-পুরুষ সমানভাবে কাজ করে দেশকে আরো এগিয়ে নেয়া যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সভাপতি নাসিমুন আরা মিনু বলেন, কর্মক্ষেত্রসহ সব ক্ষেত্রে নারীর নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। গণমাধ্যমে বৈষম্য বিরোধী কমিটি গঠন করতে হবে। শাহনাজ মুন্নী বলেন, ৩০ শতাংশ নারী গণমাধ্যমে নিয়োগ চাই। দেখা যায় অনেক নারী চাকরি জীবন শুরু করলেও পরবর্তীতে নানা সীমাবদ্ধতায় তারা থাকে না।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে দৈনিক যুগান্তরের ‘সুরঞ্জনা’ বিভাগের সম্পাদক রীতা ভৌমিক বলেন, সাংবাদিকতা নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই চ্যালেঞ্জিং। তবে একজন পুরুষ সাংবাদিকের তুলনায় একজন নারী সাংবাদিককে প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে কর্মক্ষেত্র ও কর্মক্ষেত্রের বাইরে কাজ করতে হয়। তার প্রবন্ধে কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরেন। এগুলো হলো- গণমাধ্যমের জন্য জেন্ডার সমতা-ভিত্তিক সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়ন, নারী সাংবাদিকদের নিয়োগ, প্রশিক্ষণ, পদোন্নতির জন্য সরকারি-বেসরকারি ও সাংবাদিক ইউনিয়নের পদক্ষেপ নিতে হবে। গণমাধ্যমে নারী সাংবাদিকদের সুষ্ঠু কাজের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন শাহনাজ বেগম।

কৃতীমান দুই নারী সাংবাদিকের কর্মময় জীবন: সেতারা মূসার জন্ম ১৯৪০ সালে কুমিল্লার লাকসামে নানার বাড়িতে। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর পরিবারের সঙ্গে সেতারা মূসা ঢাকায় চলে আসেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপরই তিনি দৈনিক পূর্বদেশে নারীপাতার দায়িত্ব পান। পূর্বদেশে নারীপাতা সম্পাদনার পাশাপাশি তিনি তখন সাপ্তাহিক চিত্রালীতে এসেম নামে টিভি সমালোচনামূলক একটা কলাম লিখতেন, যা তখন বেশ জনপ্রিয়তা পায়। এর পাশাপাশি তিনি রেডিও এবং টিভিতে নানা অনুষ্ঠানে অংশ নিতেন। এরপর তিনি দৈনিক জনতায় নারী পাতাসহ আরো কিছু দৈনিক ও সাপ্তাহিকে কাজ করেন। সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি সমাজসেবামূলক কাজও করেন প্রচুর। তিনি বাংলাদেশের নারী সাংবাদিকদের প্রথম সংগঠন বাংলাদেশ মহিলা সাংবাদিক ফোরামের প্রথম সভাপতি হন ১৯৮৯ সালে।

দৈনিক মানবজমিন-এর সম্পাদক মাহবুবা চৌধুরী মাত্র সাত বছর বয়স থেকেই বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় ছোটদের পাতায় লেখালেখি শুরু করেন। জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হতে থাকে তার অসংখ্য ছড়া। ১৯৬৯ সালে ছোটদের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে টেলিভিশনে তার যাত্রা শুরু। ১৯৮২ সালে বেতার এবং ১৯৮৪ সালে বিটিভিতে সংবাদ পাঠ শুরু করেন। বর্তমানেও সংবাদ পাঠের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। সংবাদ পাঠের পাশাপাশি বিভিন্ন চ্যানেলে উপস্থাপনার দায়িত্বও পালন করছেন। তার প্রথম বই প্রকাশিত হয় ১৯৯৪ সালে। এ পর্যন্ত তার ঊনত্রিশটি বই প্রকাশিত হয়েছে। বিএএফ শাহীন কলেজে অধ্যাপনা দিয়ে তার কর্মজীবন শুরু করলেও পরবর্তীতে চাকরি ছেড়ে সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন। ১৯৯৭ সালে সাপ্তাহিক মানবজমিন পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৯৮ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি দৈনিক মানবজমিন-এর সম্পাদক নিযুক্ত হন।

শিশু সাহিত্যিক হিসেবে পেয়েছেন অসংখ্য পুরস্কার। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য-সিটি আনন্দ আলো পুরস্কার, অতীশ দীপঙ্কর স্বর্ণপদক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং অ্যালামনাই পুরস্কার, মাদার তেরেসা পুরস্কার, আমরা সূর্যমুখী ও ট্রাব পুরস্কার। মাহবুবা চৌধুরীর জন্ম ঢাকায়। বেড়ে ওঠা পুরান ঢাকার আরমানিটোলায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিন্যান্সে স্নাতক (সম্মান)সহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন ১৯৮৩ সালে।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ

সংবাদটি পড়া হয়েছে 1072 বার