fbpx
 

৪ লাখ টাকা পেয়ে ফিরিয়ে দিলেন তিন নারী সাংবাদিক

Pub: বৃহস্পতিবার, মে ২৩, ২০১৯ ৭:২৫ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সেগুন বাগিচায় এক চা স্টলের বেঞ্চে কালো রঙের একটি ব্যাগ পরিত্যাক্ত অবস্থায় পান তিন নারী সাংবাদিক। ব্যাগ খুলে এর ভেতরে চার লাখ টাকা দেখতে পান। পরে এর প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করে টাকাগুলো ফিরেয়ি দিয়েছেন তারা।

সেগুন বাগিচায় এক চা স্টলের বেঞ্চে কালো রঙের একটি ব্যাগ পরিত্যাক্ত অবস্থায় পান তিন নারী সাংবাদিক। ব্যাগ খুলে এর ভেতরে চার লাখ টাকা দেখতে পান। পরে এর প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করে টাকাগুলো ফিরেয়ি দিয়েছেন তারা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে তারই বাস্তব চিত্র ফেসবুকে তুলে ধরেছেন গাজী টিভির প্রধান প্রতিবেদক রাজু আহমেদ।

গাজী টিভির সাহসী তিন সাংবাদিক প্রকৃত মালিককে হারিয়ে যাওয়া অর্থ ফেরত দিয়েছেন। এতে আমরা সবাই খুশি এমন মন্তব্যে করে নিউজবাংলাদেশকে রাজু আহমেদ বলেন, গত বুধবার ইফতারের পর চা খেতে গিয়েছিলেন আমাদের তিনি নারী রিপোর্টার। এরা হলেন শমি, রুবিনা ও তুলি। ফেরার সময় চা স্টলের বেঞ্চের কালো রঙের ব্যাগের ভেতরে তারা পেলেন চার লাখ টাকা।

ব্যাগটা কার চা দোকানী ও আশপাশের সবাইকে অভিহিত করেন। কিন্তু কেউ ব্যাগের মালিকানা দাবি করলেন না। এরপর সেখানেই খুলে ভেতরে দেখেন টাকা। প্রকৃত মালিক পেতে ব্যাগটি অফিসে নিয়ে আসেন। পাশাপাশি চা দোকানীকে মোবাইল নম্বর দিয়ে বলে আসেন, কেউ খুঁজ করলে জিটিভিতে যেতে বলবেন। এরপর আনোয়ার স্টিল মিলসের এক কর্মকর্তা (পরিবহন ম্যানেজার) অর্থ দাবি করেন। ওই কর্মকর্তা যৌক্তিক প্রমাণ দিয়ে তার হারিয়ে যাওয়া অর্থ নিয়ে চলে চান।

এ নিয়ে ফেসবুকে ছবিসহ একটি স্ট্যাটাস দেন রাজু আহমদ। তার স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

প্রকৃত মালিককে টাকা ফেরত দিতে পেরেই খুশি আমরা…

ইফতারের পর চা খেতে গিয়েছিলেন আমাদের তিন রিপোর্টার শমি, রুবিনা আর তুলি। ফেরার সময় খেয়াল করেন, বেঞ্চের উপর অনেকক্ষণ ধরে পরে আছে কালো রঙের ব্যাগটা। ‘ব্যাগটা কার’- চা দোকানী ও আশপাশের সবার কাছে জানতে চান তরা। কিন্তু কেউ ব্যাগের মালিকানা দাবি করলেন না। সেখানেই খুলে ভেতরে দেখা গেলো প্রচুর টাকা। সাহসী সাংবাদিক হয়েও এতো টাকা দেখে ভীত, বিব্রত এবং উত্তেজিত তিন কন্যা। এরমধ্যেও বিবেচনাবোধ ও দায়িত্বজ্ঞান হারাননি জিটিভির সাংবাদিকরা। অন্য কারো হাতে রেখে এলে প্রকৃত মালিক তা পাবে কিনা- এই বিবেচনায় ব্যাগটি অফিসে নিয়ে আসেন তারা। চা দোকানীকে মোবাইল নম্বর দিয়ে বলে আসেন, ‘কেউ খুঁজ করলে জিটিভিতে যেতে বলবেন।’

সাথে সাথেই আমাকে ফোন করলেন রুবিনা। আমি তখন অফিসের পাশে আরেকটি চায়ের দোকানে। ওর উদ্বিগ্ন কণ্ঠে প্রথমে ভয় পেলাম। জানালাম, এখনই আসছি। দেরি দেখে আবার ফোন করলেন তুলি। এরপরও না আসায় তিনজন মিলে খুঁজে বের করলেন। বৃত্তান্ত জানিয়ে টাকাওয়ালা ব্যাগটি আমার হাতে গছিয়ে দিলেন। তিন জনের মধ্যেই প্রকৃত মালিককে খুঁজে টাকা ফেরত দেয়ার তাড়না। এরইমধ্যে চায়ের দোকানদার এসে জানিয়েছে, দু’জন লোক ব্যাগের খোঁজ করছে। শমি, রুবিনা, তুলি নিজেরাই সেখানে গিয়ে তাদেরকে অফিসে নিয়ে এলেন। অফিসের ব্যাপার, সাক্ষী তো রাখা লাগবে। Anjan Roy দাকে নিয়ে এলাম। এরপর ব্যাগের মালিকানা প্রমাণের পালা। ৪ লাখ টাকা (দু’টি এক হাজার টাকা আর চারটি পাঁচশ টাকার বান্ডিল), ভেতরে দু’টি গাড়ির মামলার কাগজপত্র সম্পর্কে গাড়ির নম্বরসহ সঠিকভাবে বলে দিলেন তারা। সব কিছু মিলে যাওয়ায় আর কোনো সন্দেহ রইলো না।

আর কিছু নয়, প্রকৃত মালিককে টাকা ফেরত দিতে পেরেই খুশি আমরা। তিন সহকর্মীকে ধন্যবাদ সততা, দায়িত্বীশীলতা এবং আমার উপর আস্থা রাখার জন্য।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ