fbpx
 

অদম্য এক সংবাদকর্মী সাংবাদিক ওসমান গনি

Pub: রবিবার, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২০ ৩:৪৮ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নারগিস পারভীন

সাদাকে সাদা আর কালোকে কালো বলার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে মিডিয়া জগতে লেখালেখি করে দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছেন এক অকুতোভয় কলমযোদ্ধা। যার রুটিন মাফিক কাজ হলো সংবাদপত্রে নিয়মিত সংবাদ লেখালেখি ও সংবাদপত্র পড়া যার নেশা ও পেশায় পরিনত হয়েছে। তিনি হলেন কুমিল্লার সাংবাদিক ওসমান গনি। সংবাদ মাধ্যম হউক প্রিন্ট ভার্সন অথবা অনলাইন ভার্সন। যাই হউক তাকে নিয়মিত পড়তে ও লিখতে হবেই। নচেৎ তার ঘুমনিন্দ্রা আসে না। এটা যেন তার একটা রোগে পরিনত হয়েছে। বর্তমানে তার বয়স ৪৫ বছর। তার জীবনের দুই তৃতীয়াংশ সময় এ জগতেই অতিবাহিত করছেন। যেখানে অন্যায় অত্যাচার, অপরাধ, দুর্নীতি, দুঃশাসন সেখানেই তিনি উপস্হিত। নির্ভীক, সৎ, ও সাহসী ও এক বিদগ্ধজন কলমযোদ্ধা।

নিয়মিত ছুটে চলেন সংবাদের সন্ধানে। লেখালেখির জন্য নিবেদিত প্রাণ। সংবাদপত্রে লেখালেখি শুরু করেছিলেন স্কুল ও কলেজে লেখাপড়ার সময়। এখনও লেখেন নিয়মিত । তবে বয়স আস্তে আস্তে বাড়লেও মনের দিক থেকে এখন অনেক শক্ত। মনটা সতেজ ও সবুজ। দিব্য দৃষ্টি। সব দেখেন। দেখার চোখ বাঁচিয়ে রেখেছেন। আগলে রেখেছেন বোধ-বুদ্ধি-বিবেক। হ্যাঁ, তার লেখার উদ্দেশ্য সমাজ ও দেশ কে দুর্ণীতিমুক্ত করা আর সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করা। পাঠককে মুগ্ধ করে রেখেছে সৃষ্টি সম্ভার। এভাবে স্বতন্ত্র উচ্চতায় আজ সাংবাদিক ওসমান গনি।

তিনি ১৯৭৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর কুমিল্লা জেলার চান্দিনা উপজেলার ৯ নং মাইজখার ইউনিয়ের এক অজপাড়া গা মেহার গ্রামের এক সম্রান্ত মুসলিম পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।স্থানীয় এলাকায় শিক্ষাজীবন শেষ করেন। নিজের পরিচয় দিতে গিয়েই হয়ত তিনি কবিতায় বলেছিলেন, আমি তো এসেছি ‘কমলার দীঘি’ ‘মহুয়ার পালা’ থেকে/আমি তো এসেছি তিতুমীর আর হাজী শরীয়ত থেকে/আমি তো এসেছি গীতাঞ্জলি ও অগ্নিবীণার থেকে/এসেছি বাঙালী ক্ষুদিরাম আর সূর্যসেনের থেকে/এসেছি বাঙালী জয়নুল আর অবন ঠাকুর থেকে/এসেছি বাঙালী রাষ্ট্রভাষার লাল রাজপথ থেকে/এসেছি বাঙালী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর থেকে/আমি যে এসেছি জয়বাংলার বজ্রকণ্ঠ থেকে/ আমি যে এসেছি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ থেকে।

তিনি তার লেখার প্রথম জীবনে ঢাকার দৈনিক বাংলার বাণী, দৈনিক আজকের কাগজ সহ আরও কয়েকটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার চান্দিনা উপজেলা প্রতিনিধি হিসাবে কাজ শুরু করেন।পরে তিনি পরে তিনি আস্তে আস্তে ঢাকা ও ঢাকার বাহিরের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সম্পাদকীয় পাতার একজন নিয়মিত কলাম লেখক হয়ে ওঠেন।তার জীবনের একমাত্র নেশা ও পেশা হলো শুধুমাত্র লেখালেখি করা।যখনই তার সাথে দেখা হয় তখন দেখা যায় তার লেখার যন্ত্রটা ল্যাপটপ সামনে নিয়ে বসে আছেন।কেউ কোন কথা বলতে গেলে তিনি তেমন কোন সময় দিতে পারেন না।তার চিন্তা একটাই কখন লেখাটা শেষ করে পত্রিকা অফিসে ইমেল করবে। পর অপেক্ষায় বসে থাকেন কোন কোন পত্রিকায় তার লেখাটা প্রকাশ করছে।লেখা দেখার পর তার মনে শান্তি আসে।এর আগ পর্যন্ত একটা অস্তিরতার মধ্যে থাকেন।দেশ ও দেশের মানুষের জন্য কিছু লেখতে পারলেই তিনি নিজে কে ধণ্যমনে করেন।কারন তার উদ্দেশ্য হলো টাকার অভাবে যেহেতু তিনি মানুষের কোন সেবা করতে পারেন না তাই তিনি লেখার মাধ্যমে মানুষের জন্য কিছু করতে পারলেও জাতির কাছে তার কিছুটা ঋণ পরিশোধ হবে।এটাই হলো তার মূল উদ্দেশ্য।

দেশের, সমাজের, মানুষের দৈনন্দিন জীবনের চলমান সমস্যাগুলো দেশের সচেতন মানুষের সামনে তুলে ধরেন।এতে করে দেশের,সমাজের ও মানুষের বিন্দুমাত্র হলেও উপকার হতে পারে।তার লেখার মাধ্যমে কোন মানুষের দেশের ও সমাজের নামমাত্র উপকার হলেও তার মনে শান্তি চলে আসে।তার লেখার মাধ্যমে দেশের গ্রাম-গঞ্জের অবহেলিত মানুষের জীবনমানের লেখাই বেশী থাকে।যাদের খবর দেশের সচেতন মহল বেশীর ভাগই রাখেন না।

যারা রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা হতে বঞ্চিত হয়ে থাকে।তার লেখক হয়ে ওঠার প্রেক্ষাপটটা, বলতে হবে, একটু ভিন্ন ছিল। লেখক হিসেবে তার ছিল হাজারো প্রতিবন্ধকতা। বিরুদ্ধ একটি সময়ের সঙ্গে তাকে লড়তে হয়েছে। তবে হাল ছাড়েননি। বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়েছেন। এভাবে আজকের সাংবাদিক ও কলামিস্ট ওসমান গনি।ছোটগল্প দিয়ে শুরু। তবে লেখক পরিচয়ে প্রথমত তিনি একজন সাংবাদিক।

তার ৪৫ বছর বয়সী এই সাংবাদিক বলেন,আমি আমার বয়স নিয়ে ভাবি না বয়স হয়েছে, আরও হবে। হোক। সে নিয়ে ভাবি না। লেখা আমার, পেশা, নেশা ও প্রেম। শেষ দিনটি পর্যন্ত লিখে যেতে চাই। লেখালেখিটা আমার দেহ ও রক্তের সঙ্গে মিশে গেছে। এ নিয়ে থাকতে চাই বাকি দিনগুলো। অনেক অনেক দিন আগের কথা নয়। এই তো সেদিনের কথা। আমিও তরুণ ছিলাম।

আজ মনে পড়ছে পুরনো দিনের সেই গানের কথা। ‘সবাই বলে বয়স বাড়ে আমি বলি কমে রে, আমি বলি কমে রে’ এটি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের একটি জনপ্রিয় গান। এই গানের মাঝে যেন চিরন্তন সত্যটাই ফুটে উঠেছে। ‘এভরি বার্থডে ইজ ওয়ান স্টেপ ফরোয়ার্ড টু ডেথ’। একজন মনীষী বলেছেন, ‘জন্মদিনে মানুষের আনন্দের পরিবর্তে দুঃখ করাই উচিত। কেন না তার জীবন থেকে আরও একটি বছর চলে গেল।সত্যিই তো তাই। অথচ ছোট শিশুদের কাছে জন্মদিনটা কত আনন্দের। বার্থডে ওদের কাছে সত্যিকারে হ্যাপি বার্থডে হিসেবে পরিগণিত হয়। ওরা ভাবে কত দ্রুত কবে বড় হবে সে দিন গুনতে থাকে। আর বয়স্কদের কাছে জন্মদিনটা ভয় ও আতঙ্কের।

নারগিস পারভীন
গণমাধ্যম কর্মী
ঢাকা।

Hits: 58


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ