fbpx
 

পু‌ঁজিবাজার থেকে ১০ মাসে ৭০ হাজার কো‌টি টাকা উধাও

Pub: Tuesday, October 29, 2019 6:02 PM
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

চলতি বছরে জানুয়ারি থেকে অক্টোবরের ২৮ তারিখ পর্যন্ত ১০ মাসে পুঁজিবাজার থেকে ৭০ হাজার কোটি টাকা উধাও হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদ।

মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা আকরাম খাঁ হলে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে তারা আরও বলেন, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে তারপরও তারা ক্ষমতা দখল করে আছে এবং লাখ লাখ টাকা বিদেশে পাচার করছে। অবিলম্বে তা‌দের অপসারণ না করলে পুঁজিবাজার ধ্বংসের দিকে চলে যাবে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি এ কে এম মিজান উর রশীদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, উন্নত দেশ থেকে শুরু করে অনুন্নত দেশ পর্যন্ত সকল দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোর মূল স্তম্ভ হচ্ছে সেই দেশের ব্যাংকিং এবং দেশের পুঁজিবাজার। কিন্তু এ দেশের পুঁজিবাজারে ভয়াবহ দরপতন এর পরে বাজারকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য বিএসইসিতে যাদেরকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তারা বাজার স্বাভাবিক করার পরিবর্তে উল্টো বাজারকে আরও বেশি অস্বাভাবিক করে তুলেছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রণ সংস্থা থেকে শুরু করে ঢাকা, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ, আইসিবি, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের বেশ কিছু অসাধু কর্মকর্তা সীমাহীন দুর্নীতি ও লুটপাটই পুঁজিবাজার ধ্বংসের মূল। এছাড়াও সেকেন্ডারি মার্কেটের আদলে বা সমান্তরালে অনৈতিক প্লেসমেন্ট বাণিজ্য ও দুর্বল কোম্পানির আইপিওতে তালিকাভুক্ত মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের সর্বস্বান্ত করা হচ্ছে। তাই তদন্তের মাধ্যমে এসব অসাধু ব্যক্তিদেরকে অপসারণ না করলে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা আরও ধ্বংস হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এ সময় কয়েকটি দাবি তুলে ধরেছে বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদ।

তাদের দাবিগুলো হলো:  

# বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান খায়রুল হোসেনসহ সকল কমিশনারের অপসারণ করে মেধাবী ও যোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে।

# পুঁজিবাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য ক্যাসিনো মার্কেটের মত বিএসইসি, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ, আইসিবি ও বিভিন্ন ইস্যু ম্যানেজারদের বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করতে হবে। 

# পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতার লক্ষে আগামী তিন বৎসর সকল ধরনের আইপিও রাইট শেয়ার ইস্যু বন্ধ রাখতে হবে।

# বুক বিল্ডিং পদ্ধতি, ডাইরেক্ট লিস্টিং পদ্ধতি বাতিল করতে হবে।

# কোম্পানির ব্যবসা ভালো থাকা সত্ত্বেও যেসকল কোম্পানি নো ডিভিডেন্ড ঘোষণা করে বাজারকে অস্থিতিশীল করে, সে সকল কোম্পানিকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

# কোন কোম্পানির বোর্ড মিটিংয়ে ডিভিডেন্ড ঘোষণার সাতদিনের মধ্যেই এজিএম করতে হবে।

# পুঁজিবাজারের উন্নয়নের স্বার্থে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করতে হবে।

# খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী শেয়ারবাজার লুণ্ঠনকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

# বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ নিরাপত্তা আইন অতিদ্রুত প্রণয়ন করতে হবে এবং তা বাস্তবায়ন করতে হবে।

এ সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক ও পরিষদের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ