fbpx
 

অনবরত ঋণ নিচ্ছে সরকার, ৭ মাসেই নিয়েছে টার্গেটের চেয়ে বেশি

Pub: বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২০ ৬:১৪ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

চলতি অর্থ বছরের বাজাটে ঘাটতি ধরা হয়েছিল ১ লাখ ৪৫ লাখ ৩৮০ কোটি টাকা। আর ঘাটতি মেটাতে সরকার ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে (১২ মাসে) ৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা ঋণ নেয়ার টার্গেট করেছিল, কিন্তু চলতি অর্থ বছরের গত ৭ মাসেই সরকার ব্যাংক ‍থেকে ঋণ নিয়েছে ৫৩ হাজার ২১১ কোটি টাকা।

শুধু পুরো ঋণ নয়, বাংলাদেশ সরকার চলতি অর্থবছরের ৫ মাস বাকি থাকতেই ১২ মাসের টার্গেটের চেয়ে ৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। ব্যাংক থেকে টার্গেটের তুলনায় অনেকে বেশি ঋণ নেয়ায় বেসরকারি বিনিয়োগ এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, গত অর্থবছরের (২০১৮-২০১৯) জুলাই থেকে ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত (৭ মাসে) সরকার ব্যাংক খাত থেকে নিয়েছিল মাত্র ৫৫০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের (২০১৯-২০২০) একই সময়ে সরকার ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছে ৫৩ হাজার ২১১ কোটি টাকা। অর্থাৎ গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে চলতি অর্থবছরে ব্যাংক থেকে ৫২ হাজার ৬৬১ কোটি টাকা বেশি ঋণ নিয়েছে সরকার। এই টাকার পরিমাণ গত অর্থবছরে সরকার ব্যাংক খাত থেকে যে ঋণ নিয়েছিল, তারচেয়েও ২৯ হাজার কোটি টাকা বেশি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত সরকারের ব্যাংক ঋণের স্থিতি ছিল ৮৮ হাজার ৮০৮ কোটি টাকা। ২০২০ সালের ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত সরকারের ব্যাংক ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬১ হাজার ৩০৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ গত এক বছরে (১২ মাসে) নতুন করে সরকার ব্যাংক থেকে ৭২ হাজার ৪৯৯ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, সরকারের নেওয়া ৫৩ হাজার ২১১ কোটি টাকার মধ্যে ৪৪ হাজার ৫৮৮ কোটি টাকাই নিয়েছে বেসরকারি ব্যাংক থেকে। আর কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নিয়েছে ৮ হাজার ৬২৩ কোটি টাকা।

অর্থনীতিবিদদের অনেকে পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন। তারা বলছেন, সরকার অর্থসংকটের কারণে ব্যাংকের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। রাজস্ব আদায় কম হওয়ায় অর্থসংকট কাটাতে এবছর ব্যাংকের উপর সরকারের নির্ভরশীলতা আরও বাড়তে পারে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ বেড়ে গেলে সবচেয়ে বড় সমস্যা হয় ব্যক্তি বিনিয়োগ বা বেসরকারি খাতে। এতে একদিকে কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। অন্যদিকে মূল্যস্ফীতিও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। 

তিনি উল্লেখ করেন, ব্যাংকের টাকা উৎপাদনশীল খাতে গেলে অর্থনীতি চাঙা হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্য যে, বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি অব্যাহতভাবে কমছে। এতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থবির হচ্ছে। তার মতে, সরকারের ঋণ বেড়ে গেলে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের তহবিল পেতে সমস্যা হয়। ফলে বিনিয়োগ বাড়ে না। বিনিয়োগ না বাড়লে উৎপাদনও বাড়ে না।  আর উৎপাদন না হলে বাধাগ্রস্ত হয় সামগ্রিক অর্থনীতি।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডির মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘রাজস্ব আহরণ টার্গেটের থেকে প্রথম ছয়মাসে অনেক কম হয়েছে। এরফলে অর্থের জন্য সরকারকে অন্য সূত্র খুঁজতে হচ্ছে। এখন অন্য সূত্রের মধ্যে সঞ্চয়পত্র যেটা ছিল, সেখান থেকে গত বছরে টার্গেটের চেয়ে অনেক বেশি অর্থ নেয়া হয়েছিল।এরপর সরকার সঞ্চয় পত্র নিয়ে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছিল। সেজন্য মানুষ এবার সঞ্চয়পত্র কম কিনেছে। সুতরাং সরকার সঞ্চয়পত্র থেকে অর্থ পাচ্ছে না।’

সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, ‘অর্থবছরের দ্বিতীয় ধাপে অর্থ্যাৎ বাকি কয়েকমাসে রাজস্ব আয় বাড়ানোর তৎপরতা জোরদার করা হচ্ছে, যাতে ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়ার মাত্রা কমিয়ে আনা যায়।’

তবে এই ঋণ প্রবণতায় আশঙ্কার কিছু দেখছেন না পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান। তিনি বলেন, ‘সংকট কিছু আমি দেখছি না। এটাতো কমবেশি হয়। আপডাউন হয়। এটা স্বীকার্য অবশ্য যে টার্গেটের চেয়ে রাজস্ব আদায় কম হয়েছে। এর কারণও আছে, যেহেতু এবার টার্গেটটা উচ্চমাত্রার ছিল। কারণ আশা ছিল এবার সরকার নতুন যে ভ্যাট-কর বাস্তবায়ন করলো, এরফলে একটা বড় অংকের টাকা আশা করা হয়েছিলো। সেটা আদায়ের ব্যাপারে হয়তো সকল মেশিনারি পুরোপুরি কাজ করে নাই।’

Hits: 33


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ