বৈশ্বিক অর্থনীতি মহামন্দার দ্বারপ্রান্তে: প্রধানমন্ত্রী

Pub: সোমবার, জুন ২৯, ২০২০ ১০:২৮ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

প্রায় ৫-৬ মাস ধরে বিশ্বব্যাপী তাণ্ডব চালাচ্ছে মরণঘাতি করোনা ভাইরাস। এতে মানবজাতি যেমন দিশেহারা তেমনি লণ্ডভণ্ড বিশ্বের অর্থনীতিও। এর ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতি মহামন্দার দ্বারপ্রান্তে বলে জানিয়েছেন  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেছেন, ‘করোনা মহামারীর কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতি মহামন্দার দ্বারপ্রান্তে। জাতি একটি ক্রান্তিলগ্নের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এটা শুধু বাংলাদেশ নয়, সারাবিশ্বব্যাপী এই সমস্যা। তবে দেশের সব ধরনের মানুষ যাতে উপকৃত হয় এ জন্য আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। এজন্য আমরা ১৯টি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।’

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এ মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সামনে যে সংকটই আসুক না কেন আওয়ামী লীগ সরকার তা শক্তভাবে মোকাবিলা করবে। দেশের কোনও মানুষকে অভুক্ত থাকতে দেবে না। আওয়ামী লীগ কখনও হতাশায় ভোগে না।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা সব সময় একটা লক্ষ্য নির্ধারণ করে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাই। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় কখনও কখনও সে পরিকল্পনা প্রয়োজন অনুযায়ী পুনর্নির্ধারণ করতে হয়। সেই কারণে আমরা বাজেট ঠিক রেখেছি। প্রণয়নও করেছি। আশা করি এটা আমরা বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবো।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মহামারী কভিড-১৯ মহাদুযোর্গের কারণে আজকে বিশ্ব অর্থনীতি মহামন্দার দ্বারপ্রান্তে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ২০২০ সালে বৈশ্বিক অর্থনীতি চার দশমিক ৯ শতাংশ সংকুচিত হবে বলে প্রাক্কলন দিয়েছে। করোনার প্রভাবে বিশ্বব্যাপী ১৯ কোটি ৫০ লাখ কর্মীর চাকরি হ্রাস, বৈশ্বিক এফডিআই প্রবাহ ৫ থেকে ১৫ শতাংশ হ্রাস এবং বৈশ্বিক রেমিটেন্স ২০ শতাংশ হ্রাস পাবে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ঘোষণা দিয়েছে। ঠিক এই পরিস্থিতিতে আমরা বাংলাদেশে একটি বাজেট প্রণয়ন করেছি। এই বাজেট প্রণয়ন অত্যন্ত কঠিন ও দুরূহ কাজ ছিল। এই বাজেট প্রণয়নের সাথে যারা জড়িত, তাদের সকলকে ধন্যবাদ জানাই।’

বাজেট বক্তৃতার বড় অংশজুড়ে প্রধানমন্ত্রী বৈশ্বিক মহামারি করোনার প্রসঙ্গ তুলে তা মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন।

করোনা পরিস্থিতি সম্পর্কে বলেন, ‘জীবন ও জীবিকা রক্ষায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে প্রয়োজনীয় অফিস-আদালত-কলকারখানা চালু করার পাশাপাশি  সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কভিড-১৯ মোকাবিলায় যে কোনো জরুরি চাহিদা মেটাতে ২০২০-২১ সালের অর্থবছরে ১ হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দ দিয়েছি। দুর্যোগে কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষকে নগদ অর্থ ও খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে বছরব্যাপী জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী (মুজিববর্ষ) উদযাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ফলে আমরা মুজিববর্ষের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে জনসমাগম না করে টেলিভিশনের মাধ্যমে সম্প্রচার করেছি। তবে মুজিববর্ষে গৃহহীনদের ঘর করে দেওয়া হবে। এ দেশে কেউ গরীব, গৃহহীন থাকবে না।’

করোনাভাইরাসে মৃত্যুবরণকারী সকলের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই প্রাণঘাতী বৈশ্বিক মহামারির হাত থেকে দেশবাসী ও বিশ্ববাসী যেন মুক্তি পান। চিকিৎসাধীনরা যেন সুস্থ হয়ে ওঠেন।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকারের আমলে এটি দ্বিতীয় বাজেট। আওয়ামী লীগ সরকার এ পর্যন্ত ২০টি বাজেট দিয়েছে। বাজেটে আমরা স্বাস্থ্য, কৃষি এবং সামাজিক নিরাপত্তা এগুলোতে জোর দিয়েছি।

Hits: 22


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ