সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি
ছবিঃ প্রতিনিধি
স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানালেন নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা। ছবি: খবরের কাগজ
সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন নতুন মন্ত্রিসভার দায়িত্ব পাওয়া সদস্যরা।
শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে তারা স্মৃতিসৌধের শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
দুপুর ১টার দিকে প্রথমে শ্রদ্ধা জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়কমন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী এবং পররাষ্ট্র ও ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ও মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ড. আবদুল মঈন খান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি ক্রান্তিলগ্নে জনগণের ভোটে আমাদের প্রিয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই দেশের হাল ধরেছেন। দীর্ঘ ১৫ বছরের স্বৈরাচারের পরে দেশকে গণতন্ত্রের পথে, উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি কাজ করছেন। বাংলাদেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামেও তিনি নিজেকে নিয়োজিত করেছেন।
মঈন খান বলেন, ছয় মাস আগে গঠিত মন্ত্রিসভায় নতুন সদস্যদের অন্তর্ভুক্তি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ। প্রধানমন্ত্রী দেশের সমস্যাগুলো সম্পর্কে সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল। এসব সমস্যা দূর করে বাংলাদেশকে একটি গতিশীল রাষ্ট্রে পরিণত করা এবং বিশ্বে বাংলাদেশের সুনাম পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করাই নতুন মন্ত্রিসভার কাজ।
বিএনপির এই নেতা বলেন, এ দেশের রাজনৈতিক একটি দল নিজেদের স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি বলে দাবি করে। তারা যখন তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছিল, সেই সময় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন।’
নতুন প্রজন্মের কাছে এসব ইতিহাস তুলে ধরা প্রয়োজন উল্লেখ করে মঈন খান বলেন, বাংলাদেশে বারবার গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। বিএনপি বারবার নতুন করে দেশকে গণতন্ত্রের পথে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করেছে।
তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের বিদায়ের পরে ১৯৮২ সালে বিএনপির হাল ধরেছিলেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তিনি রাজপথে সংগ্রাম করে আপসহীন নেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং ১৯৯১ সালে জনগণের ভোটে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছিলেন।
মঈন খান বলেন, সেই ধারাবাহিকতায় আজকে আমরা ২০২৬ সালে এসে আবার নতুন করে জনগণের ভোটে আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই দেশকে ইনশা আল্লাহ নতুন করে গড়ে তুলব।
এরপর দুপুর পৌনে দুইটার দিকে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিব রহমান পার্থ। এ সময় তার সঙ্গে দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের পার্থ বলেন, আগামীকাল থেকে নতুন দায়িত্ব পালন শুরু করছি। দায়িত্ব গ্রহণের পর বুঝতে পারব কোন চ্যালেঞ্জ আছে কি না। তবে দেশবাসী ও আপনাদের দোয়া এবং সমর্থন থাকলে সুন্দরভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারব বলে আশা করছি।
পরে মন্ত্রিসভার সদস্যরা একে একে জাতীয় স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন এবং সেখানে নিজেদের অনুভূতি লিপিবদ্ধ করেন।












