জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবিঃ সংগৃহীত
নতুন করে সংবিধান প্রণয়ন নয়, বরং প্রয়োজনীয় সংশোধনের মাধ্যমে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান চিফ হুইপ।
তিনি বলেন, জুলাই সনদে যা স্বাক্ষরিত হয়েছে, তার অক্ষর, দাঁড়ি, কমা, বিন্দু ও সেমিকোলন পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সবার মতামত নেওয়া হবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলের প্রার্থীর বিষয়ে তিনি জানান, আগামী ২০ আগস্ট বিএনপি ও তাদের নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হিসেবে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নির্বাচিত করতে চায় বিএনপি। এ লক্ষ্যে আজ তার পক্ষে মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়েছে।
সংবিধান সংস্কার ও সংশোধনের মধ্যে পার্থক্য নিয়ে প্রশ্নের জবাবে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একটি শব্দ হচ্ছে ‘সংস্কার’, আরেকটি হচ্ছে ‘সংশোধন’। সংবিধানের কোনো একটি শব্দ বা এমনকি একটি কমা পরিবর্তন করলেও সেটি সংবিধান সংশোধনের অংশ।
তিনি বলেন, ‘আমরা সংবিধান নতুন করে লিখব না। আমরা যদি একটা কমাও পরিবর্তন করি, সেটাই হবে সংবিধানের সংস্কার। আর পরিবর্তন করলে সেটাই হবে সংশোধন। সেই সংশোধনের জন্য আমরা সবাই বসব।’
চিফ হুইপ আরও বলেন, একটি সংবিধান এক দিনের জন্য পরিবর্তন করা হয় না। দীর্ঘ সময়ের জন্য দেশের সাংবিধানিক কাঠামোকে কার্যকর রাখার লক্ষ্যেই প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হয়। তাই জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে সব পক্ষকে আলোচনায় নিয়ে তাদের মতামত গ্রহণ করা হবে।
তিনি বলেন, ‘সবার মতামত নিয়েই আমরা সংবিধান সংশোধন করতে চাই এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে চাই।’
এ সময় ভারতের সংবিধানের উদাহরণ টেনে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, দেশটির সংবিধান নতুন করে লেখা হয়নি, বরং সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী বারবার সংশোধন করা হয়েছে। ১৯৫০ সালে সংবিধান কার্যকর হওয়ার পর বিভিন্ন সময়ে তা সংশোধন করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে প্রায় ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ভোটের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পাশাপাশি, সংসদের বিরোধী ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে এলডিপির মহাসচিব কর্নেল (অব.) অলি আহমদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ বাধা তৈরি করছে— বিরোধী জোটের পক্ষ থেকে এমন বক্তব্যও এসেছে। তাদের দাবি, জুলাই সনদে প্রস্তাবিত সংস্কার বাস্তবায়িত হলে সংসদ সদস্যরা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আরও স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেতেন।
তবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, গণভোটের সঙ্গে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। বৃহস্পতিবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গণভোটের রায় পর্যায়ক্রমে সংসদে প্রতিফলিত করা হবে।
বিরোধী জোটের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রত্যাখ্যান না করে তারা এতে অংশগ্রহণ করছেন— এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। তিনি বিরোধী জোটকে এ জন্য অভিনন্দন জানান।
এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, বৃহস্পতিবার দলের কোনো বৈঠক ছিল না। প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমান দলের নেতাদের দায়িত্ব দিয়েছিলেন এবং পরে তাদের ডেকে সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। সেখানে আনুষ্ঠানিক কোনো বৈঠক হয়নি।












