জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবিঃ সংগৃহীত
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শামা ওবায়েদ ইসলাম দায়িত্ব পালন করছেন। তবে গত শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরকেও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেয় সরকার। দেশের ইতিহাসে প্রথম পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুজন প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ পাওয়া নিয়ে বিভিন্ন মহলে চলছে ব্যাপক আলোচনা। এমন আলোচনাও ঘুরপাক খাচ্ছে যে, তাহলে কী পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব পালনে ছুটিতে যাচ্ছেন?
এ বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জানান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাজের পরিধি, ব্যস্ততা এবং গতি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। মন্ত্রণালয়ের কাজের সুবিধার্থে এবং গতি আরও বেগবান করার লক্ষ্যেই সরকার এখানে দুজন প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ দিয়েছে।
গতকাল শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে রাজনৈতিক নেতৃত্বে তরুণ নারীদের ক্ষমতায়ন’ শীর্ষক এক সমাপনী সংলাপ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা জানান।
জার্মানভিত্তিক রাজনৈতিক ফাউন্ডেশন ফ্রেডরিখ এবার্ট স্টিফটুংয়ের (এফইএস) সহযোগিতায় আয়োজিত ‘পলিটিক্স ল্যাব’ শিরোনামের চারটি কর্মশালার ধারাবাহিকতায় এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
সাংবাদিকদের শামা ওবায়েদ বলেন, ‘গত ছয় মাসে আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিগত ১৭ বছরের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি কাজ হয়েছে। আমরা তিনটির মতো নতুন উইং চালু করেছি। অভিবাসন ও অবৈধ অভিবাসন বন্ধে কাজ করছি। এ ছাড়া প্রবাসী কল্যাণ, সংস্কৃতি, শ্রম ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আন্তমন্ত্রণালয় ফোকাল পয়েন্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে, যেগুলো আগে ছিল না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। আগামী এক বছর তিনি অত্যন্ত ব্যস্ত থাকবেন। ফলে কাজের সুবিধার্থে এবং গতি বাড়াতে সরকার যে সিদ্ধান্তই নেবে, সে অনুযায়ী টিমওয়ার্ক হিসেবে আমরা কাজ করব।’
সৌদি প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যেকোনো বহুপক্ষীয় সংস্থায় যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থ এবং জনগণের স্বার্থই হবে প্রধান বিবেচ্য বিষয়।
তিনি বলেন, ‘কোনো বহুপক্ষীয় সংস্থায় বা জোটে বাংলাদেশ যুক্ত হবে কি হবে না, তার সিদ্ধান্ত নেবে সরকার নিজেই। আর এ ধরনের যেকোনো সিদ্ধান্ত হলে বাংলাদেশের গণমাধ্যমই তা আগে জানতে পারবে। বিদেশি কোনো দেশের গণমাধ্যমে কী আসছে, তা দেখে আমাদের প্রভাবিত হওয়ার সুযোগ নেই।’
এর আগে সিজিএসের সমাপনী সংলাপে নারীদের ক্ষমতায়ন বিষয়ে তিনি বলেন ‘নারীদের ভবিষ্যতে জাতীয় নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত করতে হলে তৃণমূল থেকেই তাদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করতে হবে। দেশের ৫০ শতাংশ নারীকে পিছিয়ে রেখে কোনো উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মানসিকতা ও নীতিতে পরিবর্তন আনা জরুরি।’
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি হিসেবে তিনি আরও বলেন, শিক্ষা নারীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বাড়ায়, তবে নারীদের সহায়তা করা রাষ্ট্র ও সরকারের জন্য একটি নীতিগত বিষয় হওয়া উচিত।
রাজনীতিতে নারীদের আসার পথ সহজ নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, যত বাধাই থাকুক, মেধা ও আত্মসম্মান নিয়ে নারীদের এগিয়ে যেতে হবে এবং একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাজনীতির জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে এফইএসের বাংলাদেশ রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. ফেলিক্স গ্রেডেস বলেন, নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ন্যায়বিচারের অংশ এবং এটি কেবল অধিকার নয়, সমাজ ও রাষ্ট্রের সব ক্ষেত্রে তাদের অর্থবহ সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সঞ্চালকের বক্তব্যে সিজিএসের প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমান বলেন, প্রকৃত অন্তর্ভুক্তির জন্য কেবল অংশগ্রহণই যথেষ্ট নয়, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সম্পদ ব্যবহারে নারীদের কার্যকর ক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে।
নারীদের জন্য নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ তৈরিতে সমাজের মানসিকতা পরিবর্তনের ওপরও তিনি তাগিদ দেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য জহরত আদিব চৌধুরী, সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য জলি তালুকদার, এবি পার্টির আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসরিন সুলতানা মিলি ও এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন।












