• যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
  • জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • sheershakhoboronline@gmail.com

প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগগুলো কোটি মানুষের, কোটি পরিবারের সমৃদ্ধি আনেবে

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬ ৮:৫৯
আপডেট: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬ ৮:৫৯

96555201 1

প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগগুলো কোটি মানুষের, কোটি পরিবারের সমৃদ্ধি আনেবে

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি :সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনার মাধ্যমে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে বাংলাদেশের কোটি কোটি পরিবারের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে। কোটি কোটি মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে। তারা অর্থনৈতিকভাবে, সামাজিকভাবে আরও বেশি ক্ষমতায়িত হবেন।

মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘ট্রান্সফর্মিং হাইয়ার এডুকেশন ইন বাংলাদেশ: রোডম্যাপ টু সাসটেইনেবল এক্সিলেন্সি’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া নানা উদ্যোগ তুলে ধরেন মাহদী আমিন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য শুধুমাত্র সার্টিফিকেট প্রদান করা নয়। একদিকে যেমন সার্টিফিকেটের গুরুত্ব রয়েছে, ঠিক একইভাবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আমরা চাই শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুনাগরিকের গুণাবলি গড়ে উঠুক। তারা যেন তাদের মেধা, মননশীলতা এবং সৃজনশীলতার পাশাপাশি ভ্যালু এবং প্রিন্সিপাল ধারণ করে, যেখানে তারা বাংলাদেশে থেকে গ্লোবাল সিটিজেন হয়ে উঠবেন। তাদের মধ্যে নৈতিকতা থাকবে, যেখানে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি, সততা এবং নিষ্ঠা তৈরি করা যাবে।

প্রধানমন্ত্রীর নানা পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, আসুন আমরা চিন্তা করি আজ থেকে কয়েক বছর পর একদম প্রান্তিক একটি এলাকার কৃষিনির্ভর একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ কেমন হবে। সেই পরিবারের প্রধান একজন বৃদ্ধ কৃষক। তার হাতে একটি কৃষক কার্ড থাকবে। সে কৃষক কার্ডের মাধ্যমে তিনি নিশ্চিত করবেন যে সরকারি ভর্তুকি সরাসরি তার হাতে পৌঁছে যাচ্ছে। সেচ, সার, বীজ, তেল এবং নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো স্বল্প খরচে সরকারি প্রণোদনার মাধ্যমে তার কাছে পৌঁছে যাবে। তিনি আবহাওয়ার পূর্বাভাস ব্যবহার করে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন আরও বাড়াতে পারবেন; তিনি পাবেন কৃষি বীমা এবং কৃষি ঋণ।

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, তিনি যেই কৃষক কার্ড ব্যবহার করছেন সেই কৃষকের স্ত্রীর হয়তো একটি দুরারোগ্য ব্যাধি আছে, যার জন্য তাকে ঢাকায় যেতে হয়। কিন্তু ই-হেলথ কার্ডের মাধ্যমে তিনি স্থানীয় পর্যায়েই চিকিৎসা সেবা পাবেন। সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বিনা খরচে চিকিৎসা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা ই-হেলথ কার্ডের মাধ্যমে কার্যকর করা হবে।

তিনি বলেন, সেই পরিবারে যদি তিনজন সন্তান থাকে, একজন সন্তান হয়তো মসজিদের ইমাম, তার জন্য থাকবে সম্মানী ভাতা। তার নিয়মিত উপার্জনের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় সহায়তা দেওয়া হবে। দ্বিতীয় সন্তান হয়তো বিশ্ববিদ্যালয় বা স্কুলের শিক্ষক। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হলে আজকের বাংলাদেশে তাদের সামাজিক মর্যাদা আরও বাড়াতে ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ স্কিমের মাধ্যমে ট্যাবলেট কম্পিউটার দেওয়া হবে। এতে তাদের প্রশিক্ষণ বৃদ্ধি পাবে এবং ডিজিটাল কারিকুলামের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা দিতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, সেই পরিবারে আরেকজন সন্তান কর্মদক্ষতা থাকা সত্ত্বেও বেকার হয়ে পড়েছেন, কারণ তার কর্মস্থল বন্ধ হয়ে গেছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে চিনি কল, পাটকল এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পগুলো চালু হলে তার মতো লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে।

একই পরিবারে একজন বোন উদ্যোক্তা হতে চান, কিন্তু পর্যাপ্ত সহায়তা পান না। প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে স্বল্প সুদে ঋণ দিয়ে তাকে স্বনির্ভর করা হবে। পরিবারের নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে তারা আরও ক্ষমতায়িত হবেন।

মাহদী আমিন বলেন, এই অর্থ দিয়ে তারা সন্তানদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে আরও বেশি বিনিয়োগ করতে পারবেন। প্রবাসে থাকা স্বামীদের জন্য প্রবাসী কার্ডের মাধ্যমে বৈধভাবে রেমিট্যান্স পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। এতে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।

তিনি আরও বলেন, শিশুদের জন্য ক্লাস ওয়ানে ভর্তি হলে ব্যাগ, জুতা, স্কুল ড্রেস দেওয়া হবে এবং মিড-ডে মিল নিশ্চিত করা হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা পুষ্টিকর খাবার পায়।

ভবিষ্যৎ শিক্ষা ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশে বসে বিশ্ব নাগরিক হয়ে উঠবে। কেউ আরবি, কেউ ফ্রেঞ্চ, কেউ ম্যান্ডারিন ভাষা শিখবে। কেউ গার্লস গাইড, কেউ স্কাউট, কেউ বিওসি কার্যক্রমে যুক্ত হবে। ‘ওয়ান স্টুডেন্ট ওয়ান ট্রি’সহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে তারা অংশ নেবে।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে গবেষণা ও কনটেন্ট ক্রিয়েশনকে উৎসাহ দেওয়া হবে। ভালো কনটেন্ট নির্মাতারা বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে কাজ করতে পারবেন এবং পেপালের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করতে পারবেন।

ইন্ডাস্ট্রি ও একাডেমিয়ার সংযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের সঙ্গে স্থানীয় শিল্প ও ব্যবসার সংযোগ তৈরি করতে হবে, যাতে পাঠ্যক্রম বাস্তবমুখী হয় এবং দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।

তিনি আরও বলেন, ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা চালু করা হবে। ব্রেন ড্রেনকে ব্রেন সার্কুলেশনে রূপান্তর করতে হবে। বিদেশে থাকা মেধাবীরা বছরে অন্তত একবার দেশে এসে ক্লাস নিতে এবং গবেষণায় যুক্ত হতে পারবেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মান ও র‌্যাংকিং উন্নত করতে হবে, যাতে বাংলাদেশ বৈশ্বিক শিক্ষাক্ষেত্রে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারে।


সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ


সম্পাদক: আব্দুল আজিজ

উপদেষ্টা সম্পাদক: সায়েক এম রহমান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক: রাশেদুর রহমান (রকেস )
পরিচালক: মোঃ দেলোয়ার হোসেন আহাদ

ইংলান্ড অফিস: 13 Wimpole Court, Wimpole Street, Portsmouth, PO1 1QT, United Kingdom
বাংলাদেশ অফিস: রুম-১৪০৫ (লিফট-১৩), শাহ আলি প্লাজা, মিরপুর ১০, ঢাকা-১২১৬
ই-মেইল: sheershakhoboronline@gmail.com


WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com