জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবিঃ সংগৃহীত
২৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের চেয়ারম্যান ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভায় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী নতুন এ কারিকুলাম নিয়ে আলোচনা করছেন। ছবি: খবরের কাগজ
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহশিক্ষা কার্যক্রমের পরিবর্তে এবার সরাসরি ‘শিল্প ও সংস্কৃতি’ পাঠ্যবই চালুর বড় উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
তিনি বলেন, ‘নতুন কারিকুলামের এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আগামী পাঁচ বছরে প্রাথমিক শিক্ষা খাতে সংগীত, নৃত্যকলা, নাট্যকলা ও চারুকলা বিষয়ে শিক্ষিত প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।’
বুধবার (১০ জুন) সচিবালয়ে দেশের ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের চেয়ারম্যান ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভায় তিনি এ ঘোষণা দেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত শিক্ষা-দর্শন অনুযায়ী দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে এমনভাবে গড়ে তোলা হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা বৈশ্বিক নাগরিক (গ্লোবাল সিটিজেন) হিসেবে বিকশিত হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতাও অর্জন করতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘সংগীত, নৃত্য ও নাট্যকলাকে আর সাধারণ সহশিক্ষা বা অতিরিক্ত পাঠ্যক্রমভিত্তিক কার্যক্রম হিসেবে না দেখে শিশুর সামগ্রিক বিকাশের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায় মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্যে বিপুলসংখ্যক বিশেষায়িত শিক্ষক ও প্রশিক্ষকের প্রয়োজন হবে, যা দেশের শিক্ষিত বেকার তরুণদের জন্য একটি টেকসই ক্যারিয়ার গঠনের সুযোগ তৈরি করবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সহযোগিতা কামনা করে ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘আমরা চাই আপনাদের শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাক। সে লক্ষ্যে কীভাবে তাদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়, কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমের সঙ্গে শিক্ষকতা-সম্পর্কিত প্রস্তুতি যুক্ত করা যায় এবং কীভাবে যৌথভাবে দক্ষ শিক্ষক তৈরি করা যায়-সেসব বিষয়ে আমরা একসঙ্গে কাজ করতে চাই।’
কবে থেকে চালু হবে?
২০২৭ সালে চতুর্থ শ্রেণির জন্য ‘শিল্প ও সংস্কৃতি’ পাঠ্যবই চালু হবে। বইটিতে চারটি পৃথক অধ্যায় থাকবে চারু ও কারুকলা, সংগীত, নৃত্যকলা এবং নাট্যকলা। ২০২৮ সাল থেকে নতুন কারিকুলামের আওতায় বিষয়গুলো পূর্ণাঙ্গভাবে প্রাথমিক শিক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
সভায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং আমন্ত্রিত বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন। নতুন শিক্ষাক্রম চালুর লক্ষ্যে কারিকুলাম উন্নয়নের পাশাপাশি দক্ষ শিক্ষক তৈরির মাস্টারপ্ল্যান এখন থেকেই শুরু করা হচ্ছে বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।












