জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবিঃ সংগৃহীত
দেশে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে লজিস্টিক ব্যয় কমানো, উৎপাদন উপকরণের খরচ নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষির উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, “কৃষিপণ্যের উৎপাদন থেকে ভোক্তার কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো সরবরাহব্যবস্থায় ট্রেসেবিলিটি নিশ্চিত করা গেলে মূল্যশৃঙ্খলের কোন পর্যায়ে অস্বাভাবিক ব্যয় বা মূল্যবৃদ্ধি ঘটছে, তা চিহ্নিত করা সহজ হবে।”
মানবপাচার ও অনলাইন স্ক্যাম প্রতিরোধে ‘জিরো টলারেন্স’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীমানবপাচার ও অনলাইন স্ক্যাম প্রতিরোধে ‘জিরো টলারেন্স’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘বাংলাদেশে খাদ্যপণ্যের মূল্যশৃঙ্খল: বাজারব্যবস্থা, মুনাফার মার্জিন ও মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা’ শীর্ষক এই সংলাপে খাদ্যপণ্যের উৎপাদন, পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও মূল্য নির্ধারণের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, উচ্চ খাদ্য মূল্যস্ফীতির পেছনে লজিস্টিক ব্যয়ের উচ্চহার, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং বাজারব্যবস্থার বিভিন্ন অসঙ্গতি রয়েছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাজারের অনানুষ্ঠানিক ব্যয়ও কমাতে হবে।
তিনি বলেন, “মূল্যস্ফীতি মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। কোভিড-পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত তারল্য, সরবরাহব্যবস্থার বিঘ্ন এবং চাহিদা বৃদ্ধির কারণে বিশ্বের প্রায় সব দেশেই মূল্যস্ফীতি বেড়েছিল। পরবর্তী সময়ে অনেক দেশ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হলেও বাংলাদেশে তা দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।”
জিডিপির ১৬ শতাংশ লজিস্টিক ব্যয়
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, “বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি স্থায়ীভাবে বেশি থাকার অন্যতম কারণ উচ্চ লজিস্টিক ব্যয়। বিশ্বে যেখানে গড়ে মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ১০ শতাংশ লজিস্টিক ব্যয় হিসেবে বিবেচিত হয়, সেখানে বাংলাদেশে এই ব্যয় প্রায় ১৬ শতাংশ।”
এই ব্যয় কমানো গেলে খাদ্যপণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে মনে করেন তিনি।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “বাজারে তথ্যের অসমতা কৃষকদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে। টানা কয়েক বছর আলুর ন্যায্যমূল্য না পেলেও কৃষকেরা একই পরিমাণ উৎপাদন অব্যাহত রেখেছেন। এতে বোঝা যায়, কৃষকের কাছে বাজারের সঠিক তথ্য এবং বিকল্প উৎপাদন পরিকল্পনার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পৌঁছাচ্ছে না।”
কৃষিপণ্যের চাহিদা, উৎপাদন ও সম্ভাব্য বাজারমূল্য সম্পর্কে কৃষকদের আগাম তথ্য দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সরবরাহব্যবস্থায় আসছে ট্রেসেবিলিটি
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, কৃষিপণ্যের উৎপাদন থেকে শুরু করে ভোক্তার কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো সরবরাহব্যবস্থায় ট্রেসেবিলিটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, “এই ব্যবস্থা চালু হলে পণ্যটি কোথায় উৎপাদিত হয়েছে, কীভাবে পরিবহন করা হয়েছে, কোন কোন পর্যায় অতিক্রম করেছে এবং কোথায় কত ব্যয় বা মূল্য সংযোজন হয়েছে— তা শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এতে মূল্যশৃঙ্খলের দুর্বলতা এবং অস্বাভাবিক ব্যয়ের ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করা সহজ হবে।”
বাজারে বিদ্যমান অনানুষ্ঠানিক ব্যয়ও খাদ্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে উল্লেখ করে এসব ব্যয় কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেন তিনি।
কৃষিতে বিনিয়োগ সক্ষমতা সীমিত
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, “দেশে প্রায় এক কোটি ৭৮ লাখ কৃষক পরিবার সীমিত আয়ের মধ্যে জীবনযাপন করছে। তাদের সঞ্চয়ের সুযোগ খুবই কম। ফলে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি এবং উচ্চ উৎপাদনশীলতায় বিনিয়োগের সক্ষমতাও সীমিত।”
এই জন্য কৃষিকে আরও বেশি রাষ্ট্রীয় সহায়তা, গবেষণা এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সরকার কৃষি খাতে ভর্তুকি এবং সার, বীজ ও সেচ সুবিধা দিয়ে সহযোগিতা করেছে। তবে এখন কৃষিকে আরও সমন্বিত ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থায় রূপান্তরের সময় এসেছে।”
দেশের মাটি, জলবায়ু ও কৃষির বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করে নিজস্ব বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কৃষি উন্নয়ন কৌশল গ্রহণ করতে হবে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, “কৃষি শিল্পের মতো নির্দিষ্ট ও নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে পরিচালিত হয় না। এই খাত প্রকৃতি, আবহাওয়া এবং বিভিন্ন বাহ্যিক ঝুঁকির ওপর নির্ভরশীল। তাই জাতীয় খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সহায়তা অব্যাহত রাখতে হবে।”
খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমাতে তিনটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। এগুলো হলো— লজিস্টিক ব্যয় হ্রাস, উৎপাদন উপকরণের খরচ নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি।
তিনি বলেন, “উৎপাদনশীলতা বাড়লে একদিকে কৃষকের আয় বাড়বে, অন্যদিকে ভোক্তাদের কাছে সহনীয় দামে খাদ্যপণ্য সরবরাহ করাও সহজ হবে।”
সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট ফখরুদ্দিন আল কবির। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুস সাত্তার মণ্ডল, সাবেক অর্থসচিব সিদ্দিকুর রহমান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মাজিদ এবং বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির সভাপতি তাসলিমা আক্তার লিমা।
ভুক্তভোগীদের মর্যাদা ও পুর্নবাসন প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মানবপাচারের শিকার প্রতিটি মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের নৈতিক ও আইনি দায়িত্ব। এজন্য ‘ন্যাশনাল রেফারেল মেকানিজম (NRM)’ জোরদার করা হচ্ছে, যাতে ভুক্তভোগীদের দ্রুত উদ্ধার করে তাৎক্ষণিক আইনি, শারীরিক, মনস্তাত্ত্বিক ও পুনর্বাসন সহায়তা দেওয়া যায়। তথ্যভিত্তিক নীতি নির্ধারণ এবং নিখুঁত কেস ট্র্যাকিং নিশ্চিত করতে একটি সর্বাধুনিক ‘ডিজিটাল পাচার প্রতিরোধ তথ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম’ তৈরি করা হচ্ছে। তরুণ সমাজ, নারী ও অভিবাসন প্রত্যাশীদের নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকরণ এবং ভুয়া নিয়োগ চক্রের বিরুদ্ধে ব্যাপকভাবে জনসচেতনতা বাড়ানোর জন্য তিনি গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজের প্রতি আহ্বান জানান।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জাতীয় সংলাপে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. লিয়াকত আলী মোল্লা, বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, ইউরোপীয় ইউনিয়নের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স বাইবা জারিনা এবং আইওএম বাংলাদেশ-এর চিফ অব মিশন ও জাতিসংঘের অভিবাসন নেটওয়ার্কের সমন্বয়কারী ড. লরা টম বোন্ডে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার এডমিরাল মো. জিয়াউল হক এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সোহরাব হোসেন ভূঁইয়া এনডিসি।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ। এ বছরের বিশ্ব মানবপাচার বিরোধী দিবসের প্রতিপাদ্যের ওপর বিস্তারিত আলোকপাত করেন ইউএনওডিসি (UNODC) প্রোগ্রাম অফিস বাংলাদেশের প্রধান শাহ মোহাম্মদ নাহিয়ান। উদ্বোধনী সেশনের পর একটি তথ্যভিত্তিক ভিডিওচিত্র প্রদর্শিত হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জাতিসংঘ মাদক ও অপরাধ সংক্রান্ত দপ্তর (UNODC) এবং জাতিসংঘের অভিবাসন নেটওয়ার্কের কাউন্টার ট্রাফিকিং টেকনিক্যাল ওয়ার্কিং গ্রুপ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। জাতীয় সংলাপে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কূটনৈতিক কোরের সদস্য, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
দেশে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে লজিস্টিক ব্যয় কমানো, উৎপাদন উপকরণের খরচ নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষির উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, “কৃষিপণ্যের উৎপাদন থেকে ভোক্তার কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো সরবরাহব্যবস্থায় ট্রেসেবিলিটি নিশ্চিত করা গেলে মূল্যশৃঙ্খলের কোন পর্যায়ে অস্বাভাবিক ব্যয় বা মূল্যবৃদ্ধি ঘটছে, তা চিহ্নিত করা সহজ হবে।”
মানবপাচার ও অনলাইন স্ক্যাম প্রতিরোধে ‘জিরো টলারেন্স’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীমানবপাচার ও অনলাইন স্ক্যাম প্রতিরোধে ‘জিরো টলারেন্স’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘বাংলাদেশে খাদ্যপণ্যের মূল্যশৃঙ্খল: বাজারব্যবস্থা, মুনাফার মার্জিন ও মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা’ শীর্ষক এই সংলাপে খাদ্যপণ্যের উৎপাদন, পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও মূল্য নির্ধারণের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, উচ্চ খাদ্য মূল্যস্ফীতির পেছনে লজিস্টিক ব্যয়ের উচ্চহার, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং বাজারব্যবস্থার বিভিন্ন অসঙ্গতি রয়েছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাজারের অনানুষ্ঠানিক ব্যয়ও কমাতে হবে।
তিনি বলেন, “মূল্যস্ফীতি মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। কোভিড-পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত তারল্য, সরবরাহব্যবস্থার বিঘ্ন এবং চাহিদা বৃদ্ধির কারণে বিশ্বের প্রায় সব দেশেই মূল্যস্ফীতি বেড়েছিল। পরবর্তী সময়ে অনেক দেশ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হলেও বাংলাদেশে তা দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।”
জিডিপির ১৬ শতাংশ লজিস্টিক ব্যয়
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, “বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি স্থায়ীভাবে বেশি থাকার অন্যতম কারণ উচ্চ লজিস্টিক ব্যয়। বিশ্বে যেখানে গড়ে মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ১০ শতাংশ লজিস্টিক ব্যয় হিসেবে বিবেচিত হয়, সেখানে বাংলাদেশে এই ব্যয় প্রায় ১৬ শতাংশ।”
এই ব্যয় কমানো গেলে খাদ্যপণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে মনে করেন তিনি।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “বাজারে তথ্যের অসমতা কৃষকদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে। টানা কয়েক বছর আলুর ন্যায্যমূল্য না পেলেও কৃষকেরা একই পরিমাণ উৎপাদন অব্যাহত রেখেছেন। এতে বোঝা যায়, কৃষকের কাছে বাজারের সঠিক তথ্য এবং বিকল্প উৎপাদন পরিকল্পনার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পৌঁছাচ্ছে না।”
কৃষিপণ্যের চাহিদা, উৎপাদন ও সম্ভাব্য বাজারমূল্য সম্পর্কে কৃষকদের আগাম তথ্য দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সরবরাহব্যবস্থায় আসছে ট্রেসেবিলিটি
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, কৃষিপণ্যের উৎপাদন থেকে শুরু করে ভোক্তার কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো সরবরাহব্যবস্থায় ট্রেসেবিলিটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, “এই ব্যবস্থা চালু হলে পণ্যটি কোথায় উৎপাদিত হয়েছে, কীভাবে পরিবহন করা হয়েছে, কোন কোন পর্যায় অতিক্রম করেছে এবং কোথায় কত ব্যয় বা মূল্য সংযোজন হয়েছে— তা শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এতে মূল্যশৃঙ্খলের দুর্বলতা এবং অস্বাভাবিক ব্যয়ের ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করা সহজ হবে।”
বাজারে বিদ্যমান অনানুষ্ঠানিক ব্যয়ও খাদ্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে উল্লেখ করে এসব ব্যয় কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেন তিনি।
কৃষিতে বিনিয়োগ সক্ষমতা সীমিত
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, “দেশে প্রায় এক কোটি ৭৮ লাখ কৃষক পরিবার সীমিত আয়ের মধ্যে জীবনযাপন করছে। তাদের সঞ্চয়ের সুযোগ খুবই কম। ফলে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি এবং উচ্চ উৎপাদনশীলতায় বিনিয়োগের সক্ষমতাও সীমিত।”
এই জন্য কৃষিকে আরও বেশি রাষ্ট্রীয় সহায়তা, গবেষণা এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সরকার কৃষি খাতে ভর্তুকি এবং সার, বীজ ও সেচ সুবিধা দিয়ে সহযোগিতা করেছে। তবে এখন কৃষিকে আরও সমন্বিত ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থায় রূপান্তরের সময় এসেছে।”
দেশের মাটি, জলবায়ু ও কৃষির বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করে নিজস্ব বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কৃষি উন্নয়ন কৌশল গ্রহণ করতে হবে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, “কৃষি শিল্পের মতো নির্দিষ্ট ও নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে পরিচালিত হয় না। এই খাত প্রকৃতি, আবহাওয়া এবং বিভিন্ন বাহ্যিক ঝুঁকির ওপর নির্ভরশীল। তাই জাতীয় খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সহায়তা অব্যাহত রাখতে হবে।”
খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমাতে তিনটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। এগুলো হলো— লজিস্টিক ব্যয় হ্রাস, উৎপাদন উপকরণের খরচ নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি।
তিনি বলেন, “উৎপাদনশীলতা বাড়লে একদিকে কৃষকের আয় বাড়বে, অন্যদিকে ভোক্তাদের কাছে সহনীয় দামে খাদ্যপণ্য সরবরাহ করাও সহজ হবে।”
সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট ফখরুদ্দিন আল কবির। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুস সাত্তার মণ্ডল, সাবেক অর্থসচিব সিদ্দিকুর রহমান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মাজিদ এবং বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির সভাপতি তাসলিমা আক্তার লিমা।












