স্কুল ফিডিংয়ে টাকা-পয়সা সমস্যা নয়: পরিকল্পনামন্ত্রী

Pub: বুধবার, এপ্রিল ১০, ২০১৯ ৮:৫১ অপরাহ্ণ   |   Upd: বুধবার, এপ্রিল ১০, ২০১৯ ৮:৫১ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

দেশের স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের জন্য খাবার ব্যবস্থা (স্কুল ফিডিং) করতে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা লাগবে। আর এই প্রকল্পের জন্য টাকা-পয়সার সমস্যা হবে না বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

বুধবার (১০ এপ্রিল) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘জাতীয় স্কুল মিল নীতি ২০১৯’ চূড়ান্ত করতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এক জাতীয় কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘আমার কথা হলো সরকারের পরিকল্পনা ও অর্থ মন্ত্রণালয় আমরা এটাকে সমর্থন করি। কারণ আমাদের যিনি প্রধান, তিনি চান এটা হোক। আমি প্রধানমন্ত্রীর মন বুঝেই এ কথা বলছি। টাকা-পয়সার সমস্যা হবে না। আমাদের টাকা-পয়সা আছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় যে কাজটা করছেন, এটা আরও শক্তভাবে করবেন। আমার নিজের মন্ত্রণালয় থেকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিচ্ছি।’

এম এ মান্নান আরও বলেন, ‘রোমান্টিক একটা আইডিয়া ছিল যে, সব জমায়েত হয়ে রান্নাবান্না করে বাচ্চাদেরকে টিফিনে খাওয়াবে। কিন্তু এটা বাস্তবসম্মত নয়।’

তিনি স্কুলের শিশুদের বিস্কুট, কলা, ডিম–এসব খাবার দেয়ার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। তবে এক্ষেত্রেও সবাইকে মিলে সিদ্ধান্ত নেয়ার পরামর্শ দেন পরিকল্পনামন্ত্রী।

বিদ্যালয়ের শিশুদের খাবার দেয়ার বিষয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং বলেন, ‘প্রত্যেক বিনিয়োগের একটা সন্দেহ থাকে, লাভ হবে কি হবে না। কিন্তু এই বিনিয়োগের কোনও লস (ঘাটতি) নাই।’

তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক বিনিয়োগে জিনিস চলবে কি চলবে না, সন্দেহ থাকে। কিন্তু এই বিনিয়োগে এই প্রতিষ্ঠান থেকে, এই ফ্যাক্ট্ররি থেকে থেকে যে জিনিসটা বের হবে, সেটা হবে আমার সমাজের জন্য, পরিবারের জন্য, ধর্মের জন্য, রাষ্ট্রের জন্য, বিশ্বের জন্য কল্যাণকর। এই শিশুরাই শিক্ষায়, দিক্ষায় পরিপূর্ণ হয়ে বেরিয়ে আসবে। এই বিনিয়োগে কোনো জাতি-ধর্ম-বর্ণ কিছুই নাই্। এর দেশের কোনো সীমানা নাই। তাহলে সেখানে আমরা বিনিয়োগ করব না কেন?’

জাতীয় স্কুল মিল নীতি প্রণয়ন করতে এর আগে দেশের প্রতিটি বিভাগীয় শহরে কর্মশালার আয়োজন করা হয়। সেসব কর্মশালার বাস্তব মতামত ও সুপারিশের আলোকে নীতিটির খসড়া চূড়ান্ত করে আজ উপস্থাপন করা হয়। আজকের উপস্থিত সবার মতামতের ভিত্তিতে এটি চূড়ান্ত করা হবে।

এ সময় স্কুল ফিডিং প্রোগ্রাম প্রকল্পের পরিচালক রুহুল আমিন খান বলেন, ‘বর্তমানে দেশের চারটি দারিদ্র জেলায় স্কুল ফিডিংয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২৯ লাখ ৩০ হাজার ছাত্রছাত্রীকে উচ্চমান সম্পন্ন বিস্কুট সরবরাহ করা হচ্ছে।’ 

এই নীতি চূড়ান্ত হলে এটি মানসম্মতভাবে বাস্তবায়ন, স্থানীয় মানুষকে সম্পৃক্ত ও স্থানীয় অর্থনীতি বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এই প্রকল্প পরিচালক।

এই কর্মশালায় প্যানেল আলোচনারও আয়োজন করা হয়। এর সঞ্চালনা করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী। 

তিনি বলেন, ‘প্রথমে দেশে আংশিকভাবে বিনামূল্যে বই দেয়া শুরু হয়। এখন দেশের সব শিশুর হাতেই বিনামূল্যে বই তুলে দেয়া সম্ভব হচ্ছে। একইভাবে শিশুদের মধ্যে খাবারও তুলে দেয়া সম্ভব। সরকারি অর্থায়নেই এটা পর্যায়ক্রমে সম্ভব।’ 

এসময় খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, ‘এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রসংশনীয় উদ্যোগ। স্কুল মিল সাধারণ খাবার নয়। এটাকে বিচার করতে হবে পুষ্টিমানের বিবেচনায়। স্কুল মিল মানে শিক্ষার্থীদের জন্য পুষ্টিমান খাবার নিশ্চিত করা। যা তাকে শিক্ষায় মনোনিবেশ করতে সাহায্য করবে।’

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘আমি আজকে আপনাদেরকে বলব, আসেন পর্যায়ক্রমে প্রত্যেকটি স্কুলে এই কার্যক্রম পরিচালনা করি। তাহলে স্কুলে শিক্ষার্থীর ঝড়ে পড়া বন্ধ হবে, স্কুলে আসার প্রবণতা বাড়বে।’


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ