fbpx
 

রোহিঙ্গার পর আসাম, কোন সংকটের পথে বাংলাদেশ?

Pub: বুধবার, সেপ্টেম্বর ৪, ২০১৯ ১১:১৪ অপরাহ্ণ   |   Upd: বুধবার, সেপ্টেম্বর ৪, ২০১৯ ১১:১৪ অপরাহ্ণ
 
 
 

শীর্ষ খবর ডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

প্রতিবেশি মিয়ানারের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে দেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে সংকটের মধ্যে আছে বাংলাদেশ। এরই মধ্যে আরেকটি সমস্যা দেখা দিয়েছে, তা হলো আসামের নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি)। সেখানে ‘বাংলাদেশি’ বলে ধোয়া তুলে ১৯ লাখের অধিক বাঙলা ভাষাভাষীকে রাষ্ট্রহীন করেছে নরেন্দ্র মোদীর হিন্দ্যুত্ববাদী বিজেপি সরকার।

ইতোমধ্যে ক্ষমতাসীন বিজেপির অনেক নেতা তাদের বাংলাদেশে পুশব্যাক করা হবে বলে মন্তব্য করছেন। নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিদের ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশের সঙ্গে কথা বলা হবে বলে জানিয়েছেন আসামের অর্থমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। তবে কি বাংলাদেশ রোহিঙ্গা সংকটের মতো আরেকটি সংকটের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে?

যদিও ভার‌তের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গত ২০ আগস্ট ঢাকায় ব‌লে‌ছেন, এ‌টা ভার‌তের অভ্যন্তরীণ বিষয়। বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারাও বিষয়টিকে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও সরকারের পক্ষে থেকেও এ বিষয়ে উদ্বিগ্ন না হওয়ার ব্যাপারে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ সরকার ও দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে বক্তব্য দেয়া হয়েছে।

ওবায়দুল কাদের বলেছেন,  ‘আমরা আসাম নিয়ে বিচার করবো না। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। যাদেরকে স্টেট লেস ঘোষণা করা হয়েছে তারা আগামী ৩-৪ মাস আপিল করার সুযোগ পাবেন। আমরা সাধারণভাবে জানি ৭১ এর পর কোন মানুষ বাংলাদেশ থেকে ভারতে যায়নি কিংবা মাইগ্রেট হয়নি। কাজেই এখনই আমাদের নিজেদের ঘাড়ে বোঝা চাপানোর কোন কারণ নেই।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন বলেছেন, আসামের নাগরিকপঞ্জি থেকে বাদ পড়া কেউ বাংলাদেশি নন। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রামনিয়াম জয়শঙ্কর তাকে বলেছেন যে, এ বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে ভারতের অভ্যন্তরীণ একটি বিষয়। এ নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। কোনো পরিস্থিতিতেই বাংলাদেশে তার প্রভাব পড়বে না।’

আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ‘আমাদের দেশের যদি নাগরিক না হয়ে থাকে, তাহলে আমরা কেন আনতে যাবো তাদেরকে। প্রথম কথা হলো যে, ওই ১৪ লাখ লোক আমাদের দেশ থেকে গিয়েছে কিনা সেটা আগে তাদের প্রমাণ করতে হবে। প্রমাণ করতে হবে যে তারা ’৭১ এর পর আমাদের এ দেশ থেকে গিয়েছে। প্রমাণ করতে হবে, তারা বাংলাদেশি মানুষ। যে কাউকে ঠেলে দেবে আর আমরা নিয়ে নেবো, এ ধরনের সিচুয়েশন হয়নি, আমি মনে করি হবেও না।’

এবিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলা না হলেও বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) একটি সভায় বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেছেন, ‘আসামে যে এনআরসি তৈরি হয়েছে, আমরা জানি না এটার মধ্যে কি আছে না আছে। কিন্তু আমরা এটুকু বুঝি যে একটা বিপদ জানান দিচ্ছে। সুতরাং অবশ্যই বাংলাদেশের মানুষদের সজাগ হতে হবে। বাংলাদেশের মানুষকেই তার স্বাধীনতা রক্ষা করতে হবে, গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে হবে। এটা কেউ আমাদের করে দিয়ে যাবে না।’

তবে এবিষয়ে সবচেয়ে সোচ্চার ও উদ্বিগ দেখা গেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে। নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) থেকে বাদ পড়াদের ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করাকে উদ্বেগের সঙ্গে নিতে দেখা গেছে বাংলাদেশিদের। অনেকে এই বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে প্রতিবাদও করছেন।

বাংলাদেশের প্রায় চতুর্দিকেই রয়েছে ভারতীয় সীমানা। অন্তত চার হাজার কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। এর অর্ধেকের বেশি রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের সাথে। এছাড়া আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও মিজোরাম রাজ্যের সাথেও রয়েছে সীমান্ত। সীমান্তের কোনো কোনো স্থান নদী। ফলে এসব এলাকায় বেড়া দেয়া অসম্ভব। এমনকি যেখানে বেড়া রয়েছে, সেখান দিয়েও চলাচল করা সম্ভব। ২০১৬ সালে বিশ্বব্যাংকের একটি প্রকাশনায় বলা হয়েছিল, মেক্সিকো-যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেন-রাশিয়া সীমান্তের পর বাংলাদেশ-ভারত ‘অভিবাসন করিডোর’ হলো সবচেয়ে ব্যস্ত এলাকা।

যদিও সীমান্তে পুশ-ইন ঠেকাতে টহল জোরদার করেছে বিজিবি। সিলেট, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ, নীলফামারা, ফেনীসহ সীমান্তবর্তী জেলা গুলোতে সতর্ক অবস্থায় রয়েছে বাংলাদেশের বর্ডার গার্ডরা। সীমান্তহাট কেন্দ্রিক বিশেষ নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে বিজিবি। টহল ব্যবস্থা জোরদার করে যেকোন ধরনের ভারতীয় অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি সদস্যদের কঠোর নজরদারিতে রয়েছে সীমান্ত এলাকা। পুলিশও সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সীমান্তে বৃদ্ধি করা হয়েছে গোয়েন্দা তৎপরতা। 

বিজিবির সিলেট সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল এ এম খায়রুল গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আসামে এনআরসির চূড়ান্ত তালিকায় বাদ পড়েছেন ১৯ লাখেরও বেশি মানুষ। বাদ পড়া লোকজন যাতে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করতে না পারে সে জন্য বিজিবি সদস্যদের সীমান্তে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় লোকজনকেও সচেতনতামূলক বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Print

শীর্ষ খবর/আ আ